করোনা-ম্যালেরিয়াতে ভোগার পরও কোবরার ছোবল থেকেও বাঁচলেন এই ব্যক্তি

করোনা-ম্যালেরিয়াতে ভোগার পরও কোবরার ছোবল থেকেও বাঁচলেন এই ব্যক্তি
গত সপ্তাহেই যোধপুরের এক গ্রাম থেকে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে আসে ইয়ানকে। সাপে কাটার সমস্ত উপসর্গই ছিল তাঁর শরীরে।

গত সপ্তাহেই যোধপুরের এক গ্রাম থেকে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে আসে ইয়ানকে। সাপে কাটার সমস্ত উপসর্গই ছিল তাঁর শরীরে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিদেশ থেকে এদেশে এসেছিলেন। রাজস্থানের নানা প্রান্তে কাজ করেছেন। কিন্তু এর মাঝেই ইংল্যান্ডের এই বাসিন্দাকে একাধিক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বারবার যেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। কিছুদিন আগেই করোনা ভাইরাস থাবা বসায় তাঁর শরীরে। তারপর ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু হয়। ভাগ্যক্রমে সব কটি রোগ থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। এবার আসে আর এক নতুন বিপদ। কোবরা ছোবল মারে এই ব্যক্তিকে। কিন্ত নিয়তির বোধহয় অন্য পরিকল্পনা ছিল। অদম্য ইচ্ছার জোরে এই মারণ বিষের হাত থেকেও রক্ষা পেয়েছেন ব্যক্তি। আর এরপরই চর্চায় উঠে এসেছেন তিনি।

ইয়ান জোনস। রাজস্থানের বহু প্রাচীন ও ঐতিহ্যশালী হস্তশিল্পীদের নিয়েই তাঁর কাজ। স্যাবিরিয়ান নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। রাজস্থানের প্রত্যন্ত এলাকায় ধুঁকতে থাকা শিল্পগুলির পণ্য রপ্তানি করতে, শিল্পীদের আয় বাড়াতে তাঁর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। এই কাজের সূত্রেই দিন কয়েক আগে রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে যোধপুরে গিয়েছিলেন। আর সেখানে এক গ্রামে ইয়ানকে ছোবল মারে কোবরা। স্থানীয়দের উদ্যোগে তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল, তাঁর বাঁচা অসম্ভব। কারণ ইতিমধ্যেই করোনা, ম্যালেরিয়ার মতো ভয়ংকর রোগে ভুগেছেন। শরীর দুর্বল রয়েছে। তবে সেই অসম্ভবকে সম্ভন করেছেন তিনি। আপাতত, সুস্থ রয়েছেন ইয়ান।

ইয়ানের চিকিৎসা করছেন যোধপুর শহরের মেডিপালস হাসপাতালের চিকিৎসক অভিষেক তাতার। তিনি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহেই যোধপুরের এক গ্রাম থেকে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে আসে ইয়ানকে। সাপে কাটার সমস্ত উপসর্গই ছিল তাঁর শরীরে। জ্ঞান ছিল। তবে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছিল, হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল। একবার মনে হয়েছিল, ইয়ান বোধহয় দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। পরে যদিও রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে কোবরার বিষের সঙ্গে লড়াই করে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন জোনস। আশা করা হচ্ছে, দিন কয়েকের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি।


ছেলে সেব জোনসের কথায়, বাবা ফাইটার। ভারতের পৌঁছানোর পর থেকেই একের পর এক রোগের শিকার হয়েছেন। প্রথমে করোনা, তারপর ম্যালেরিয়া ও পরে ডেঙ্গুতে ভুগেছেন। এবার কোবরার হাত থেকেও রেহাই পেলেন। সেব জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে বাবা বাড়ি ফিরতে পারেননি। তবে রাজস্থানের মানুষজনের স্বার্থে তিনি কাজ করে চলেছেন। পরিবারের তরফেও বাবার সেই ইচ্ছেটাকে সমর্থন করা হয়েছে।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: