১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ঋতুস্রাব শুরু হয়নি কিশোরীর, জানা গেল আসলে সে পুরুষ!

১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ঋতুস্রাব শুরু হয়নি কিশোরীর, জানা গেল আসলে সে পুরুষ!
প্রতীকী চিত্র ।

১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ঋতুস্রাব শুরু হচ্ছিল না তার । পরে চিকিৎসক জানান, নারী হয়ে জন্মালেও আসলে ওই কিশোরীর শরীরে একজন পুরুষের জিন রয়েছে ।

  • Share this:

    #পুণে: বিধাতা পুরুষের খেয়ালে এ পৃথিবীতে কতরকম অদ্ভুত ঘটনাই ঘটে । সৃষ্টির জাদুকাঠি যাঁর হাতে তাঁর মর্জির এমন খামখেয়ালিপনা আমাদের মেনে নিতে হয় বইকি । বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি মানুষ থাকলেও প্রত্যেকে প্রত্যেকের থেকে কতটা আলাদা । কারও সঙ্গে মিল নেই অন্য কারও । তার মধ্যেই অনেকে থাকেন, সাধারণের থেকে অনেকটা অন্যরকম । যেমন মহারাষ্ট্রের পুণের বছর পনেরোর এই কিশোরী । ছোট থেকে নিজেকে একরকম ভাবে জেনে এসেছে, চিনে এসেছে সে । হঠাৎই তার কাছে নিজের পরিচয়টাই ঘেঁটে গেল চিকিৎসকদের একটা কথায় ।

    ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ঋতুস্রাব শুরু হচ্ছিল না তার । পরিবারের লোকেরা তাই তাঁদের মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসকদের কাছে । এরপরেই জানা যায়, বাইরে থেকে সে একজন মহিলা হলেও তার শরীরে পুরুষের ক্রোমোজোম রয়েছে ।

    চিকিৎসকদের পরিভাষায় একে অ্যান্ড্রোজেনইনসেনসিটিভিটি সিন্ড্রোম বলে । এ ক্ষেত্রে শিশুর জন্ম হয় বাইরে থেকে নারী রূপে, কিন্তু জিনগতভাবে সে একজন পুরুষ । এই ঘটনা জানার পর ওই কিশোরীর বাবা-মা সিদ্ধান্ত নেন অস্ত্রোপচারের । যাতে সম্পূর্ণ ভাবে একজন নারী হয়ে তাঁদের মেয়ে বাকি জীবনটা নিজের প্রকৃত পরিচয়ে বেঁচে থাকতে পারে ।


    রুবি হল ক্লিনিকের গাইনোকোলজিস্ট ও এন্ডোস্কপিক বিভাগের চিকিৎসক মণিশ ম্যাচেভ জানাচ্ছেন, ওই কিশোরীর আংশিক অ্যান্ড্রোজেনইনসেনসিটিভিটি সিন্ড্রোম ছিল । অ্যান্ড্রোজেন হল পুরুষ সেক্স হরমোন । এই সিন্ড্রোম যাঁদের মধ্যে থাকে, তাঁদের দেহ পুরুষ হরমোনের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে যায় । আংশিক সিন্ড্রোমের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর সংমিশ্রণ দেখা যায় । সে ক্ষেত্রে স্তন তৈরি হয় না, ভার্জিনাল গঠনও স্বাভাবিক হয় না । পাশাপাশি ইউটেরাস এবং ওভারিও তৈরি হয় না । ফলে ঋতুস্রাবও শুরু হয় না ।

    কিশোরীকে সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেন চিকিৎসকরা । ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলি অস্ত্রোপচার করা হয় তার দেহে । প্রথমেই অপরিণত টেস্টিস বাদ দেওয়া হয় ল্যাপরোস্কপির মাধ্যমে । এরপর হয় ব্রেস্ট অগমেন্টেশন সার্জারি । এরপর ওই কিশোরীর শরীরে হরমোনাল ইনজেকশন দেওয়া হবে, যাতে পুরুষালী বৈশিষ্ট্যগুলি তার শরীরে দেখা না দেয় ।

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ১৮ বছর বয়স হলেই ল্যাপরোস্কপিক ভ্যাজিনোপ্লাস্টি হবে । এরপরেই একজন সম্পূর্ণ নারী রূপে সাধারণ জীবন কাটাতে পারবে ওই কিশোরী । তবে কোনওদিনই মা হতে পারবে না সে । যেহেতু ইউটেরাস এবং ওভারি তৈরি হয়নি ওই কিশোরীর শরীরে । ফলে ঋতুস্রাবও কোনওদিনই হবে না তার ।

    Published by:Simli Raha
    First published: