Home /News /nadia /
৫৫ বছর বয়সে সেরা হাই জাম্প! সোনা জয় বাঙালি গৃহবধূর

৫৫ বছর বয়সে সেরা হাই জাম্প! সোনা জয় বাঙালি গৃহবধূর

Woman wins gold in sports: ইন্ডিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে সোনা জয় গৃহবধূ হাসিরাশির

  • Share this:

    #নদিয়া: কথায় আছে "যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে"৷ প্রমাণ করলেন রানাঘাটের গৃহবধূ হাসিরাশি দে৷ ৫৫ বছর বয়সে ইন্ডিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে সোনা জয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সকলকে। সোনা জয়ের কথাটা যত সহজে বলা যায়, হাসিরাশি দে-র যাত্রা পথটা তত সহজ ছিল না৷ স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত৷ একদিকে স্বামীকে সুস্থ করে তোলা৷ অন্যদিকে সংসারের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের বড় করে তুলতে হবে৷ এর পাশাপাশি নিজের খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া সহজ কাজ ছিল না৷ কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন রানাঘাটের গৃহবধূ হাসিরাশি দে৷

    নদিয়ার রানাঘাটের দেচৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা হাসিরাশি দে। ১৯৮৬ সালের রানাঘাটের দে চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা পেশায় রেলকর্মী আশীসকুমার দে’র সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯৯৯ সালে স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে চাকরি থেকে সরে আসেন৷ নতুন লড়াই শুরু হয় হাসিরাশির৷

    আরও পড়ুন 1 Crore BMW in River: নদীতে ভাসছে ১ কোটি টাকার BMW গাড়ি! কোনও দুর্ঘটনা নয়, কারণ খুব বেদনাদায়ক

    ছোট বেলা থেকেই খেলাধুলো ভালবাসতেন তিনি৷ উত্তর ২৪ পরগনায জেলার কাঁচরাপাড়ার সতীশ চণ্ডী রোডে ছিল বাপের বাড়ি৷ ছোট বেলায় সেখানকার মাঠেই খেলাধুলো করতেন তিনি৷ বিয়ের পরও খেলাধুলো বন্ধ করেননি৷ অনুশীলনের জন্য মাঝেমধ্যেই ছুটে গিয়েছেন কাঁচরাপাড়ায়। ইচ্ছে ছিল একদিন দেশের সেরা হব। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাঁর।

    ইন্ডিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে সোনা জয় করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নদীয়ার হাসিরাশি দে। তামিলনাড়ুর আন্না স্টেডিয়াম হাই জাম্পের দক্ষতায় তাঁর ধারে কাছে কেউ ছিল না। ৫৫ বয়সে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি।

    গত ২০ থেকে ২২ মে তামিলনাড়ুর আন্না স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স। সেখানেই ৩৪ থেকে ৮০ বছর বয়সি প্রতিযোগীদের সঙ্গে হাই জাম্পে অংশ নিয়েছিলেন পঞ্চান্নর হাসিরাশি। তাতেই দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছেন তিনি।

    আরও পড়ুন  Health News: ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যাবে ১৬ টি ওষুধ

    হাসিরাশি-র কথায় এই সাফল্যে স্বামীকে সব সময় পাশে পেয়েছেন৷ আগামী দিনে ডাক পেলে শহরে কোনও স্কুলে ছোট ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে চান তিনি। তবে সোনা জয়ের পরে বাড়ি ফেরার পথে চেন্নাইতে স্বামীর চিকিৎসাও করিয়েছেন বধূ। তারপর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তাঁর সাফল্যে খুশি বিবাহিত মেয়ে ব্রততী বণিক, ছেলে পল্লব দে ও বউমা টুম্পা দে। সহপাঠীদের কথায়, প্রথম থেকেই ওর মধ্যে একটা অদম্য জেদ ছিল,তারই ফল এটা৷ অদম্য জেদ ও ইচ্ছা থাকলেই সম্ভব৷

    Published by:Pooja Basu
    First published:

    Tags: South bengal news

    পরবর্তী খবর