Bhima Koregaon Probe: মাও ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে ভারভারা রাও-সহ গ্রেফতার ৫ বুদ্ধিজীবী, গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা

Bhima Koregaon Probe: মাও ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে ভারভারা রাও-সহ গ্রেফতার ৫ বুদ্ধিজীবী, গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা
  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ভিমা কোরেগাও মামলায় ভারভারা রাও-সহ গ্রেফতার ৫ বুদ্ধিজীবী ৷ তাদের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হল মামলা ৷ ভারভারা রাও সহ বাকিদের গ্রেফতারির কারণ জানতে চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রোমিলা থাপার, প্রভাত পট্টনায়েক, সতীশ দেশপাণ্ডে-সহ একাধিক বুদ্ধিজীবী ৷ দুপুরে রয়েছে এই মামলার শুনানি ৷ এর মধ্যেই ধৃত ৩ জনকে পুণেতে নিয়ে যায় পুলিশ ৷ পুণে আদালতে তোলা হবে ৩ বুদ্ধিজীবীকে ৷ ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছে পুলিশ ৷ পুণে পুলিশের মতে, ‘বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের টার্গেট করা হত ৷ নিজেদের ভাবনা-আদর্শ প্রচার করতেন ধৃতরা ৷ মাওবাদী মন্ত্রে দীক্ষিত করতেন তাদের ৷’

রাতারাতি জেগে উঠল মাওবাদী ভূত। দেশজুড়ে বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীদের বাড়িতে চলল তল্লাশি। গ্রেফতার ভারভারা রাও সহ বেশ জন আন্দোলনকর্মী। বড় শহরে মাওবাদী নেটওয়ার্ক ছড়াতে সক্রিয় ছিলেন এঁরা বলে অভিযোগ পুণে পুলিশের। তাদের বিরুদ্ধে ভিমা কোরেগাঁও দাঙ্গা এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রেও যুক্ত থাকারও অভিযোগ তুলছে পুলিশ। রাজীব গান্ধির কায়দায় অপারেশন। মানববোমা ব্যবহার করে নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ছক। পুলিশের হাতে এসেছিল এমনই এক চিঠি। ভিমা কোরেগাও দাঙ্গার তদন্তে নেমে চিঠির খোঁজ পায় পুণে পুলিশ। সেই চিঠির সূত্রেই তিন মাস পর দেশজোড়া অভিযান। গ্রেফতার ভারভারা রাও সহ ৭ সমাজকর্মী।

আরও পড়ুন 

ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় পোস্ট অফিসের এই স্কিমে টাকা জমায় দ্বিগুণ লাভ

ভোর থেকে তল্লাশি। পুণে থেকে দিল্লি, নাগপুর থেকে মুম্বই। পুনে পুলিশের অভিযান। নজরে সমাজকর্মী ও দলিত অধিকার আন্দোলনে যুক্তরা। সুধীর ধাওয়ালে, রোনা উইলসন, সুরেন্দ্র গ্যাডলিং, মহেশ রাউত, সোমা সেনদের বাড়িতে তল্লাশির পর তাদের তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাদেরও গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের সকলের বিরুদ্ধেই ইউএপিএ ছাড়াও রাষ্ট্রদ্রোহিতা, ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা। ভিমা কোরেগাঁও দাঙ্গা, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত, মাওবাদী নেটওয়ার্কে জড়িত থাকার পর অভিযোগ।

গত জুনে উদ্ধার হয়েছিল একটি ইমেল। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল সেই ইমেলে। ভীমা কোরেগাঁও দাঙ্গায় তদন্তে নেমেই তার খোঁজ পায় পুলিশ। সেই চিঠির কথা বলেই ভারভারা রাওকে হায়দরাবাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

আরও পড়ুন 

কবে হবে রেলের Group-D কর্মী নিয়োগ পরীক্ষা? জানানো হল তারিখ

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র। সূত্র একটি ই-মেল। কীভাবে যেন ভিমা কোরেগাঁও দাঙ্গার সঙ্গে একসূত্রে চলে আসে এই ই-মেল। দাঙ্গার তদন্তে নেমে ই- মেলের খোঁজ মেলে। কিন্তু সেই ই-মেল ঘিরেও রয়েছে বহু প্রশ্ন।

-এভাবে ই-মেলে চিঠি লেখে না মাওবাদীরা

-এত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ল্যাপটপের ফোল্ডারে রাখা সম্ভব?

-কমরেড প্রকাশের নাম করে চিঠি

- এখনও তাঁকে শনাক্ত করা যায়নি

এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। অথচ গ্রেফতার ভারভারা রাও সহ একগুচ্ছ সমাজকর্মী। গ্রেফতার হয়েছেন-

ভারভারা রাও- বিখ্যাত কবি ও সমাজকর্মী। মানুষের সমস্যা নিয়ে গান লেখেন ৷

সুধীর ধাওয়ালে-দলিত নেতা ও মারাঠি পত্রিকার সম্পাদক। দলিতদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে তৈরি করেছেন সর্বভারতীয় সংগঠন ৷

সুরেন্দ্র গ্যাডলিং- আইনজীবী। দলিত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ৷

সোমা সেন- নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা। মাওবাদী ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছে ৷

-

মহেশ রাউত- প্রধানমন্ত্রী গ্রামোন্নয়ন সেলের প্রাক্তন ফেলো। শহরে মাওবাদীদের সংগঠনের দায়িত্বে আছেন বলে দাবি পুলিশের ৷

পুলিশি হেফাজতে আরও একগুচ্ছ সমাজকর্মী। অরুণ পেরেইরা, গৌতম নওলাখা, সুধা ভরদ্বাজ, ভারনান গনজালভেসরা। এর মধ্যে গৌতম নওলাখার ট্রানসিট রিম্যান্ডের আবেদন খারিজ করে দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। বাকিদের পুণে নিয়ে গিয়ে জেরা করছে পুলিশ। কিন্তু দলিত বিরোধী দাঙ্গা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ছক - তারপর এদিনের গ্রেফতারি? এসবের মধ্যে সম্পর্ক কোথায়?

- প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে গ্রেফতার পাঁচ

- এদের ফোন ও ল্যাপটপে বাকিদের নাম ও যোগাযোগ

- দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন ( চলছিল)

- এব্যাপারে নতুন সংগঠনও তৈরি হয়

- এই সংগঠনের বৈঠকেও ধৃতদের যাতায়াত ছিল

- এখানেও মাওবাদী নেটওয়ার্ক ছড়ানোর কাজ হত

এভাবেই যোগসূত্র প্রমাণ করে মামলা সাজাচ্ছে পুলিশ।

সমাজকর্মীদের গ্রেফতারির ঘটনায় সরব রাজনৈতিক থেকে বুদ্ধিজীবি মহল। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন অরুন্ধতী রায় থেকে সীতারাম ইয়েচুরিরা। উদ্বেগ প্রকাশ অ্যামিনেস্টি ইন্ডিয়ার। এলগার পরিষদ ও পিপলস ইউনিয়ন অফ সিভিল লিবার্টিজ - দুই সংগঠনের সঙ্গেই যোগ ছিল ধৃতদের। তবে দুটি সংগঠনের কোনওটিই নিষিদ্ধ নয়। তাই এই সংগঠন করার অপরাধে কেন ইউএপিএ ধারায় মামলা হবে, স্পষ্ট হচ্ছে না কারোর কাছেই। আর এখানেই উঠছে অভিযোগ, তা হলে কী বিরোধী কন্ঠস্বর চাপা দিতেই মরিয়া হয়ে উঠেছে মোদি সরকার? এই প্রবণতার শেষ কোথায়?

First published: 12:06:49 PM Aug 29, 2018
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर