• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • পচা-বাসি খাবার, মল-মূত্রে মাখামখি...ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরে ১০ বছর ধরে বন্দি ৩ ভাই-বোন

পচা-বাসি খাবার, মল-মূত্রে মাখামখি...ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরে ১০ বছর ধরে বন্দি ৩ ভাই-বোন

গুজরাতের রাজকোট শহর... ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরে দিন কাটান ৩ ভাই-বোন... এক দিন, ২ দিন নয়... গত ১০ বছর ধরেই সেই ঘরে বন্দি তাঁরা

গুজরাতের রাজকোট শহর... ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরে দিন কাটান ৩ ভাই-বোন... এক দিন, ২ দিন নয়... গত ১০ বছর ধরেই সেই ঘরে বন্দি তাঁরা

গুজরাতের রাজকোট শহর... ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরে দিন কাটান ৩ ভাই-বোন... এক দিন, ২ দিন নয়... গত ১০ বছর ধরেই সেই ঘরে বন্দি তাঁরা

  • Share this:

    #গুজরাত: গুজরাতের রাজকোট শহর... ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরে দিন কাটান ৩ ভাই-বোন... এক দিন, ২ দিন নয়... গত ১০ বছর ধরেই সেই ঘরে বন্দি তাঁরা... ৩ জনের বয়স ৩০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। তিনজনই উচ্চ শিক্ষিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিও রয়েছে! কিন্তু আচমকা এরকম জীবন কেন বেছে নিলেন তাঁরা ? ৩ ভাই বোনের বাবার মতে, মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই বদলাতে থাকে তাঁর ৩ ছেলেমেয়ে। মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। একটা সময়ের পর তাঁরা নিদেজের ঘরে বন্দি করে রাখেন। কিন্তু পাড়া-প্রতিবেশীদের অন্য মত! তাঁদের কথায়, বাবা কুসংস্কারাচ্ছন্ন... যাতে ছেলে মেয়েদের উপর কেউ কালাযাদু না করতে পারে, তাই তাঁদের ঘরে বন্দি করে রেখেছিলেন।

    অবশেষে 'সাথী সেবা গ্রুপ' নামে একটি এনজিও তিন ভাই-বোনকে বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে। রবিবার সন্ধেবেলা রাজকোটের কিশানপাড়া অঞ্চলের বাসিন্দা এই ৩ ভাই বোনের বাড়িতে হানা দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজন। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখেন ঘর মিশকালো অন্ধকার, সূর্যের আলো আসার পর্যন্ত কোনও রাস্তা নেই। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বাসি-পঁচা খাবার, মল-মূত্রের দুর্গন্ধে ঘরে টেকা দায়। ৪২ বছরের অমৃশ মেহতা, ৩৯ বছরের মেঘনা মেহতা, ৩০ বছরের ভবেশ মেহতা মাটিতে শুয়ে ছিলেন। তিন জনের শরীরেই অপুষ্টির ছাপ স্পষ্ট, মাথার চুলে জট, লম্বা দাড়িতে মুখ ঢাকা, শরীরে ধুলো-বালি!

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজনেরা আসার পরই তড়িঘড়ি ছুটে আসেন ৩ সন্তানের বাবা, পেশায় সরকারী কর্মী নবীনভাই মেহতা। তিনি জানান, ১০ বছর আগে মা মারা যাওয়ার পরই ঘরে নিজেদের স্বেচ্ছায় বন্দি করে নেন তাঁর ৩ সন্তান। বড় ছেলে আইনজীবী ছিলেন, মেয়ের মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। সব থেকে ছোট সন্তান ইকোনমকিক্সে স্নাতক, খুব ভাল ক্রিকেট খেলতেন। নবীনভাই মেহতা জানান, ১৯৮৬ সালে থেকেই তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন থেকেই বাড়ির বাইরে পা রাখা বন্ধ করে দেন তাঁর ৩ সন্তান। ৬ বছর পর স্ত্রী মারা গেলে সন্তানেরা নিজেদের সম্পূর্ণ ঘরবন্দি করে ফেলেন। বাবা জানান, তিনি প্রতিদিন ঘরের বাইরে খাবার রেখে আসেন। তাঁর দাবি, কয়েকজন আত্মীয় নাকি তাঁর ছেলেমেয়েদের উপর কালাজাদু করেছিল।তার পর থেকেই তাঁরা এভাবে নিজেদের অন্ধকার ঘরে বন্দি করে রেখেছে।

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, তিন ভাই-বোনকে ঘরের বাইরে বের করে আনা হয়। তাঁদের স্নান করিয়ে, দাড়ি-গোঁফ কেটে, নতুন জামা পরানো হয়েছে।

    Published by:Rukmini Mazumder
    First published: