Congress in Tripura: তৃণমূলে ঝড়ে দলে প্রবল ভাঙন, সংগঠন বাঁচাতে ত্রিপুরায় IPS-এ ভরসা কংগ্রেসের!

ত্রিপুরায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় কংগ্রেস

Congress in Tripura: প্রতিদিন দল ছাড়ছেন একাধিক কর্মী। ত্রিপুরায় সংগঠন রাখতে দায়িত্ব বিশেষ পর্যবেক্ষককে বসাল কংগ্রেস।

  • Share this:

#আগরতলা: ত্রিপুরা জুড়ে সংগঠন মজবুত করতে নেমেছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল। প্রায় প্রতিদিন একের পর এক নেতা উপস্থিত থাকছেন ত্রিপুরায়। কখনও কংগ্রেস, কখনও সিপিএম ছেড়ে একের পর এক নেতা যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে। বিশেষ করে কংগ্রেস ছেড়ে যখনই একের পর এক কংগ্রেস নেতা যোগ দিচ্ছেন তখন তড়িঘড়ি AICC পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল ত্রিপুরায়।

প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক অজয় কুমারকে নিয়োগ করা হয়েছে ত্রিপুরার পর্যবেক্ষক হিসাবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের পরেই ত্রিপুরায় তৎপর হয়ে ওঠে কংগ্রেস। তড়িঘড়ি বৈঠক সেরে গিয়েছিলেন দুই নেতা।বৈঠক করেছিলেন AICC সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ পান্ডে ও ছত্তিসগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী টি এস সিংহ দেও। মন বুঝতে বৈঠক করেছিলেন ব্লক সভাপতিদের সাথে। সূত্রের খবর, বৈঠক হয়েছিল জোটের সম্ভাবনা। কর্মীরা যেন দল ছেড়ে না যান, তাই নিয়ে।আলোচনায় উঠে এসেছে তৃণমূলের অবস্থান ত্রিপুরা সম্পর্কে। আলোচনা হয়েছে মহারাজা প্রদ্যোত মাণিক্য দলের অবস্থান নিয়েও।ডিসেম্বরে সফর করবেন রাহুল গান্ধী।তার আগে কর্মীদের ধরে রাখতে দিল্লির নেতাদের রাজ্যে পাঠানোর অনুরোধ ত্রিপুরা প্রদেশ নেতৃত্বের। অভিষেকের সফরের পরেই কংগ্রেসের টিম পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কিছুদিন আগেই ত্রিপুরায় সুবল ভৌমিকদের যোগদানের পর  কংগ্রেসের বহু হেভিওয়েট নেতাই তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর। পরিস্থিতি এমনই যে কংগ্রেসের ভিত্তি ধরে রাখতে ত্রিপুরার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ বিশ্বাসকে ফোন করে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন সনিয়া গান্ধির ঘনিষ্ঠ নেতা কে সি বেনুগোপাল।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, তৃণমূলের নির্বাচনী উপদেষ্টা প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক-এর ২৩ জন আধিকারিককে হাউজ অ্যারেস্ট করে রাখার পর তাঁদের ছাড়াতে আদালতে সওয়াল করেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পীযূষ বিশ্বাস। মামলায় মহামারী আইন ভাঙতে পারেন এই যুক্তিতে জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করেন সরকারি পক্ষের উকিল। যদিও সেই যুক্তি ধোপে টেকেনি।

আইনজীবীর দায়িত্ব নেওয়া ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস নেতা পীযূষ বিশ্বাস স্পষ্টই জানিয়েছেন, "গৃহবন্দী করে অনর্থক হয়রানি করা হচ্ছিল এই প্রতিনিধি দলটিকে।" এরপরই আই প্যাকের কর্মীদের জামিন মেলে।কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের জন্য সওয়াল করছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি, এই ঘটনাতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল ত্রিপুরায়। তবে, কি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের 'হিসেবনিকেশ' হয়ে যাচ্ছে তলেতলে?

বেনুগোপালের জিজ্ঞাসায় অবশ্য পীযূষ বিশ্বাস কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের দিকেই আঙুল তুলেছেন বলে খবর। কেন ত্রিপুরায় এখন তৃণমূলকে নিয়ে আলোড়ন চলছে, তার জবাবে পীযূষ জানিয়েছেন, যে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে তৃণমূল ত্রিপুরায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তার সিকিভাগ চেষ্টাও কংগ্রেস করছে না।মহিলা, যুব ভোটের জন্য তৃণমূলের সুনির্দিষ্ট কৌশল, আই প্যাকের মতো সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী আইটি সেল তৈরির মতো নানা পদক্ষেপ তৃণমূলকে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে ত্রিপুরায়। সেই তুলনায় বিরোধী শিবিরের বাম বা কংগ্রেস কারও তরফেই সেই উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে তৃণমূল ত্রিপুরার হাওয়া যতটা গরম করতে পারছে, বাকি বিরোধীদের সেই তুলনায় দেখা মিলছে না। স্বাভাবিক কারণেই বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছে বাংলার শাসক দল।

বেনুগোপালের কাছে পীযূষ এও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই বিজেপিকেও ভাঙাতে শুরু করেছে তৃণমূল। কিন্তু কংগ্রেস বা বামেরা সেই পরিসর দখল করতে পারছে না সামগ্রিক পরিকল্পনার অভাবেই। এর পরেই AICC তরফে দুই প্রতিনিধি ত্রিপুরায় পৌছে গিয়ে বৈঠক শুরু করে দেয়। অর্থাৎ, একটা বিষয় স্পষ্ট, বিজেপি যতই তৃণমূলকে কটাক্ষ করুক না কেন, বিপ্লব দেবের রাজ্যে ক্রমেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের পর সেই ত‍ৎপরতা যে আরও কয়েকগুণ বাড়তে চলেছে, তা নিয়ে নিশ্চিত ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল।

Published by:Suman Biswas
First published: