সেলুনের পরিষেবা দিতে অস্বীকার, কর্নাটকের গ্রামে দলিতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল কেটে আসছেন দুই ভাই!

সেলুনের পরিষেবা দিতে অস্বীকার, কর্নাটকের গ্রামে দলিতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল কেটে আসছেন দুই ভাই!

সেলুনের পরিষেবা দিতে অস্বীকার, কর্নাটকের গ্রামে দলিতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল কেটে আসছেন দুই ভাই!

কেরিয়ারের শুরুতেই তাঁরা নাপিত ছিলেন না। কেরিয়ার অন্য খাতে শুরু করলেও এই নাপিত হওয়ার শুরু অন্য ঘটনা দিয়ে।

  • Share this:

#বেঙ্গালুরু: জাতিবিদ্বেষ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আজকাল হাজার কথা হলেও দেশের বেশ কিছু রাজ্যে, বেশ কিছু জায়গায় জাতিবিদ্বেষ এখনও রয়েছে। রয়েছে ভেদাভেদ। দলিত থেকে শুরু করে তথাকথিত নিচু জাতের মানুষদের এই নিয়ে একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। উচ্চ জাতের লোকজনের তৈরি সমাজ থেকে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বঞ্চিত তারা। বিশ্বের একাধিক বড় শহরে এই দলিত মানুষজন নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করলেও অনেকের কাছেই আজও তারা সমাজের নিচু শ্রেণিতে রয়েছে। আর এর ফলেই আজও নিচু চোখেই দেখা হয় তাদের। বছরের পর বছর পালটেছে, বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র থেকে শিক্ষা, সব দিকেই দেশ এগিয়েছে কিন্তু মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আসেনি। আসেনি। যার মাশুল দিতে হচ্ছিল কর্নাটকের এই গ্রামগুলির মানুষদের। যাদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন কাপ্পাসোগে গ্রামের দুই ভাই।

কর্নাটকের বেশ কয়েকটি গ্রামে থাকেন দলিতরা। গ্রামগুলিতে দলিতদের গ্রাম বলেই চেনেন সকলে। যার মধ্য়ে রয়েছে কুরুহুন্দি, গোদারাহরুন্দি, মাদানাহাল্লি-সহ বেশ কয়েকটি। এর প্রায় পুরোটাতেই দলিতদের বাস।

এই গ্রামেই বর্তমানে চুল কাটার কাজ করছেন দুই ভাই কেপি মহাদেব ও কেপি সিদ্দারাজু। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল কেটে দিয়ে আসছেন তাঁরা।

কিন্তু কেরিয়ারের শুরুতেই তাঁরা নাপিত ছিলেন না। কেরিয়ার অন্য খাতে শুরু করলেও এই নাপিত হওয়ার শুরু অন্য ঘটনা দিয়ে। The New Indian Express-কে তাঁরা জানান, দলিত হওয়ায় এলাকার অন্য শ্রেণির সেলুন তাঁদের চুল কাটতে আপত্তি জানাত। এলাকার কোনও সেলুনই সেভাবে তাঁদের পরিষেবা দিতে রাজি হত না। ফলে চুল কাটতে সুদূর উল্লাহালি বা নান্দাগুড়-এ যেতে হত তাঁদের। এর জন্য প্রায় একদিন লেগে যেত। ফলে কাজেও যেতে পারতেন না তাঁরা। আর এখান থেকেই চুল কাটার কাজ করবেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া।

এক সাক্ষাৎকারে মহাদেব জানান, এই সমস্যা যে শুধু তাঁর বা তাঁদের পরিবারের, তা নয়। এই সমস্যা গোটা গ্রামের। ফলে এই টাকা রোজগারের থেকেও আমার এলাকার মানুষজনকে, আমার সমাজের মানুষজনকে সাহায্য করার কথা মনে হয়। সামাজিক ঐক্য তৈরি করার কথা মাথায় আসে।

তার পরই বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল কাটার পরিষেবা দিতে শুরু করেন তাঁরা। শুরু থেকে আজ, প্রায় আট বছর কেটে গিয়েছে এই কাজ করছেন তাঁরা। বর্তমানে একটি সেলুন খোলার ইচ্ছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সে কাজ আপাতত বন্ধ। তাঁদের কথায়, যদি সরকারের সাহায্য মিলত, তা হলে একটি সেলুন খুলতাম, যাঁরা আমাদের মতোই সমস্যায় রয়েছেন, তাঁদের সাহায্য করার জন্য।

প্যানডেমিকেও তাঁদের এই পরিষেবা থেমে থাকেনি। ৪০ টাকার বিনিময়ে চুল কাটা ও ২০ টাকার বিনিময়ে দাড়ি কাটার কাজ করেছেন তাঁরা।

আট বছর এভাবে কাজ করার পর তাঁদের একটাই আক্ষেপ, সরকার তো তাকালোই না, তাকালেন না কোনও রাজনৈতিক নেতাও!

Published by:Pooja Basu
First published:

লেটেস্ট খবর