দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘অন্য রাজ্য থেকে লোক এসে নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাকে, আমাদের জাতির কি এতই দুর্দশা?’ বিজেপিকে কটাক্ষ ব্রাত্যর

‘অন্য রাজ্য থেকে লোক এসে নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাকে, আমাদের জাতির কি এতই দুর্দশা?’ বিজেপিকে কটাক্ষ ব্রাত্যর

বাইডেনের ক্যাবিনেটেও বাঙালি মন্ত্রী আছে অথচ ৭ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারে বিজেপি থাকা সত্ত্বেও কোনও বাঙালি মন্ত্রী নেই। আন্দামানের জেলে পচে মরা বাঙালি বিপ্লবীদের নামে নয়, নামকরণ হয় ৫ বার মুচলেকা দেওয়া বিনায়ক দামোদার সাভারকরের নামে।

  • Share this:

#কলকাতা: টার্গেট একুশ, বাংলা বিজয়ের লক্ষ্যে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে ময়দানে বিজেপির পুরো সর্বভারতীয় টিম ৷ প্রথম থেকেই গেরুয়াশিবিরের এই স্ট্র্যাটেজিই তৃণমূলের নিশানায় ৷ বিধানসভা ভোটে বহিরাগত ইস্যুতে তৃণমূলের নিশানায় বিজেপি ৷ বাঙালির জ্যাতাভিমানই তাদের হাতিয়ার ৷ শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপি কতটা সম্মান করে বাঙালিকে সেই নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেতা ও অভিনেতা-নাট্যকর ব্রাত্য বসু ৷

ব্রাত্য বসু বহিরাগত প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন মার্কিন নির্বাচন জয়ী জো বাইডেনের কথাও ৷ তাঁর মতে, যেখানে নতুন প্রেসিডেন্ট বাঙালিকে নিজের ক্যাবিনেটে জায়গা দিচ্ছেন, সেখানে এ রাজ্যে বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে অন্য রাজ্য থেকে লোক আনা হচ্ছে ৷ বাইডেনের ক্যাবিনেটে বাঙালি মন্ত্রী আছে অথচ ৭ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারে বিজেপি থাকা সত্ত্বেও কোনও বাঙালি মন্ত্রী নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনা-পরিকল্পনা আজ সফল কন্যাশ্রী রূপে ৷ আন্তর্জাতিক মঞ্চও তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে ৷ অথচ আমাদের মাথার উপরে অন্য রাজ্যের লোক আসবে !

এখানেই শেষ নয়, বিজেপির স্ট্র্যাটেজিকে প্রবল কটাক্ষ করে ব্রাত্য বসু বলেছেন, 'আপনারা বহিরাগত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করবেন, হাতজোড় করে থাকতে হবে, সেভাবে বাংলার রাজনীতি চলবে? আমাদের জাতির কি এতই দুর্দশা? গুজরাত ক্যাবিনেটে দেখান তো একটা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্জুন রায়! অথচ আমাদের এখানে মানতে হবে অন্যদের ৷ আমরা তো এ রাজ্যে থাকা অন্যভাষাভাষী মানুষকে নিজেদের বলে মনে করি ৷ ওনারা কেন গুজরাতে থাকা বাঙালিদের সে সম্মান দিতে পারছেন না? মমতার দাক্ষিণ্যে প্রথম বিধায়ক হয়েছিলেন অর্জুন সিং ৷ এখন ওই দলে আমাদের ক্যাবিনেটে তো বিভিন্নতা আছে, তাহলে গুজরাতে নেই কেন কোনও রায়,বন্দ্যোপাধ্যায়?’

তৃণমূল নেতার অভিযোগ, আন্দামানের জেলে পচে মরেছেন হেমচন্দ্র কাণুঙ্গ, উল্লাস কর দত্ত, বারীন ঘোষের মত হাজার হাজার বাঙালি বিপ্লবী ৷ তাদের নামে সেল না হয়ে নামকরণ হয় ৫ বার মুচলেকা দেওয়া বিনায়ক দামোদার সাভারকরের নামে। তাঁরা বলবেন, রবীন্দ্রনাথের জন্ম বোলপুরে। আদিবাসী নেতার গলায় মালা দিয়ে বলবেন এই তো বীরসা মুণ্ডার গলায় মালা দিলাম। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙবেন ৷ তাঁরা এসে বলছেন বাংলা চালাব। বাঙালিকে চালাব!’

তৃণমূলনেত্রী ও তাঁর দলকে বিজেপির লাগাতার আক্রমণের জবাবে নেতা ব্রাত্য বসু নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের রাজনৈতিক স্থিতির সঙ্গে তুলনা টানলেন নেত্রীর ৷

ব্রাত্য বসু বলেন, 'ত্রিপুরী কংগ্রেসের পর যা সুভাষ চন্দ্র বোসের সঙ্গে যা করা হয়েছিল তারই কি পুনরাবৃত্তি মমতার সঙ্গে হয়নি? মমতাকে নেতাজির মতোই লড়াই করে যেতে হয়েছে। মমতার সঙ্গে তাইহোকু হয়নি, কিন্তু তার উপর একইরকম চাপ তিনিও তৈরি করেছেন এক আজাদ হিন্দ ফৌজ, তার নাম তৃণমূল কংগ্রেস। আর আজ তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে পশ্চিম ও উত্তর ভারত থেকে লোক পাঠাতে হচ্ছে! আমাদের মাথার উপরে অন্য রাজ্য থেকে মুখ্যমন্ত্রী এনে বসানো হবে? অন্য রাজ্য থেকে রাজনৈতিক নেতা বসানো হবে?’ তৃণমূল নেতার দাবি, যেভাবে সুভাষকে কোণঠাসা করে রাজনীতি থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, আজ এত বছর পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে ৷

বাতাসে শীতের আমেজ, অথচ রাজ্য রাজনীতিতে গায়ে লাগছে গনগনে আগুনে উত্তেজনার আঁচ ৷ ভোটের দামামা বাজার আগেই শাসক বিরোধী দু’দলই কোমর বেঁধে ময়দানে ৷ একপাশে বিজেপির লক্ষ্য যেকোনও মূল্যে বাংলা বিজয়, অন্যদিকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তাঁর দলের ক্ষমতায় টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ৷

Published by: Elina Datta
First published: November 20, 2020, 8:45 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर