উন্নয়ন নয়, লোকসভা নির্বাচনে ‘হিন্দুত্ববাদ’-ই ভোপালের মূল হাতিয়ার

উন্নয়ন নয়, লোকসভা নির্বাচনে ‘হিন্দুত্ববাদ’-ই ভোপালের মূল হাতিয়ার
  • Share this:

Story by  Bishan Kumar

#ভোপাল: একশোরও বেশি বিজেপি কর্মী ও নেতারা অপেক্ষারত৷ ভোপালের বেরাসিয়াতে কর্মীসভায় অংশ নিতে আসছেন সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুর ৷ বেরাসিয়া, ভোপাল থেকে ৫০ কিমি দূরে অবস্থিত একটি টাউন ৷ সেখানেই কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে হাজির হবেন সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুর ৷ নির্ধারিত সময় থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা কেটে গিয়েছে ৷ তাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিজেপি কর্মী ও নেতারা ৷ গরমের তেজ তখন গা ঝলসে দেয় ৷ কিন্তু গোটা ব্যাপারটায় কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই তাঁর ৷ তিনি তো ব্যস্ত মন্ত্র উচ্চারণে ৷ যে মন্ত্র ভক্তদের মুগ্ধ করে রাখবে ৷ সাধ্বী প্রজ্ঞা মনে করেন, তাঁর এই মন্ত্র উচ্চারণ শুধুই মন্ত্র নয় ! ঠিরক যেন জাদুকাঠি ৷ যার এক ছোঁয়ায় সবাই তটস্থ !

তিন দিন আগেই ভোপাল লোকসভার কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাধ্বী ৷ সঙ্গে একের পর এক জনসভায় বিপরীতে দাঁড়ানো কংগ্রেস প্রার্থী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দ্বিগবিজয় সিংকে এক হাত নিচ্ছেন সাধ্বী ৷ রীতিমতো দ্বিগবিজয় সিংকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সাধ্বী ৷ প্রায় প্রত্যেক জনসভাতেই ‘হিন্দুত্ববাদ’ ও ‘সনাতন’ ধর্মের হয়ে সাফাই গেয়ে, সাধ্বী জানিয়েছেন, ‘আমি ভগবানের সম্মান রক্ষা করব !’

ভোপালের ভোটের রাজনীতিটা মূলত বিজেপি-আরএসএস বনাম জাতীয়তাবাদের ৷ যা কিনা উগ্র হিন্দুত্ববাদকে সমালোচনা করে ৷ আর এই রাজনীতির মধ্যে পড়ে ভোপালের সার্বিক উন্নয়ন কিন্তু অনেকটাই পিছিয়ে ৷

সাধ্বীর টোটকা

Loading...

সাধ্বী প্রজ্ঞার নির্বাচন জেতার টোটকাই হল ‘গেরুয়া বাঁচাও’ ৷ প্রত্যেকটি জনসভাতেই গেরুয়াকরণ ওরফে হিন্দুত্ববাদকে রক্ষা করার কথাই বলে চলেছেন তিনি ৷ নির্বাচনে জেতার জন্য গেরুয়া কার্ড নিয়েই খেলছেন সাধ্বী ৷

তবে এখানেই শেষ নয়, সাধ্বীর হাতে রয়েছে আরেকটি তুরুপের তাস ৷ বলা ভালো এক ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল ৷ মালেগাঁও বিস্ফোরণে নাম জড়িয়ে ৯ বছর কারাগারে ছিলেন সাধ্বী ৷ সেই সময়ে পুলিশের অত্যাচারের গল্পই বার বার জনসভায় তুলে ধরেন সাধ্বী ৷ লক্ষ্য করা গিয়েছে, সাধ্বীর মুখ থেকে একথা শুনে জনসভায় বহু মানুষই চোখের জল ফেলেছেন ৷ বেশিরভাগ মহিলা হাপুস নয়নে কেঁদেছেন সাধ্বীর মুখে এই ঘটনার বিবরণ শুনে ৷ আর এই চোখের জলকেই ভোটের আসরে কাজে লাগাচ্ছেন সাধ্বী ৷ নির্বাচনে ভোট টানার ব্যাপারে এটিই তাঁর নতুন পন্থা ৷

অন্যদিকে, সমালোচনা তো দূরের কথা, দ্বিগবিজয় সিং একটিও শব্দ ব্যয় করেননি সাধ্বীর বিরুদ্ধে ৷ ভোপালে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনিত হওয়ার পর দ্বিগবিজয় শুধু জানিয়েছিলেন, ‘ভোপালে সাধ্বীকে স্বাগত !’

‘টেম্পল রান’

সাধ্বী যতই দ্বিগবিজয় সিংকে গেরুয়া বিরোধী তথা হিন্দুত্ববাদের বিরোধী বলে প্রচার করে যান না কেন, সম্প্রতি দ্বিগবিজয় সিংয়ের ‘নর্মদা পরিক্রমা’ই কিন্তু নজর কেড়েছে ভোটারদের কাছে ৷ তবে বিজেপি মনে করছে, দ্বিগবিজয়ের এই মন্দির পরিক্রমার কারণে, কংগ্রেস মুসলিম ভোট হারাবে ৷ তবে অন্যদিকে, দেখা গিয়েছে দ্বিগবিজয়ের এই মন্দির পরিক্রমা, সাধু-সন্তদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন যত বাড়বে ততই বিজেপির আক্রমণ বাড়বে দ্বিগবিজয়কে হিন্দুত্ববাদের বিরোধী হিসেবে ৷

First published: 09:44:15 PM Apr 29, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर