• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • গত বছরের স্বাধীনতা দিবসের ভাইরাল ছবির এই খুদে পড়ুয়া এনআরসি-র জেরে আজ ‘দেশহীন’

গত বছরের স্বাধীনতা দিবসের ভাইরাল ছবির এই খুদে পড়ুয়া এনআরসি-র জেরে আজ ‘দেশহীন’

News 18 English

News 18 English

  • Share this:

    #গুয়াহাটি: প্রবল বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে গোটা এলাকা। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসে স্কুলে পতাকা তো তুলতেই হবে। তাই  প্রধান শিক্ষকের সংগে বুক অবধি জল সাঁতরে এসেছিল সেদিন দুই ছাত্র ।

    এই ছবিটি হয়তো আপনাদের অনেকেরই পরিচিত ৷ শিক্ষকের সঙ্গে বুক অবধি জলে দাঁড়িয়ে স্কুল পোষাকে ওই দুই ছাত্রও ৷ গত বছর স্বাধীনতা দিবসের দিন এই ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে ৷ বুক সমান জলে দাঁড়িয়েও দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্যালুট জানাতে ভোলেনি ওই দুই পড়ুয়া ৷ কিন্তু দেশের জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানিয়েও তাদের মধ্যে একজনকে  বাদ পড়তে হল অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জী তালিকা থেকে ৷ সে নাকি এদেশের নাগরিক নয় । তবে, আর কোন নথি জমা দিলে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির তালিকায় স্থান পাওয়া যাবে ৷ সেই বিষয়টিও অজানা তার কাছে ৷

    হায়দার খান ৷ বয়স মাত্র ৯ বছর ৷ ২০১৭-র ১৫ অগস্টের এই ছবিই তাকে পরিচিত করে তুলেছিল সকলের কাছে ৷ বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল সকলে এই খুদে পড়ুয়ার দেশপ্রেম দেখে ৷ কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস ! সেই হায়দার আলিই আজ দেশের নাগরিক নয় ৷ জাতীয় নাগরিকপঞ্জির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে সে ৷ যদিও হায়দারের মা, বাবা, দাদা এবং বোন সকলেই জায়গা পেয়েছে ওই নাগরিকপঞ্জিতে ৷

    জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের সময় হায়দার বলে, ‘আমি এনআরসি সম্পর্কে কিছুই জানিনা ৷ নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যেসমস্ত নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল ৷ আমি সমস্ত নথিই জমা দিয়েছি । কিন্তু কেন নাম নেই ৷ জানিনা সেটা ।’ যদিও সে এখনও হাল ছাড়েনি ৷ চূড়ান্ত তালিকার আশায় দিন গুনছে হায়দার ৷ তার বিশ্বাস সেই তালিকাতে নাম উঠবেই ৷

    প্রসঙ্গত, গত বছর স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রবল বন্যায় ডুবে গিয়েছিল নসকরা নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ৷ তাদের সঙ্গে ছিলেন সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকও ৷ পতাকা উত্তোলনের পর জয় হিন্দ বলে সকলে স্যালুট করে ৷ আর তার সঙ্গেই সকলে জাতীয় সঙ্গীতে গলা মেলান ৷ পুরো ঘটনাটিরই ছবি তুলে পোস্ট করেন ওই স্কুলের আরেক শিক্ষক ৷ এরপরই সোশ্যাল মিডিয়াতে খুদে পড়ুয়াদের দেশপ্রেম থেকে তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন সকলে ৷

    কিছুদিন আগেই অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হয় ৷ চূড়ান্ত খসড়ার নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েন প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ । নির্দিষ্টভাবে বললে নাগরিকত্ব পরীক্ষায় আপাতত উত্তীর্ণ হতে পারেন নি ৪০,০৭,৭০৭ জন আবেদনকারী । তাহলে এদের ভবিষ্যত কী হবে ? কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বাস দিচ্ছে, যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁরা ফের নাম অন্তর্ভুক্ত ও সংশোধনের সুযোগ পাবেন। কিন্তু, সেই সুযোগ কি শুধু নামেই? অনেকেই এই প্রশ্ন তুলছেন কারণ, তালিকায় নাম তোলার জন্য যে সব নথি জমা দিতে বলা হচ্ছে, তা সবই হতে হবে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে ইস‍্যু করা। যেমন, লিগ‍্যাসি ডকুমেন্ট হিসেবে চাওয়া হচ্ছে, ১৯৫১ সালের এনআরসি ৷ প্রশ্ন উঠেছে, ৬৭ বছর আগের এই নথি কজনের কাছে আছে?

    আরও পড়ুন: ডকুমেন্টস নেই! নাগরিকত্ব প্রমাণিত হবে কীভাবে? অসমে চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এঁরা

    First published: