মুখ ফেরাল ভাগ্য! নতুন রেস্তোরাঁ ছেড়ে পুরনো ঝুপড়িতেই ফিরলেন Baba Ka Dhaba-র সেই বৃদ্ধ

নতুন রেস্তোরাঁ খুলতে কান্তা প্রায় ৫ লাখ টাকা ঢেলেছিলেন । ৩ জন কর্মচারী রেখেছিলেন । কান্তা বলছেন, এই বিশাল অঙ্কের টাকা এখন জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি ।

নতুন রেস্তোরাঁ খুলতে কান্তা প্রায় ৫ লাখ টাকা ঢেলেছিলেন । ৩ জন কর্মচারী রেখেছিলেন । কান্তা বলছেন, এই বিশাল অঙ্কের টাকা এখন জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি ।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: ভাগ্য দেবতা কখন যে কার উপর তাঁর কৃপা দৃষ্টি রাখবেন তা আগে থেকে বলা বেশ শক্ত । তা না হলে কী আর মাত্র ২ মাসেই রাস্তার ভিখিড়ি থেকে হাজার হাজার টাকার মালিক হয়েছিলেন তিনি! তবে সেই সুখ চিরস্তায়ী হল না । ফের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবারও ফিরলেন সেই পুরনো আস্তানায় । ঝাঁ চকচকে রেস্তোরাঁর মালিক কান্তা প্রসাদ আবারও ফিরে গেলেন নিজের সেই ভাঙাচোরা টিনের এক চিলতে দোকানে । এক বছর আগে যে লকডাউনের দৌলতে তিনি রাতারাতি খবরের শিরোনামে এসেছিলেন, বড়সড় একটি রেস্তোরাঁরার মালিক হয়েছিলেন, এ বারেও সেই লকডাউনই তাঁকে ফের নিজের পুরনো জীবনে ফিরিয়ে আনল ।

    মনে আছে সেই কান্তা প্রসাদের কথা? গত অক্টোবর মাসের আগে পর্যন্ত অবশ্য তাঁকে কেউ চিনত না । তারপর একদিন হঠাৎই ঘটে এক মিরাক্যাল । গোটা দেশে জনপ্রিয় হয়ে যান কান্তা । সৌজন্যে একটাই শব্দ- ‘ভাইরাল’ । আর তার জেরেই ঝরঝরে গুমটি দোকান ‘বাবা কা ধাবা’র মালিক কান্তা প্রসাদ দিল্লির মালব্য নগরের ধোপদুরস্ত এক রেস্তোরাঁ খুলে ফেললেন । ৮০ বছরের কান্তা এবং তাঁর স্ত্রী’র সেই রেস্তোরাঁয় ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ ফুড পাওয়া যেত ।

    কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ফের সব ওলোটপালট হয়ে গেল । শুরু হল দ্বিতীয় লকডাউন । একে একে ক্রেতা কমতে থাকল । ফের বন্ধের মুখে কান্তার নতুন রেস্টুরেন্ট । নতুন এই রেস্তোরাঁ যুক্ত হয়েছিল জোম্যাটোর সঙ্গেও । বাজারের সমস্ত দেনা মিটিয়ে দিয়েছিলেন কান্তা । নিজের ও তাঁর পরিবারের জন্য কিনেছিলেন স্মার্ট ফোনও । কিন্তু ফেব্রুয়ারি থেকে ফের ব্যবসার পতন শুরু হয় । দিল্লিতে করোনার বাড়বাড়ন্ত শুরু হতেই তাঁদের রেস্তোরাঁ প্রচুর ক্ষতির মুখে পড়ে । এক ধাক্কায় ৩৫০০ থেকে দৈনিক আয় এসে দাঁড়ায় মাত্র ১ হাজারে । কান্তার ৮ জনের সংসারে তা ছিল খুবই কম ।

    নতুন রেস্তোরাঁ খুলতে কান্তা প্রায় ৫ লাখ টাকা ঢেলেছিলেন । ৩ জন কর্মচারী রেখেছিলেন । কান্তা বলছেন, এই বিশাল অঙ্কের টাকা এখন জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি । অনেকেই সে সময় তাঁকে ভুল পরামর্শ দিয়েছিল । নতুন রেস্তোরাঁ খোলার সিদ্ধান্ত একেবারেই ঠিক হয়নি । এখন চেয়ার, টেবল, বাসনপত্র, কুকিং মেশিন বিক্রি করে তিনি মাত্র ৩৬ হাজার টাকা তুলতে পেরেছেন । বাকি টাকা কোথা থেকে জোগাড় করবেন তা এখনও জানেন না কান্তা ।

    ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত বছর । দীর্ঘ লকডাউনের কারণে সে সময় দু’বেলা খেতে পেতেন না কান্তা ও তাঁর স্ত্রী বাদামী দেবী । ‘বাবা কা ধাবা’ নামে ছোট্ট একটি গুমটি দোকান ছিল তাঁদের । মটর পনীর, ডাল বিক্রি করতেন তাঁরা । কিন্তু প্রতিদিন সেই খাবার নষ্ট হত । একজন ক্রেতাও আসতেন না তাঁদের দোকানে । সমস্ত পুঁজি শেষ হয়ে গিয়েছিল । রোজই চোখের জল মুছতেন কান্তা আর বাদামী ।

    মোড় ঘোরে একটা ভিডিওতে । ফুড ব্লগার গৌরব ওয়াসন ‘বাবা কা ধাবা’ নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে । সেখানে কান্তা আর বাদামীর দুর্দশা সকলের চোখে পড়ে । মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি । পরের দিন সকাল থেকে ‘বাবা কা ধাবা’র সামনে ক্রেতাদের লাইন পড়ে যায় । বিপুল বিক্রি বেড়ে যায় কান্তার । আর তারপরেই বদলে যায় তাঁদের ভাগ্য । কয়েক দিনের মধ্যে ঝাঁ চকচকে এক রেস্তোরাঁর মালিক হয়ে যান কান্তা আর বাদামী । কিন্তু তাঁদের সেই সুদিন অচিরেই মুখ লুকালো দুর্ভাগ্যের আড়ালে ।

    Published by:Simli Raha
    First published: