তিন নাতি-নাতনির দাদু, ৬৭ বছর বয়সে GATE পাশ করলেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা!

তিন নাতি-নাতনির দাদু, ৬৭ বছর বয়সে GATE পাশ করলেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা!

তিন নাতি-নাতনির দাদু, ৬৭ বছর বয়সে GATE পাশ করলেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা!

৬৭ বছর বয়সেও গ্র্যাজুয়েট অ্যাপটিটিউট টেস্ট ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (GATE 2021) পরীক্ষা পাশ করলেন তামিলনাড়ুর এই বাসিন্দা।

  • Share this:

#চেন্নাই: পরীক্ষা হলে ঢোকা মাত্র কর্তব্যরত কর্মীরা তাঁকে ওয়েটিং রুমের রাস্তা দেখাচ্ছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, এই বয়স্ক মানুষটি বোধহয় কারও অভিভাবক হিসেবে এসেছেন। কেউই বুঝতেই পারেননি যে, তিনি নিজেই একজন পরীক্ষার্থী। সে দিনের GATE পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলতে বলতে রীতিমতো হাসতে শুরু করেছিলেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা শংকরনারায়ণন শংকরাপনদিয়ান (Sankaranarayanan Sankarapandian)। তবে বয়স আর ব্যর্থতা কোনও দিনই তাঁকে আটকাতে পারেনি। তাই ৬৭ বছর বয়সেও গ্র্যাজুয়েট অ্যাপটিটিউট টেস্ট ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (GATE 2021) পরীক্ষা পাশ করলেন তামিলনাড়ুর এই বাসিন্দা।

বলা বাহুল্য, GATE ২০২১-এর সব চেয়ে বয়স্ক পরীক্ষার্থী ছিলেন শংকরনারায়ণন শংকরাপনদিয়ান। তামিলনাড়ুর হিন্দু কলেজে (Hindu College) দীর্ঘ দিন ধরে গণিত পড়িয়েছেন। অবসর নেওয়ার পর এবার এক নতুন পথে এগিয়ে চলেছেন তিনি। GATE পরীক্ষায় ২৭টি বিষয়ের মধ্যে ২টি বেছে নিয়েছিলেন এই প্রবীণ পরীক্ষার্থী। আর দু'টিতেই পাশ করেছেন তিনি। গণিতে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৩৩৮ এবং কম্পিউটার সায়েন্সে ৪৮২।

প্রায় দুই দশক ধরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর পর এবার অগমেন্টেড রিয়েলিটি নিয়ে গবেষণা করতে চান শংকরাপনদিয়ান। তবে কখনও ব্যর্থতাকে ভয় পান না তিনি। news18.com-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শংকরাপনদিয়ান জানান, যদি পরীক্ষায় ফেল করতাম, তাহলে আবার চেষ্টা করতাম। ব্যর্থতাকে ভয় পাই না। এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। মাত্র ১৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী পরীক্ষাটি পাশ করে। তবে পরীক্ষা দিতে গিয়ে খুব একটা সমস্যা হয়নি। ভয়ও লাগেনি। কারণ গবেষণার জন্য অন্য কোনও লক্ষ্য ছিল না। মাথায় কোনও ডিগ্রি পাওয়া বা আকর্ষণীয় প্যাকেজের চিন্তাও ছিল না। শুধুমাত্র জানার জন্য রিসার্চের ইচ্ছে বা এই পরীক্ষা দিতে আসা। তাই হারানোর কোনও ভয় ছিল না। আর এই মনোভাব কিছুটা হলেও সাহায্য করেছিল। ছেলে IIM গ্র্যাজুয়েট। মেয়ে আমেরিকায় সুখে সংসার করছেন। তাই পারিবারিক কোনও চিন্তা বা চাপও ছিল না। সেই কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

পরীক্ষা সম্পর্কে শংকরাপনদিয়ান জানান, মাসখানেকের মধ্যেই পরীক্ষার মূল বিষয় ও পদ্ধতি সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়ে যায়। এর আগে ১৯৮৭ সালে GATE পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সেবার IIT খড়গপুরে সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তখনকার দিনের পরীক্ষা পদ্ধতি ও এখনকার পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। তখন লিখিত পরীক্ষা হত। দু'টি পেপারের মধ্যে একটি পেপারে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন থাকত। পরীক্ষার আগে কোনও নমুনা প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন পুরোটাই কম্পিউটার ভিত্তিক অবজেক্টিভ টেস্ট। তাছাড়া পছন্দ ও স্পেশালাইজেশন অনুযায়ী একের বেশি বিষয়েও এই পরীক্ষা দেওয়া যায়। কোনও ত্রুটি ঘটলে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আবেদন-অভিযোগ জানানোর নানা পথ রয়েছে।

তাঁর কথায়, GATE পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং রয়েছে। বিষয় প্রতি কোয়ালিফাইং মার্ক প্রায় এক চতুর্থাংশ। এক্ষেত্রে অনেক প্রশ্নেই একাধিক অন্তর্দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। হয় তো একটি অপশন জানা। কিন্তু আর একটি অপশন সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। এক্ষেত্রে যে সব প্রশ্নে বিভ্রান্তি দেখা দেবে, সেগুলি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ নেগেটিভ মার্কিংয়ের চক্করে পড়ে কোনও লাভ নেই। তাই মাথা ঠান্ডা রেখে পরিকল্পনা মতো পরীক্ষা দিলেই সাফল্য আসবে। আর তা করে দেখিয়েছেন এই প্রবীণ মানুষটি। জানা আর চেষ্টার যে কোনও শেষ নেই, কোনও বয়স নেই, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছেন।

Published by:Simli Raha
First published: