অভাবের তাড়নায় ১০ বছরের ছেলে মোজা বিক্রেতা! স্কুলে ফেরালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী

সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে স্কুল ছাড়তে হয়েছে তাকে। পড়াশোনার ইচ্ছে ছিল মনে। কিন্তু উপায় নেই।

সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে স্কুল ছাড়তে হয়েছে তাকে। পড়াশোনার ইচ্ছে ছিল মনে। কিন্তু উপায় নেই।

  • Share this:

    #চণ্ডীগড়:

    মাত্র ১০ বছর বয়স তার। এই বয়সেই সংসারের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে সে। অবশ্য এছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না তাঁর কাছে। সংসারে চরম দারিদ্র্য। তার ওপর ভাড়া বাড়িতে থাকা। চার ভাই-বোনের সংসার। বাবার যা উপার্জন তাতে দুবেলা পেট ভর্তি খাবার জোটে না। এমন পরিস্থিতিতে তাকেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হত। ১০ বছর বয়সেই সে যেন অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় নেমে পড়েছে ফেরি করতে। সিগনালে গাড়ি দাঁড়ালে সামনে গিয়ে মোজা বিক্রির চেষ্টা করে সে। তবে কখনো কারো কাছ থেকে এক টাকাও বেশি নেয়নি সে। কেউ দিতে চাইলেও না। যতটুকু তার পাওনা, ততটুকুই বুঝে নেয় দশ বছরের বংশ সিং।

    সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে স্কুল ছাড়তে হয়েছে তাকে। পড়াশোনার ইচ্ছে ছিল মনে। কিন্তু উপায় নেই। এত কম বয়সে আজ মোজার ফেরিওয়ালা বংশ। রাস্তায় ফেরি করে মোজা বিক্রি করে সংসার চালাতে হয় তাকে। তার বাবাও অবশ্য মোজা বিক্রেতা। তবে বাবার যা আয় তাতে সংসার ভালভাবে চলে না। মা গৃহবধূ। সব মিলিয়ে চার ভাই বোনের সংসার। একজন গাড়ির চালক বংশের থেকে একজোড়া মোজা কিনেছিলেন। মোজার দাম চুকিয়ে তিনি বংশকে বাড়তি ৫০ টাকা অতিরিক্ত দিতে চেয়েছিলেন। ১০ বছরের বংশ সেই টাকা নেয়নি। বংশের এই বয়সে ফেরিওয়ালা হয়ে যাওয়ার কাহিনী শুনে সেই গাড়ি চালক মর্মাহত হন। তাই ৫০ টাকা বাড়তি দেবেন ভেবেছিলেন। যদি ওই টাকায় বংশের কিছু সহায়তা হয়! কিন্তু দশ বছরের বংশ আত্মাসম্মনে ভরপুর। সে ওই অতিরিক্ত ৫০ টাকা নিতে চায়নি।

    ১০ বছরের ছেলের সেই আত্মসম্মানবোধ মুগ্ধ করেছিল সেই চালককে। এর পরই তিনি বংশের একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। আর সেই ভিডিও তুলে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। একের পর এক হাত ঘুরে সেই ভিডিও পৌঁছে যায় পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংয়ের কাছে। এর পরই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন দশ বছরের বংশের সঙ্গে।

    অমরিন্দর সিং সংশ্লিষ্ট জেলা শাসককে নির্দেশ দেন, যেন অবিলম্বে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয় বংশকে! তার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহন করবে পাঞ্জাব সরকার। এমনকী বংশের পরিবারকে অবিলম্বে দু লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। জেলাশাসক ইতিমধ্যে বংশকে স্কুলে ভর্তি করার তোড়জোড় শুরু করেছে। শিশুশ্রম নিয়ে চারপাশে কত কথাই না হয়। শিশু শ্রমিকদের অসহায়তা আমাদের চোখে জল আনে। তবুও শিশুশ্রম বন্ধ হয় না। রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় লাখ-লাখ বংশ। কেউ সরকারের চোখে পড়ে। বেশিরভাগই সরকারের চোখে এড়িয়ে যায়।

    Published by:Suman Majumder
    First published: