আকাঙ্খা হত্যাকাণ্ড: পুলিশের অনুমান আরও খুন করেছে ভুপালের সিরিয়াল কিলার উদয়ন

রবিবারই কলকাতায় আনা হল উদয়নকে ৷ কলকাতা থেকেই রাতে নিয়ে যাওয়া হবে বাঁকুড়ায় ৷

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Feb 05, 2017 06:55 PM IST
আকাঙ্খা হত্যাকাণ্ড:  পুলিশের অনুমান আরও খুন করেছে ভুপালের সিরিয়াল কিলার উদয়ন
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Feb 05, 2017 06:55 PM IST

#কলকাতা: কলকাতায় আনা হবে উদয়নকে ৷ তারপর কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া হবে বাঁকুড়ায় ৷ সোমবার আদালতে পেশ করা হতে পারে উদয়নকে ৷ পুলিশের অনুমান, আরও খুন করেছে উদয়ন ৷

পুলিশি জেরায় আকাঙ্খা শর্মা খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত উদয়ন দাসের কাছ থেকে আরও সাংঘাতিক তথ্য জানতে পারে পুলিশ ৷ লিভ-ইন পার্টনার আকাঙ্খাকে খুনের আগে নিজের বাবা-মা-কেও খুন করেছিল উদয়ন ! ২০১০ সালে নিজের বাবা-মা-কে খুন করে বাগানে দেহ পুঁতে দেয় উদয়ন বলে পুলিশের জেরায় স্বীকার করেছে সে ৷ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে উদয়নকে সঙ্গে নিয়ে রায়পুরে পৌঁছয় ভোপাল পুলিশ ৷ সঙ্গে রয়েছে বাঁকুড়া পুলিশও ৷ রায়পুরে বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ৷ যেখানে দেহ পুঁতে রাখার কথা জানিয়েছেন উদয়ন সেখানটা খুঁড়ে দেখা হচ্ছে ৷

মুখে কালো কাপড় বেঁধে আনা হল উদয়নকে ৷ বাগানের কোথায় পোঁতা আছে জোড়া দেহ? পুলিশকে জায়গা চিহ্নিত করে দেখায় উদয়ন ৷ সেই মতো মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করে পুলিশ ৷ খোঁড়াখুঁড়ির জন্য আনা হয় জেসিবি ৷ ঘটনাস্থলে রয়েছে ফরেন্সিক দলও ৷ দুর্ঘন্ধে ভরে গিয়েছে গোটা এলাক ৷ মাটির অনেক গভীরে আছে দেহ বলে অনুমান করা হচ্ছে ৷ এখনও পর্যন্ত পাঁচ ফুট পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছে ৷ পাওয়া গিয়েছে কাপড়ের টুকরো ৷ পাওয়া গিয়েছে হাড়গোড় ৷

অরকুটে পরিচয়। কলকাতার হোটেলে রাত কাটানো। ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ। মিথ্যে বলে বাড়ি ছাড়া। দিল্লি হয়ে ভোপাল। একাধিক জায়গায় ছুটি কাটানো - লিভ ইন। আকাঙ্খা - উদয়নের সম্পর্কে পরতে পরতে রহস্য। আকাঙ্খা বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই সন্দেহেই গলা টিপে খুন করে উদয়ন দাস। পাশের ঘরে বাক্সে দেহ ভরা হয়।

সিরিয়াল কিলিং থ্রিলার। লিভ ইন পার্টনারকে খুনের আগে বাবা-মাকেও খুন করে উদয়ন। দেহ পুঁতে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের ক্ষেত্রেও মিলেছে পরিকল্পিত খুনের ইঙ্গিত। খুনি উদয়ন অপরাধমনস্ক মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

প্রিয় মানুষের কাছ থেকে সামান্য বাধা পেলেই খুন। আকাঙ্খা খুনে অভিযুক্ত উদয়নের এটাই বেসিক ইনস্টিংক্ট। খুনের পর দেহ পুঁতে রেখে প্রিয়জনকে কাছে রাখার প্রবণতা। লিভ ইন পার্টনারকে খুনের আগে বাবা-মাকেও খুন করে উদয়ন।

Loading...

ফেসবুকে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই সন্দেহেই আকাঙ্খাকে গলা টিপে খুন করে উদয়ন। সেরকমই সামান্য কারণে বাবা-মাকেও খুন করে উদয়ন। পুলিশ সূত্রে খবর,

- ইঞ্জিনিয়ারিং সেমিস্টারে উদয়ন ফেল করলেও তা বাবা-মাকে জানায়নি

- বরং বাবা-মাকে জানায় সে পাস করে গিয়েছে

- উদয়নকে চাকরি খুঁজতে বলেন তাঁরা

- যা তার পক্ষে সম্ভব নয় বুঝেই খুনের ছক

শুধু খুন করাই নয়। বাবা-মাকে খুনের পর প্রায় এক বছর ধরে লাইফ সার্টিফিকেট দিয়ে বাবার পেনশন ভোগ করে উদয়ন। পরে ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে মায়ের নামে থাকা বাড়ি নিজের নামে করে নেয়। পরে সেই বাড়িও বিক্রি করে দেয় উদয়ন। বাবা-মায়ের সম্পত্তি দখল করেই বিলাসবহুল জীবনযাপন করত উদয়ন দাস।

বাবা-মাকে খুন করেও ধরা না পরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল উদয়ন। শুধু তাই নয়, বাবা-মায়ের টাকায় বিলাশবহুল জীবনেও অভ্যস্ত ছিল। লিভ ইন পার্টনার আকাঙ্খাকে খুনের পরেও বাড়িতে কলগার্ল ডেকে ফুর্তিতেই বোঝা যায় এই সিরিয়াল কিলারের অপরাধের মানসিকতা।

First published: 06:00:37 PM Feb 05, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर