corona virus btn
corona virus btn
Loading

গণধর্ষিতাকেই হাজতবাসের নির্দেশ, প্রতিবাদে পটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি ৩৭৬ জন আইনজীবীর

গণধর্ষিতাকেই হাজতবাসের নির্দেশ, প্রতিবাদে পটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি ৩৭৬ জন আইনজীবীর
প্রতীকী ছবি৷

এই চিঠি পাওয়ার পরই বুধবার বিকেলে আরারিয়া সেশন জজের কাছ থেকে মামলাটি নিয়ে তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে পটনা হাইকোর্ট৷

  • Share this:

#বিহার: মূল অভিযুক্তরা এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছে, অথচ জেলে যেতে হল গণধর্ষিতাকে৷ এমনই অভিযোগ উঠেছে বিহারের আরারিয়া জেলায়৷ নিম্ন আদালতের এই নির্দেশের বিরোধিতা করে পটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখলেন দেশের ৩৭৬ জন আইনজীবী৷ ওই নির্যাতিতার সঙ্গে অসংবেদনশীল ব্যবহারের অভিযোগ তুলে পটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে ওই প্রতিবাদ পত্রে৷

কয়েকদিন আগেই বাইশ বছর বয়সি ওই তরুণী তাঁর এক পরিচিতের সঙ্গে মোটরবাইকে করে ঘুরতে বেরোন৷ অভিযোগ, ওই পরিচিতের চার বন্ধু মিলে তরুণীর উপর অত্যাচার শুরু করে৷ তরুণীকে একা ফেলে পালিয়ে যায় ওই পরিচিত ব্যক্তি৷ গণধর্ষণের পর আহত অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে জন জাগরণ সংস্থান নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা৷ তাঁরাই তরুণীকে উদ্ধার করে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান৷ কিন্তু গণধর্ষিতা হওয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও তরুণীর প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখান৷ এর পরে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফেই তাঁর দেখভাল শুরু হয়৷ পুলিশে অভিযোগও দায়ের হয়৷

ঘটনার চার দিন পরে তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে আরারিয়া সেশন জজের কোর্টে এই মামলাটি ওঠে৷ অভিযোগ, তাঁর বয়ান অনুবাদ করার পর একটি কাগজে সই করতে বলা হয় নির্যাতিতাকে৷ কিন্তু তিনি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দুই সদস্যকে ওই বয়ান দেখাতে হবে৷ বিচারকের কাছেও একই দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা৷ তা নিয়েই বিবাদের সূত্রপাত৷ শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে এবং হতাশায় আদালত কক্ষের মধ্যেই চিৎকার, চেঁচামেচি শুরু করেন ওই তরুণী৷ তাতে ক্ষুব্ধ ওই তরুণী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দুই প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেন বিচারক৷ এর পর তাঁদের প্রত্যেককে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে জেলে পাঠানো হয়৷

এই খবর সামনে আসার পরই বিভিন্ন মহলে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়৷ পটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে ইন্দিরা জয়সিং, প্রশান্ত ভূষণের মতো দেশের বিখ্যাত আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই ধরনের মামলা শোনার ক্ষেত্রে আরও ধৈর্যশীল হতে হবে আদালতকে৷ তরুণীর প্রতি বিচারক অতিরিক্ত কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে৷ পটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে তরুণীকে জেলে রাখলে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হবে৷

এই চিঠি পাওয়ার পরই বুধবার বিকেলে আরারিয়া সেশন জজের কাছ থেকে মামলাটি নিয়ে তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে পটনা হাইকোর্ট৷ বৃহস্পতিবার থেকেই মামলাটির শুনানি শুরু হওয়ার কথা৷

এতকিছুর মধ্যেও এই ঘটনায় পুলিশি তদন্তে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি৷ অপরাধে মদত দেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছে পুলিশ৷ কিন্তু যে চারজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, তারা এখনও পলাতক৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: July 17, 2020, 1:40 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर