আট মাস ধরে মাটি খুঁড়ে ছেলেকে খুঁজছেন, সেনা জওয়ানের বৃদ্ধ বাবার অসহায় অবস্থা

আট মাস ধরে মাটি খুঁড়ে ছেলেকে খুঁজছেন, সেনা জওয়ানের বৃদ্ধ বাবার অসহায় অবস্থা

সেনা জওয়ান ছেলে আট মাস ধরে বাড়ি ফেরেনি। আর ফিরবেও না। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে ছেলেকে চিরবিদায় দিতে পারছে না হতভাগ্য বাবা।

সেনা জওয়ান ছেলে আট মাস ধরে বাড়ি ফেরেনি। আর ফিরবেও না। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে ছেলেকে চিরবিদায় দিতে পারছে না হতভাগ্য বাবা।

  • Share this:

    #শ্রীনগর:

    গত তিন দশকে জম্মু-কাশ্মীর প্রায় আট হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউই সেনা জওয়ান ছিলেন না। শাকির মনজুর প্রথম সেনা জওয়ান, যাঁকে জঙ্গিরা অপহরণ করেছিল প্রায় আট মাস আগে। অপহরণের পরদিনই তাঁর গাড়ির খোঁজ পাওয়া যায় কুলগাঁওতে। সেই গাড়ি পুরো জ্বলে গিয়েছিল। আর শাকিরের রক্তে মাখা জামা পাওয়া গিয়েছিল বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এক জায়গায়। কিন্তু গত আট মাস ধরে তাঁর কোনও খোঁজ নেই। সেনা ও পরিবার মনে করছে, শাকির আর বেঁচে নেই। তাঁকে জঙ্গিরা তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে। শাকিবের বাবা মঞ্জুর আহমেদ বাগে গত আট মাস ধরে ছেলের মৃতদেহের খোঁজ করছেন। কিন্তু তাঁর দুর্ভাগ্য এতটাই, ছেলেকে শেষ বিদায় পর্যন্ত জানাতে পারছেন না।

    শাকিরের কাকাতো ভাই দাবি করেছিলেন, তিনি স্বপ্নে বড় দাদাকে দেখেছেন। শাকির স্বপ্নে এসে তাঁকে জানিয়েছিলন, তাঁর মৃতদেহ সেখানেই পুঁতে দেওয়া হয়েছে যেখানে তাঁর রক্তে মাখা জামা কাপড় পাওয়া গিয়েছিল। এর পরই মনজুর আহমেদ ওই এলাকায় অনেক জায়গায় মাটি খুঁড়েছেন। কিন্তু কোথাও ছেলের মৃতদেহ পাননি। চোখের জল মুছে বৃদ্ধ বাবা বলছেন, ''আমি জানি ও আর বেঁচে নেই। জঙ্গিরা ওকে খুন করেছে। আট মাস ধরে আমি ঘুমোইনি। কী করে ঘুমবো! আমার ছেলেকে কবর দিতে না পারলে ঘুম আসবে না। আমি জানি ওকে কে মেরেছে! যে চারজন জঙ্গি ওকে মেরেছিল তারা কেউ আর এখন বেঁচে নেই। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে খতম হয়েছে। আমি সব জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু আমার ছেলের অপহরণের দায় কেউ নেয়নি। এদিকে পুলিশের রেকর্ডে এখনও ওকে নিখোঁজ বলে জানানো হচ্ছে। কেন ওকে শহিদ বলে ঘোষণা করা হবে না! আমার ছেলে তো দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। ওকে জঙ্গিরা তুলে নিয়ে গিয়ে খুব কষ্টের মৃত্যু দিয়েছে। আমার ছেলে সেই কষ্ট সহ্য করেছে। তবুও দেশের বিরুদ্ধে যায়নি।''

    আট মাস আগে যেদিন শাকির অপহরণ হয় সেদিন ঈদ ছিল। তার বাবা বলছিলেন, ''সেদিন দুপুরে ও বাড়িতে এসেছিল। সবার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করল। তারপর আমাকে ফোন করে জানাল, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছে। সেনার তরফে কেউ এসে ওর খোঁজ করলে আমি যেন কিছু না জানাই। কিন্তু আমি বুঝতে পেরেছিলম ওর কোনও বিপদ হয়েছে। পরে জানতে পারি, ততক্ষণে ওর অপহরণ হয়ে গিয়েছিল। জঙ্গিরা ওকে শেষবার বাড়িতে ফোন করতে বলেছিল। ওর মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জঙ্গিরা দাবি করে, শাকিরের মৃতদেহ ওরা পরিবার বা সেনার হাতে তুলে দেবে না। এটাই নাকি ওদের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ। আমার ছেলেকে শেষবারের জন্য দেখতে পাচ্ছি না। সম্মানের সঙ্গে ওকে চিরবিদায় দিতে পারছি না। এর থেকে যন্ত্রণার আর কী আছে।''

    Published by:Suman Majumder
    First published: