• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • রমজানের উপোস ভেঙে ২ দিনের শিশুকন্যাকে বাঁচালেন বিহারের মহম্মদ আসফক

রমজানের উপোস ভেঙে ২ দিনের শিশুকন্যাকে বাঁচালেন বিহারের মহম্মদ আসফক

Image: News 18

Image: News 18

দু’দিন আগেই পৃথিবীর আলো দেখেছিল সে ৷ কিন্তু রক্তের অভাবে ক্রমশ নেতিয়ে পড়ছিল শিশুকন্যাটির শরীর ৷ প্রয়োজন ছিল ‘O’ নেগেটিভ রক্তের ৷

  • Share this:

    #দ্বারভাঙা: দু’দিন আগেই পৃথিবীর আলো দেখেছিল সে ৷ কিন্তু রক্তের অভাবে ক্রমশ নেতিয়ে পড়ছিল শিশুকন্যাটির শরীর ৷ প্রয়োজন ছিল ‘O’ নেগেটিভ রক্তের ৷ একাধিক জায়গায় চেষ্টা করেও ‘O’ নেগেটিভ রক্ত জোগাড় করতে পারেননি তার পরিবার ৷ অবশেষে, সোশ্যাল মিডিয়াতেই হল সমস্যার সমাধান ৷ দু’দিনের শিশুকন্যাকে বাঁচাতে রোজা ভেঙে রক্তদানে এগিয়ে এলেন মহম্মদ আসফক ৷

    মহম্মদ আসফক বিহারের দ্বারভাঙার বাসিন্দা ৷ দ্বারভাঙার একটি হাসপাতালেই শিশুকন্যার জন্ম দেন এসএসবি জওয়ান রমেশ সিংয়ের স্ত্রী একটি শিশুকন্যার জন্ম দেন ৷ কিন্তু জন্মের দু’দিন পরই শিশুটির শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে আসতে আসতে ৷ রক্তের প্রয়োজন হয়ে পড়ে শিশুটির ৷ কিন্তু রক্তের গ্রুপ ‘O’ নেগেটিভ হওয়ায় সমস্যায় পড়ে শিশুটির পরিবার ৷ অবশেষে, সোশ্যাল মিডিয়ায় রক্তের জন্য আর্জি জানায় এসএসবি জওয়ান রমেশ সিং এবং তাঁর স্ত্রী ৷ সেই ফেসবুক পোস্ট নজরে পড়তেই এগিয়ে আসেন মহম্মদ আসফক ৷ রমজানের কথা না ভেবেই দ্রুত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মহম্মদ ৷ এরপরই হাসপাতালে যান তিনি ৷

    কিন্তু মহম্মদের রোজার উপবাসের কথা জেনে রক্ত নিতে অস্বীকার করেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ৷ মহম্মদের হাজারো কাকুতি মিনতিতেও চিকিৎসকেরা সাড়া দেননি ৷ অবশেষে, শিশুটির আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথা ভেবেই শিশুটিকে বাঁচাতে উপোস ভুলে খাওয়াদাওয়া করেই রক্ত দেন আসফক ৷

    সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহম্মদ জানিয়েছেন,

    রমজান তো প্রতি বছরই আসে ৷ পরের বছরই আমি আবারও উপবাস করতে পারব ৷ তাই আমার মনে হয়েছিল সেই মুহূর্তে শিশুটির প্রাণ বাঁচানো অনেক বেশি জরুরি ৷

    শুধু মহম্মদই নন ৷ ওই সদ্যোজাত শিশুকন্যাটিকে বাঁচাতে সেদিন এগিয়ে এসেছিলেন এসএসবি জওয়ান রাকেশ গোস্বামীও ৷ হাসপাতালে পৌঁছেই তিনি জানতে পারেন যে মহম্মদ রোজার উপবাস ভেঙে শিশুটির প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন ৷ এই ঘটনায় মহম্মদের ভূয়সী প্রশংসা করে রাকেশ বলেন,

    মহম্মদের জন্য আমি গর্বিত ৷ যারা সমাজে ধর্মের ভেদাভেদের এই সীমারেখে পেরিয়ে এগিয়ে আসে তাদের আমি কুর্নিশ জানাই ৷

    শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী, সদ্যোজাত শিশুকন্যাটি এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে গিয়েছে ৷

    First published: