• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • A REPORT SUBMITTED AFTER POLL VIOLENCE IN WEST BENGAL TO MINISTER OF STATE FOR HOME AFFAIRS G KISAN REDDY DD

বাংলায় 'ভোট পরবর্তী হিংসা'-র রিপোর্ট নিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডির দ্বারস্থ

একই সুর শোনা গেছে বিজেপির আরও দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরীর গলাতেও।

একই সুর শোনা গেছে বিজেপির আরও দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরীর গলাতেও।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা নাগাদ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে, গঠন করা হয় এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ভোট-পরবর্তী হিংসা ও তৎসংক্রান্ত একটি রিপোর্টও পেশ করেন। সেখান তারা ১০ দফা সুপারিশ এবং ৯ দফা পর্যালোচনার রিপোর্টও পেশ করেন। তারা জানান পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা ভয়াবহ, ভয়ঙ্কর। অরাজকতা চলছে সেখানে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের এই  ভয়ংকর অবস্থার সঙ্গে নাম জড়িয়েছে বিভিন্ন স্তরের  আমলার।

ভোট-পরবর্তী বাংলার অবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে, গঠন করা হয় এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। মোট ৫ জনের এই কমিটিতে রয়েছেন, সিকিম হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, কেরলের প্রাক্তন মুখ্য সচিব আনন্দ বোস। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন ডিজিপি নির্মল কৌর। নিসার আহমেদ ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট আইসিএসআই এবং কর্ণাটকের প্রাক্তন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এম মদন গোপাল। এই কমিটি নটি দফায় তাদের পর্যবেক্ষণ পেশ করেছেন। আর এ বিষয়ে বিচারপতি প্রমোদ কোহলি বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে জানাা, পশ্চিমবঙ্গ ভোটের ফল বেরোনোর পর অর্থাৎ, ২ মে রাত থেকেই নাকি সেখানে শুরু হয়ে যায় মারাত্মক রাজনৈতিক হিংসা।

এই কমিটির মতে ওই হিংসা কোনো আকস্মিক হওয়া ঘটনা নয় বরং এর পিছনে পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসাই আছে। এমনকি পুলিশের খাতায় যারা দাগি আসামি বলে পরিচিত, এমন বেশ কয়েক হাজার লোককে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য। সেখানে নাকি জালানো হয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি নষ্ট করা হয়েছে বহু সম্পত্তিও। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের এতটাই খারাপ অবস্থা যে সেখানে পীড়িতরা অভিযোগ জানাতে ভয় পাচ্ছেন। সেখানকার বাসিন্দাদের আধার কার্ড, রেশন কার্ড কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। গ্রামে থাকতে গেলে তাদের জরিমানা দিতে হচ্ছে বলেও ওই কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহিলা, শিশু, তপশিলি জাতি এবং উপজাতিদের ওপরে এই অত্যাচার বেশি করে করা হচ্ছে তাদের পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী,  জাস্টিস কোহলির অভিযোগ মত ,বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারীরাই মূলত এই অত্যাচার চালাচ্ছেন।এই পর্যবেক্ষণের পর তারা ১০ দফা সুপারিশ ও পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। তারা সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে সর্বস্তরের স্বাভাবিক অবস্থা ও শান্তি, অতি দ্রুত সরকারের ফিরিয়ে আনা উচিত। রাজ্যে জেলায় গ্রামে এবং পাড়ায় শান্তি কমিটি গঠন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যারা ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে তাদের যেনো অতিশীঘ্র ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়,  প্রচুর টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে তাই রাজ্য সরকারের উচিত তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা। এমনকি যাঁদের ঘর বাড়ি নষ্ট হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের দিকটিও রাজ্য সরকারকেই দেখতে হবে। আর এসবের মধ্যেই এক গুরুতর অভিযোগ এই কমিটি করেছে সরকারি আমলাদের বিরুদ্ধেও। তাদের মতে তদন্ত করা হোক এই আমলাদের বিরুদ্ধেও যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট এবং হাইকোর্টের    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে তদন্তের দায়ভার তাদের ওপর দেয়া হোক বলেও তাদের মত  এমনকি পুলিশেরও উচিত অতি শীঘ্রই  অভিযোগ নিয়ে আইনানুগ  ব্যবস্থা নেওয়া ।

এই বিষয়ে বলতে গিয়ে নির্মল কাউর জানান, স্বাধীনতার পর থেকে মহিলাদের উপর এরকম অত্যাচার ভারত বর্ষ কখনো প্রত্যক্ষ করে নি। এমনকি এই অত্যাচারের সীমা নাকি কাশ্মীরের হিংসা বর্বরতাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে নাকি মহিলারা মারাত্মকভাবে অসুরক্ষিত, তারা ধর্ষিতা  হচ্ছেন। তাদের নাকি কোনরকম নিরাপত্তায় সেখানে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষেএক মারাত্মক লজ্জার ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে সেখানকার মহিলারা, এই কমিটি থেকে জানানো হয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জাতীয় তপশিলি জাতি উপজাতি এবং জাতীয় মহিলা কমিশন  কে সঙ্গে নিয়ে, এবং এই কমিটির থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করে অতি দ্রুত  তা সুপ্রিমকোর্টে পেশ করা হোক, এ প্রসঙ্গে এ কমিটির পক্ষ থেকে  অভিযোগ করা হয় যে তারা যখন তদন্তের কাজে পশ্চিমবঙ্গে গিয়েছিলেন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কোনো রকম সহযোগিতা করা হয়নি এবং তারা যখন মুখ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মুখ্য সচিবও তাদের সাহায্য করতে অস্বীকার করেন  বলে তাদের অভিযোগ। এমনকি কোনরকম সহযোগিতা করেননি অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি  এইচ কে দ্বিবেদীও৷ নির্বাচনের পর এদিনই ছিল বিজেপির প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক,সেখানেও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এই কমিটির পেশ করা রিপোর্টের প্রসঙ্গ তুলে জানান, "পশ্চিমবঙ্গের ভোট পরবর্তী যে রাজনৈতিক হিংসা ও অরাজকতা চলছে,তা এককথায় অবর্ণনীয়, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও সেই রাজ্যে মহিলারা সুরক্ষিত নন। এমনকি ভোট-পরবর্তী হিংসার বলি হয়েছেন বহু বিজেপি কর্মী সমর্থকও।" একই সুর শোনা গেছে বিজেপির আরও দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরীর গলাতেও। তাঁরাও জানান, "পশ্চিমবঙ্গে লাগাতার ভোট পরবর্তী হিংসা এবং অশান্তি লেগেই আছে।" যদিও এই অভিযোগ এবং নালিশে কান দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস।

Rajib Chakraborty

Published by:Debalina Datta
First published: