স্ত্রীর থেকে টাকা চাওয়া কোনও উৎপীড়ন নয়, আত্মহত্যায় প্ররোচনায় অভিযুক্তের সাজা কমালো বম্বে হাইকোর্ট

স্ত্রীর থেকে টাকা চাওয়া কোনও উৎপীড়ন নয়, আত্মহত্যায় প্ররোচনায় অভিযুক্তের সাজা কমালো বম্বে হাইকোর্ট
বম্বে হাইকোর্টের রায়

বিচারপতি পুষ্প গাণেদিওয়ালা তাঁর একের পর এক রায়ের জন্য খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।

  • Share this:

    #মুম্বই: আত্মহত্যায় প্ররোচনা (Suicide Abetment Case) সম্পর্কিত একটি মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে বম্ব হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ বলেছে (আইপিসির ৪৯৮ এ ধারা) যে স্ত্রীর কাছে অর্থ চাওয়া আইন অনুযায়ী হয়রানির মামলা হতে পারে না। মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত এক ব্যক্তিকেও মুক্তি দেওয়া হয় যার বিরুদ্ধে নয় বছর আগে তার স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    বিচারপতি পুষ্প গাণেদিওয়ালা বলেন যে, এই মামলায় প্রমাণিত যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক খারাপ ছিল। নিত্যদিন ঝগড়া হত। এমনকি স্ত্রীকে টাকার জন্য মারধর করত স্বামী। অর্থের চাহিদা শব্দটির অর্থ খুবই অস্পষ্ট। ধারা 498-এ এর অধীনে এটিকে হয়রানির অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না। বিচারক আরও বলেন, ঝগড়ার পরেও অভিযুক্ত স্ত্রীকে বারবার তার বাপের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এর বাইরেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও শেষ সময়ে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর দেহ দিতে অস্বীকার করেছিল স্বামী।

    কী হয়েছিল ঘটনা?১৯৯৫ সালে বিয়ে করেন প্রশান্ত জারে। ২০০৪ সালের ১২ নভেম্বর, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন। এর পরে, মেয়ের বাবা পুলিশে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যেখানে যিনি উল্লেখ করেন যে, তার মেয়েকে শাশুড়ি এবং স্বামী হয়রানি করেছে, এমনকী আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে। ২০০৮ সালের এপ্রিলে জেলা আদালত প্রশান্তকে আত্মহত্যার অভিযোগে একটি মামলায় সাজা দেয়। বিচারক গেন্ডিওয়ালা বলেছিলেন যে মৃত্যুর সময় তাঁর ছোট মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিল। প্রশান্ত তাকে হত্যা করে এবং পরে তাকে বিষ দেয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশ কেন একটি আত্মহত্যার মামলা দায়ের করেছে?


    বিচারপতি পুষ্প গাণেদিওয়ালা তাঁর একের পর এক রায়ের জন্য খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। তাঁর নাম প্রথম আলোচনায় উঠে আসে যখন তিনি ১২ বছর বয়সীর ওপর যৌন নির্যাতন করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে অদ্ভূত যুক্তি পেশ করেন এবং অভিযুক্তের শাস্তি কমিয়ে দেন। বিচারকের যুক্তি ছিল, নির্যাতিতা এবং দোষী সাব্যস্তকারীর মধ্যে স্পর্ষ হয়নি যা একে অপরের সঙ্গে শারীরিক ভাবে যোগা নেই। বিচারক গাণেদিওয়ালওর এমনই দুটি বিচার নিয়ে খুবই শোরগোল পড়ে যায় এবং যাতে নির্যাতিতারা আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।

    Published by:Pooja Basu
    First published: