মুম্বইয়ে ব্যাঙ্ককর্মীকে খুন করে দেহ ১২ টুকরো করল বন্ধু! স্যুটকেসে ভরে ফেলল নদীতে

মুম্বইয়ে ব্যাঙ্ককর্মীকে খুন করে দেহ ১২ টুকরো করল বন্ধু! স্যুটকেসে ভরে ফেলল নদীতে

প্রতীকী চিত্র।

দু’টি বড় বড় স্যুটকেসের মধ্যে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে ভরা ছিল। মোট ১১টি টুকরো উদ্ধার হয়েছে । তবে ডান হাতের টুকরোটি এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি ।

  • Share this:

    #মুম্বই: মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল আরব সাগরের তীরে বাণিজ্য নগরীতে । কথা কাটাকাটির জেরে বন্ধুকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দিল আর এক বন্ধু । এই ঘটনায় যুক্ত থাকার জেরে ওই বন্ধু ও তার স্ত্রী’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । পাঁচ দিন আগে ওয়ালিতে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ৩১ বছরের ওই ব্যাঙ্ককর্মী । তারপর থেকে আর তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি ।

    শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সুশীল কুমার সারনিক নামের ওই যুবকের দেহ উদ্ধার হয় রাইগাদ জেলার নেরাল স্টেশনের কাছে নুল্লাহ এলাকার একটি নদী থেকে । দু’টি বড় বড় স্যুটকেসের মধ্যে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে ভরা ছিল। মোট ১১টি টুকরো উদ্ধার হয়েছে । তবে ডান হাতের টুকরোটি এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযুক্ত চার্লস নাডার (৪১) এবং তার স্ত্রী সলোমি (৩১)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

    পুলিশ সূত্রে খবর, সুশীল কুমার একটি নামী বেসরকারি ব্যাঙ্কের গ্রান্ট রোড ব্রাঞ্চে কাজ করতেন । ওয়ারলির গান্ধী নগর এলাকার তক্ষশিলা অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন তিনি । গত ১২ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বেরনোর সময় মা’কে বলেছিলেন কলিগদের সঙ্গে পিকনিক করতে যাচ্ছেন । রবিবার অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর রাতেই বাড়ি ফিরে আসবেন । কিন্তু উক্ত দিনে সুশীল না ফেরায় তাঁর মা অফিসে খোঁজ নেন । কেউই সুশীলের সম্বন্ধে কিছু বলতে পারে না । এরপর ১৪ন ডিসেম্বর পুলিশে মিসিং ডায়রি করেন সুশীলের মা ।

    পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও সুশীলের কোনও খোঁজ পাওয়া যায় না । শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে নেরাল পুলিশ স্টেশনে একটি ফোন আসে । সেখান থেকে জানা যায়, সুশীলকে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে । পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্যুটকেস উদ্ধার করে । স্যুটকেসের গায়ে লাগানো একটি স্টিকার থেকে ওই ব্যাগ বিক্রেতার সন্ধান পায় পুলিশ । সেই দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চার্লস ও সলোমি’র সন্ধান পায় পুলিশ । সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় তাদের ।

    জেরায় সুশীলকে খুনের কথা স্বীকার করেছে দুই অভিযুক্ত । তারাই জানায় সলোমি ও সুশীল আগে থেকেই একে অপরকে চিনত । তাঁরা মুম্বইয়ের একটি কল সেন্টারে আগে একইসঙ্গে কাজ করত । ১২ ডিসেম্বর সুশীল আসেন চার্লসদের বাড়িতে । চার্লসের দাবি, সলোমি’র চরিত্র নিয়ে অনৈতিক মন্তব্য করছিলেন সুশীল । এতেই রেগে গিয়ে সুশীলের গলায় ধারাল ছুরি চালিয়ে দেয় চার্লস । তারপর খুনের প্রমাণ লোপাট করার জন্য বন্ধুর দেহ টুকরো টুকরো করে তারা । এলাকারই একটি দোকান থেকে স্যুটকেস কিনে আনে তারা । তারপর সুশীলের দেহ তাতে ভরে ফেলে দেয় নদীর জলে ।

    Published by:Simli Raha
    First published: