দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

১৫ বছর পর ফের বিহারে পরিবর্তন? তেজস্বীকে সুযোগ দিতে চায় যুবসমাজ

১৫ বছর পর ফের বিহারে পরিবর্তন? তেজস্বীকে সুযোগ দিতে চায় যুবসমাজ
তেজস্বীর জনসভায় যুবসমাজের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো৷ Photo-PTI

লালু- রাবরি মিলে ১৫ বছর শাসন করার পর ২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসেন নীতীশ কুমার৷ এ বছরই তাঁর শাসনকালের ১৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে৷

  • Share this:

#পটনা: ১৫ বছর অন্তর বিহারে ক্ষমতার বদল হবেই৷ জয়প্রকাশ নারায়ণের আমলের সেই প্রবণতাই কি ফের ফিরছে বিহারে? অতীত পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলছে৷ জাতপাতের রাজনীতির সঙ্গে অভ্যস্ত বিহারের যুবসমাজের গলাতেও পরিবর্তনের সুর৷ স্পষ্টতই লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে বিহারের যুবসমাজ৷ সবমিলিয়ে ভোটের ফলপ্রকাশের আগের দিন নীতীশের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনার উপরে যেন কালো মেঘ জড় হচ্ছে৷

অথচ একমাস আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না৷ নীতীশের আমলে বিহারে উন্নয়নের জোয়ার এসেছে, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এমন সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছিলেন৷ বিহারে নীতীশের নেতৃত্বে এনডিএ সরকার ফিরছে বলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও ঘোষণা সেরে রেখেছিলেন মোদি৷ কিন্তু এই একমাসে প্রায় একা হাতে হাওয়া ঘুরিয়ে দিয়েছেন তেজস্বী৷ বেকারত্ব এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি নীতীশ সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন, অমানবিক আচরণ৷ এই দুই মোক্ষম ইস্যুতেই নীতীশ কুমারের কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছেন লালুপ্রসাদ পুত্র৷ জেল বন্দি বাবার পরামর্শ তো রয়েইছে, কিন্তু বিহারের ভোট প্রচারে গত একমাসে তেজস্বী যে পরিণতি বোধ দেখিয়েছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই৷ ভোটের ফল শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, তেজস্বীর তেজ কতটা তা ভালই টের পেয়েছেন নীতীশ কুমার- নরেন্দ্র মোদি৷

লালু- রাবরি মিলে ১৫ বছর শাসন করার পর ২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসেন নীতীশ কুমার৷ এ বছরই তাঁর শাসনকালের ১৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে৷ বিহারের যুবসমাজ অন্তত বলছে, রাজ্যে ফের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী৷

জাত-পাতের ঊর্ধ্বে উঠে বিহারের যুবসমাজের সমর্থন জোগাড় করতে মোক্ষম চাল দিয়েছেন তেজস্বীও৷ রাজ্যে বেকারত্বের সমস্যাকে তুলে ধরে প্রতিটি জনসভায় নীতীশ সরকারকে আক্রমণ করে গিয়েছেন তিনি৷ ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে৷ তেজস্বীর জনসভাগুলিতে যুবসমাজের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো৷ ভোট প্রচারে দশ লক্ষ সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তেজস্বী৷ মুখ্যমন্ত্রী হয়েই এই নির্দেশিকায় তিনি সই করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ তেজস্বীর প্রতিশ্রুতি যে ফাঁকা আওয়াজ নয়, তা প্রমাণ করতে আরজেডি দাবি করেছে, রাজ্যে সরকারি চাকরিতে সাড়ে ৪ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে৷ তাছাড়াও রাজ্যে আরও সাড়ে ৫ লক্ষ সরকারি চাকরির পদ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছে আরজেডি৷

গত বছরও বিহারে বেকারত্বের হার ছিল ১০.৩ শতাংশ৷ দেশে যে রাজ্যগুলিতে বেকারত্বের হার সবথেকে বেশি, তার মধ্যে অন্যতম বিহার৷ কর্মসংস্থানের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘোরা বিহারের যুবসমাজও তেজস্বীকে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছে৷

২০১৪ এবং ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থনেই একজোট হয়ে এনডিএ-এ সমর্থন করেছিল বিহারের যুবসমাজ৷ কিন্তু চাকরি না পাওয়ার হতাশায় সেই সমর্থনই এবার তেজস্বী যাদবের দিকে ঘুরে গিয়েছে৷ প্রকাশ্যেই তাঁরা বলছেন, এতদিন যখন নীতীশকে সুযোগ দেওয়া হল, এবার তাহলে তেজস্বী নয় কেন?

Published by: Debamoy Ghosh
First published: November 9, 2020, 11:56 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर