সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি পাক সেনার, অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভেস্তে দিল ভারতীয় সেনা

সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি পাক সেনার, অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভেস্তে দিল ভারতীয় সেনা
Picture for Representation. (Getty Images)
  • Share this:

#শ্রীনগর: সীমান্তে বিরাট সেনাবাহিনী ও অস্ত্র মজুত করছে পাকিস্তান। শুধু তাই নয়। পাকিস্তানি বর্ডার অ্যাকশন টিম বা ব্যাটের সহযোগিতায় কাশ্মীরের নওগাম সেক্টরের নিয়ন্ত্রণরেখা পেরনোর চেষ্টাও করে পাক জওয়ানরা। কারও গায়ে পাক সেনার পোশাক। কেউ আবার ভারতীয় সেনারইউনিফর্মে। এভাবেই ভারতীয় সেনাকে বোকা বানিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল পাক সেনার একটি বিশেষ দল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। বিএসএফ এবং সেনার গুলিতে সেই দলের দু’জনের মৃত্যু হল কাশ্মীরের নওগাম সেক্টরে।

রবিবার পাকিস্তান সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢুকতে চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান বর্ডার অ্যাকশন টিমের সৈনিকরা। ভারতীয় সেনার গুলিতে মারা পড়েছে তাদের দু’জন। দেহগুলি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নওগাম সেক্টরে এদিন পাকিস্তানি সেনা মর্টার ও রকেট ছুঁড়তে শুরু করে। তার মধ্যে জঙ্গলে গাছপালার আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরতে চেষ্টা করে বর্ডার অ্যাকশন টিমের সৈনিকরা। কিন্তু তারা ভারতীয় সেনার নজরে পড়ে যায়। তাদের লক্ষ করে গুলি চালায় ভারতীয় সৈনিকরা। সারা রাত ধরে চলে গুলিবিনিময়। যে দু’জন মারা গিয়েছে, তারা সম্ভবত পাকিস্তানের সেনা। বাকিরা সম্ভবত পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে গোলা ছুঁড়ে তাদের পালাতে সাহায্য করেছে পাকিস্তানি সেনা। খারাপ আবহাওয়ার জন্য বেশিদূর দেখাও যাচ্ছিল না। এখনও কেউ জঙ্গলে লুকিয়ে আছে কিনা জানার জন্য শুরু হয়েছে তল্লাশি।

সেনাবাহিনী পরে পাকিস্তানি সেনাদের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে। তাতে মনে হয় তারা দীর্ঘক্ষণ লড়াই চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল। সেনাবাহিনীর নওগাম সেক্টরে বড় ধরনের হামলা চালানোই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। অনুপ্রবেশকারীদের পরনে ছিল পাকিস্তানি সেনার পোশাক। তাদের অস্ত্রশস্ত্রেও দেখা গিয়েছে পাকিস্তানের কোম্পানির মার্কিং। তাদের কাছে ছিল বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো রাসায়নিক।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা সীমান্তে পাকিস্তানের যে কোনও দুষ্ট পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেজন্য প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। আগামী দিনেও চালানো হবে। একইসঙ্গে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা পাকিস্তানকে বলেছি, যে দু’জন মারা গিয়েছে, তাদের দেহ ফিরিয়ে নিয়ে যাক। মৃতরা যে পাকিস্তানেরই লোক সেকথা অস্বীকার করে লাভ নেই। কারণ পাকিস্তানই গোলাগুলি চালিয়ে তাদের পালাতে সাহায্য করছিল।

সাধারণত শীতের সময় এইভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা অন্যান্য বছর হয় না। বসন্তে যখন গিরিপথগুলি থেকে বরফ গলতে থাকে তখন ফের এদেশে ঢুকতে চেষ্টা করে জঙ্গিরা। পাকিস্তানের সেনাও অনেক সময় থাকে তাদের সঙ্গে। কিন্তু এবার শীতের মধ্যেও যেভাবে পাকিস্তানিরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সীমান্তে বড় ধরনের গোলমাল করার ছক আছে তাদের।

First published: 12:39:27 PM Dec 31, 2018
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर