দেহ কাটাছেঁড়া না করেই AIIMS-এ হবে ভার্চুয়াল ময়নাতদন্ত, কী ভাবে কাজ করবে এই পদ্ধতি ?

দেহ কাটাছেঁড়া না করেই AIIMS-এ হবে ভার্চুয়াল ময়নাতদন্ত, কী ভাবে কাজ করবে এই পদ্ধতি ?

দেহ কাটাছেঁড়া না করেই AIIMS-এ হবে ভার্চুয়াল ময়নাতদন্ত, কী ভাবে কাজ করবে এই পদ্ধতি?

CMR-এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গবের (Balram Bhargava) হাত ধরে ইতিমধ্যেই এই ভার্চুয়াল অটোপসি পদ্ধতির উদ্বোধনও হয়ে গিয়েছে

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের এই উদ্যোগ নজিরবিহীন তো বটেই, পাশাপাশি দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নিরিখে সর্বপ্রথম উদ্যোগ! সেই দিক থেকে দেখলে ভারতে সংস্থার ফরেনসিক দল এবার থেকে কাটাছেঁড়া না করেই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করবে। যাকে ভার্চুয়াল অটোপসি বলা হচ্ছে। ICMR-এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গবের (Balram Bhargava) হাত ধরে ইতিমধ্যেই এই ভার্চুয়াল অটোপসি পদ্ধতির উদ্বোধনও হয়ে গিয়েছে।

ভার্চুয়াল অটোপসি কী?

আগে মৃত্যুর কারণ জানার জন্য দেহ কাটাছেঁড়া করতে হত। এবার তার জায়গায় ব্যবহার করা হবে ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (Magnetic Resonance Imaging) বা ডিজিটাল কমপিউটারাইজড টোমোগ্রাফি স্ক্যান পদ্ধতি। এই দুই টেস্টের মাধ্যমেই শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের একাধিক বিশ্লেষণমূলক ছবি তোলা যাবে। এর পর তা বিশ্লেষণ করে বের করা হবে মৃত্যুর কারণ।

ভার্চুয়াল অটোপসি কী ভাবে কাজ করবে?

ভার্চুয়াল অটোপসি পদ্ধতি মূলত স্ক্যানিং এবং ইমেজিং সিস্টেমের উপরে নির্ভর করে কাজ করবে। এই পদ্ধতিতে মৃতদেহ সিটি স্ক্যান মেশিনের মধ্যে রেখে দেওয়া হবে। জানা গিয়েছে যে এর পর শরীরের নানা টিস্যু এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রতি সেকেন্ডে ২৫ হাজার করে ছবি তুলবে এই পদ্ধতি। যা খুঁটিয়ে দেখে বিশেষজ্ঞরা সহজেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ বলে দিতে পারবেন।

AIIMS-এর ভার্চুয়াল অটোপসি:

AIIMS-এর ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডক্টর সুধীর গুপ্তা (Sudhir Gupta) এই বিষয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন সংবাদমাধ্যমের কাছে। জানিয়েছেন যে এই পদ্ধতিতে কাজ করা শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়- শরীরের কোন অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ মৃত্যুর সময়ে সঠিক কোন অবস্থানে ছিল, সঠিক কোন কারণ শরীরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে- এই সব বিশদে জানা যাবে কোনও কাটাছেঁড়া না করেই! তা যেমন অপরাধী সনাক্তকরণে সাহায্য করবে, তেমনই নানা গবেষণার কাজেও আসবে।

সাবেকি পন্থা ছেড়ে ভার্চুয়াল অটোপসি শুরু করার কারণটা কী?

এই বিষয়ে ডক্টর গুপ্তা মূলত দু'টি দিকে জোর দিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি কারণ ব্যবহারিক, অন্যটি ভাবাবেগের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানিয়েছেন যে সাবেকি পন্থায় ময়নাতদন্তে সময় লাগত ৬ ঘণ্টা, কিন্তু ভার্চুয়াল অটোপসি মাত্র ১০ মিনিটেই নিখুঁত ভাবে কাজ শেষ করে ফেলবে। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই অনেকটা সময় বেঁচে যাবে। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে কাটাছেঁড়া হচ্ছে না বলে দেহ অবিকৃত থাকবে। পরিণামে মৃতের আত্মীয়রা প্রিয় মানুষের সেলাই করা শরীর দেখার মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।

ভার্চুয়াল অটোপসি কি বিশ্বে প্রচলিত?

প্রযুক্তির দিক থেকে উন্নত বিশ্বের প্রথম সারির বেশ কিছু দেশে অনেক দিন ধরেই এই পদ্ধতির মাধ্যমে ময়নাতদন্তের রেওয়াজ আছে। এই তালিকায় ইউনাইটেড স্টেটস, অস্ট্রেলিয়া এবং সুইৎজারল্যান্ডের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হয়। সেই তালিকায় এবার ভারতের নামও যুক্ত হল।

Published by:Ananya Chakraborty
First published:

লেটেস্ট খবর