Bratya Basu: 'মহিলা পুলিশের নাম কি ইন্দিরা? চা হবে না?' ত্রিপুরার থানায় মজাদার এক ব্রাত্য বসু

ব্রাত্যর কেরামতি

Bratya Basu: কখনও চাঁচাছোলা আক্রমণ, কখনও আবার নিছক মজার ছলেই কটাক্ষের বিষবাণ, ত্রিপুরার 'পিচে' ব্যাট শক্ত করেই গ্রিপ করেছেন ব্রাত্য বসু। তাঁর শিক্ষিত, রুচিশীল বক্তব্য ত্রিপুরা তৃণমূলে বন্দিত হচ্ছে।

  • Share this:

#আগরতলা: তিনি নাট্যকার। তিনি রাজনীতিক। তিনি বাংলার শিক্ষামন্ত্রীও। ব্রাত্য বসু। বর্তমান বঙ্গ রাজনীতিতে সুবক্তাদের অন্যতমও তিনি। স্বাভাবিক কারণেই কথার মারপ্যাঁচে তিনি ঘায়েল করতে পারেন প্রতিপক্ষকেও। মাঝে কিছুটা দূরত্ব এসেছিল বটে, কিন্তু ব্রাত্য বসু এখন ফের তৃণমূলের 'সেন্টার টেবিল মেম্বার'। তৃণমূলের পরবর্তী পাখির চোখ ত্রস্ত ত্রিপুরাতেও তাই ডাক পড়েছে ব্রাত্যর। বারবার ছুটে যেতে হচ্ছে বাঙালি অধ্যুষিত রাজ্যে। বিজেপিকে তুলোধনা করার মধ্যেই নিজের বাকপটুতায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক আবেশ। তাঁর বক্তব্য শুনছেন বাকিরা। কখনও চাঁচাছোলা আক্রমণ, কখনও আবার নিছক মজার ছলেই কটাক্ষের বিষবাণ, ত্রিপুরার 'পিচে' ব্যাট শক্ত করেই গ্রিপ করেছেন ব্রাত্য। তাঁর শিক্ষিত, রুচিশীল বক্তব্য ত্রিপুরা তৃণমূলে বন্দিত হচ্ছে। ব্রাত্যর কথায় মোহিত হওয়া থেকে বাদ গেল না ত্রিপুরার পুলিশও।

শনিবার ত্রিপুরায় তৃণমূল যুব নেতা সুদীপ রাহা, জয়া দত্ত, দেবাংশু রায়দের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু আক্রমণকারীদের পরিবর্তে ত্রিপুরার খোয়াই থানায় দেবাংশুদের গ্রেফতার করে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। তড়িঘড়ি কুণাল ঘোষ, দোলা সেনদের সঙ্গে ব্রাত্যরও ডাক পড়ে ত্রিপুরা যাওয়ার জন্য়। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত হয় রবিবার ত্রিপুরা যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে, ব্রাত্যরা ত্রিপুরা পৌঁছেই চলে যান খোয়াই থানায়। কলকাতা থেকে তখন আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন অভিষেক।

কিছুক্ষণ পরেই যে থানায় ভিতরে রীতিমতো দক্ষযজ্ঞ বাধবে, সেই খোয়াই থানায় একটা পর্যায়ে ব্রাত্যর কথায় উঠেছিল হাসির রোল। ব্রাত্যরা যখন খোয়াই থানায় পৌঁছন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব সেনগুপ্ত, এসডিপিও রাজীব সূত্রধরও ওসি মনোরঞ্জন দেববর্মা। থানায় তখন উপস্থিত মহিলা পুলিশ কর্মীরাও। ব্রাত্য বসু তখনই বলে ওঠেন, 'পুরুষ পুলিশ অফিসারদের যখন কংগ্রেসি ঘরানার নাম, তখন মহিলা পুলিশেরও নাম হতে হবে ইন্দিরা!' খানিক হকচকিয়ে গেলেও পুলিশ অফিসার-কর্মীদের ব্রাত্যর 'পান' ধরতে অসুবিধা হয়নি। এমনকী বাঙালি বৈঠকী আমেজ উসকে পুলিশ অফিসারদের ব্রাত্য বলে ওঠেন, 'বাঙালিরা আলোচনায় বসেছে, একটু চা হবে না!' হাসির আমেজেই টেবিলে চলে আসে চা।

শোনা যায়, এখানেই শেষ হয়নি ব্রাত্যর কীর্তিকলাপ। থানার অন্দরে মোবাইলের নেটওয়ার্ক না পেয়ে এক উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারের থেকে ফোন চেয়ে নেন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী। তা দিয়েই কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। এমনকী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন শুনে থানার চেয়ারে তোয়ালে রাখার কথা তোলেন থানারই এক আধিকারিক। আসে তোয়ালে। দেখা যায়, তোয়ালেটি খানিক নোংরা। মজাচ্ছ্বলেই তখন ব্রাত্য বলে ওঠেন, 'আমাদের নেতা পরিস্কার তোয়ালে ছাড়া বসবেন না। পরিষ্কার না হলে তোয়ালে ছাড়াই বসবেন।' থানায় উপস্থিত সকলের মুখেই হাসি ফুটে ওঠে। ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল বলছে, বাংলার দল হলেও ত্রিপুরার বাঙালিদের কাছে পৌঁছতে অসুবিধা হচ্ছে না তৃণমূলের। ব্রাত্য বসুর মতো নেতাদের 'শিক্ষিত বাঙালি ইমেজ' তাতে সাহায্যই করছে বরং।

Published by:Suman Biswas
First published: