বাঁধাধরা নিয়মকে বুড়ো আঙুল, বাবার দেহ সৎকার করে দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন ৩ মেয়ে

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Jul 19, 2019 03:30 PM IST
বাঁধাধরা নিয়মকে বুড়ো আঙুল, বাবার দেহ সৎকার করে দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন ৩ মেয়ে
Photo : News18
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Jul 19, 2019 03:30 PM IST

#মালকানগিরি: তখন সবে মেয়ের জন্ম হয়েছে ৷ হাসপাতালের বিছানায় সবে স্ত্রীয়ের পাশে মেয়েকে দিয়ে গিয়েছে নার্স ৷ বাইরে পায়চারি কর যাচ্ছেন সদ্য মেয়ের বাবা হওয়া মানুষটা ৷ ঘরে লক্ষ্মী এসেছে ৷ বেশ খুশি ৷ হঠাৎই এক আত্মীয় হঠাৎই এক অদ্ভুত কথা বলে বসল,‘এ বার বংশরক্ষা করবে কে?’৷ প্রথমটায় খুব একটা পাত্তা দেননি ৷ তবে যত সময় এগিয়েছে ৷ ততই বেড়েছে একই ধরনের কথার পাহাড় ৷ স্ত্রী আবার গর্ভবতী ৷ আবার সংসারে এল কন্যাসন্তান ৷ এ বার তো পাড়ার লোকেরা বলাবলি শুরু করে দিল,‘লোকটা শেষ বয়সে কী হবে? অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াই বা কে করবে?’-এমন ধরনের ঘটনার উদাহরণ তো আমাদের দেশে ভুরি ভুরি রয়েছে ৷

এখনও মেয়েরা ব্রাত্য ৷ যতই বলা হোক-মেয়েরা কোনও অংশে ছেলেদের থেকে কম নন ৷ তবুও সমাজ তাঁদের সকল ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব কিংবা মর্যাদা দিয়ে উঠতে পেরেছে তা কিন্তু কোটি কোটি টাকার প্রশ্ন ৷ এখনও বাবা-মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ব্রাত্য মেয়েরা ৷ এখনও তাঁদের বদলে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেন তুতো ভাইয়েরা ৷ এই নিয়ম যুগ যুগ ধরে চলে আসছে ৷ কিন্তু এমন নিয়ম কেন? এই প্রশ্নটাই উঠে আসছে বারবার ৷ এমন অদ্ভুত নিয়ম নিয়ে সোচ্চারই বা হন ক’জন! এমন দৃষ্টিভঙ্গির তো বদল ঘটানো উচিত ৷ গ্রামাঞ্চলে এমন ঘটনার বদল ঘটবে, তা ভাবাটাই যেন বাতুলতা ৷ তবে এই রীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন মালকানগিরির তিন তরুণী ৷ আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় শেষযাত্রায় তিন তরুণীর কাঁধে সওয়ার মৃত বাবা ৷ এখানেই শেষ নয় ৷ পারলৌকিক ক্রিয়ার সকল নিয়ম মেনে তাঁরাই তাঁদের বাবার দেহের সৎকার করেন ৷

অসুস্থ অবস্থায় কয়েকদিন আগে সুশান্ত পট্টনায়েক নামে এক ব্যক্তিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ৷ তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশই অবনতি ঘটছিল ৷ এরপর তাঁকে কোরাপুট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় ৷ কিন্তু তাঁকে শেষ অবধি বাঁচানো যায়নি ৷ তাঁর তিন মেয়ে সাস্মিতা, স্মিতা এবং সঙ্গীতা ৷ এঁরাই তাঁদের বাবা দেহ দাহ করার ব্যবস্থা করেন ৷ এই ঘটনা সামনে আসতেই তাঁদেরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই ৷

First published: 03:26:13 PM Jul 19, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर