corona virus btn
corona virus btn
Loading

১২ সেকেন্ডে কাবু বিমান অপহরণকারী, আজকের দিনেই সফল হয়েছিল অপারেশন অশ্বমেধ

১২ সেকেন্ডে কাবু বিমান অপহরণকারী, আজকের দিনেই সফল হয়েছিল অপারেশন অশ্বমেধ
অপারেশন অশ্বমেধ সফল করেছিল এনএসজি৷ PHOTO- FILE

বেলা ১.৫৭ মিনিটে দিল্লির ইন্দিরা গাঁধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীনগরের উদ্দেশে রওনা দেয় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান৷ মোট ১৩৫ জন যাত্রী এবং ৬ জন বিমানকর্মী ছিলেন তাতে৷

  • Share this:

১৯৯৩ সালের ২৪ এবং ২৫ এপ্রিল৷ ভারতের সন্ত্রাস দমনের ইতিহাসে এই দিনদু'টি বিশেষ উল্লেখযোগ্য৷ কারণ ২৭ বছর আগে এই তারিখেই অপারেশন অশ্বমেধের সফল রূপায়ণ করেছিল এনএসজি৷ সেদিন অমৃতসরে মাত্র ১২ সেকেন্ডের মধ্যে বিমান অপহরণকারীকে ঘায়েল করে ১৪১ জন যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের নিরাপদে উদ্ধার করেছিল এনএসজি-র কম্যান্ডোরা৷

কী ঘটেছিল সেদিন? বেলা ১.৫৭ মিনিটে দিল্লির ইন্দিরা গাঁধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীনগরের উদ্দেশে রওনা দেয় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান৷ মোট ১৩৫ জন যাত্রী এবং ৬ জন বিমানকর্মী ছিলেন তাতে৷ আকাশে ওড়ার আধ ঘণ্টার মধ্যেই মহম্মদ ইউনুফ শাহ নামে এক অপহরণকারী বিমানটি ছিনতাই করে৷ বিমানটি কাবুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ওই ছিনতাইকারী৷ কিন্তু ছিনতাইয়ের কথা জানতে পেরে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়৷ ফলে কাবুলের দিকে এগোতে না পেরে ভারতের আকাশেই চক্কর কাটতে থাকে বিমানটি৷ শেষ পর্যন্ত জ্বালানি নেওয়ার জন্য বিমানটি অমৃতসর বিমানবন্দরে নামানো হয়৷

অপহরণকারী কে ছিল? ওই ছিনতাইকারী যুবক দিল্লি বিমানবন্দর থেকে পায়ে প্লাস্টার করে বিমানে উঠেছিল৷ বিমানবন্দরে এক চিকিৎসক সহযাত্রীকে নিজের নাম রিজভি বলে জানিয়েছিল৷ পায়ের প্লাস্টারের সঙ্গে ধাতব রড লাগিয়ে রেখেছিল ওই যুবক৷ মেটাল ডিটেক্টরে সতর্ক করে আওয়াজ হওয়া সে নিরাপত্তরক্ষীদের জানায়, প্লাস্টার করার জন্যই ধাতব রড লাগিয়েছেন চিকিৎসকরা৷ এর পরই তাঁকে বিমানে ওঠার অনুমতি দেয় নিরাপত্তা কর্মীরা৷ কিন্তু আসলে ওই প্লাস্টারের আড়ালেই জোড়া বন্দুক লুকিয়ে রেখেছিল সে৷ বিমান ছিনতাইয়ের পর সে নিজের নাম জেনারেল হাসান বলে জানিয়েছিল৷ হিজবুল কম্যান্ডার সইদ সলাউদ্দিনের নির্দেশে সে বিমান ছিনতাই করেছিল বলে জানায় ওই অপহরণকারী৷ পরে অবশ্য তাঁর নাম জালালউদ্দিন ওরফে মহম্মদ ইউনুস শাহ বলে জানা গিয়েছিল৷

ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের এমনই একটি বিমান সেদিন অপহরণ করা হয়েছিল৷

কীভাবে চলে দর কষাকষি? অমৃতসরে বিমানটি পৌঁছনোর পরেই পুলিশের তরফে বারবার ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর দাবি জানতে চাওয়ার চেষ্টা করা হয়৷ কিন্তু বিমানটি কাবুলে নিয়ে যাওয়ার দাবিতে অনড় ছিল ওই অপহরণকারী৷ কোনও কথা শুনতেই রাজি ছিল না সে৷ এমন কী পঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি-ও তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল৷

বিমান ওড়ানোর হুমকি এইভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়৷ শেষ পর্যন্ত রাত এগারোটা নাগাদ চরম হুমকি দেয় অপহরণকারী৷ বিমানের মধ্যেই শূন্যে গুলি চালায় সে৷ তার কথা মতো বিমান কাবুলে নিয়ে না যাওয়া হলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সে৷

রাত ১টায় শুরু অপারেশন অশ্বমেধ অপহরণকারীর সঙ্গে মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এনএসজি-কে অপারেশনে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ প্রায় দু' ঘণ্টা বাইরে থেকে পরিস্থিতি বুঝে নেয় এনএসজি-র ৫২ স্পেশ্যাল অ্যাকশন গ্রুপের কম্যান্ডোরা৷ ততক্ষণ ওই অপহরণকারীকে আলোচনায় ব্যস্ত রাখেন পঞ্জাব পুলিশের প্রধান কেপিএস গিল৷ রাত ১ টায় বিমানের ছ'টি দরজা খুলে একসঙ্গে বিমানে ঢুকে পড়েন ষাটজন কম্যান্ডো৷ অপহরণকারী কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাইলেন্সর লাগানো বন্দুকের গুলিতে তাকে ঘায়েল করে ফেলে কম্যান্ডোরা৷ ঠিক ১.০৫ মিনিটে জখম অপহরণকারীকে নিয়ে বিমান থেকে বেরিয়ে আসে এনএসজি কম্যান্ডোরা৷ বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, বিমানে প্রবেশের পর ওই অপহরণকারীকে ঘায়েল করতে মাত্র বারো সেকেন্ড সময় নিয়েছিল এনএসজি কম্যান্ডোরা৷ আর গোটা অপারেশন শেষ হতে সময় লেগেছিল মোট পাঁচ মিনিট৷

অপহরণকারীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য বিমান ছিনতাইকারীকে পঞ্জাব পুলিশের হাতে তুলে দেয় এনএসজি কম্যান্ডোরা৷ কিন্তু সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়৷ যদিও একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে পরে চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলা হয়, অমৃতসর বিমানবন্দরে ওই অপহরণকারীকে জেরা করার পরেই তার রহস্যমৃত্যু হয়৷

First published: April 25, 2020, 5:19 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर