• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • স্কুলের দুঃস্থ শিশুদের মাঝে ছেলের জন্মদিন পালন শিক্ষক দম্পতির

স্কুলের দুঃস্থ শিশুদের মাঝে ছেলের জন্মদিন পালন শিক্ষক দম্পতির

A couple of teachers celebrating their son's birthday with needy children

A couple of teachers celebrating their son's birthday with needy children

বিলাস বহুলতা বাদ দিয়ে দুঃস্থ শিশুদের মধ্যে কেক কেটে ছেলের জন্মদিন পালন করলেন এক শিক্ষক দম্পত্তি।

  • Share this:

    #মেদিনীপুর:   (Midnapore) বিলাস বহুলতা বাদ দিয়ে দুঃস্থ শিশুদের মধ্যে কেক কেটে ছেলের জন্মদিন পালন করলেন এক শিক্ষক দম্পত্তি। হাজার লোককে খাইয়ে নয় বরং দুঃস্থ বাচ্চাদের মধ্যে কেক কেটে নিজের একমাত্র পুত্রের জন্মদিন পালন করলেন শিক্ষক দম্পতি। পেটপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে দেওয়া হল উপহার জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিশুদের। আর পাঁচটা শিক্ষকের মত নয়, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়ে, দুঃস্থ শিশুদের নিয়ে কেক কাটা ও ভুরি ভোজের মধ্য দিয়ে নিজের ছেলে তৃণভের জন্মদিন পালন করল শিক্ষক অনির্বাণ দাস।

    প্রসঙ্গ ক্রমে বলা যায়, পেশায় শিক্ষক অনির্বাণ দাসের পুত্র তৃণভ দাস (আনশু) এবারে ৫ বছরে পা দিল। ছোটবেলা থেকেই তৃণভকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন। যদিও আর পাঁচটা শিক্ষক, শিক্ষিকাদের থেকে আলাদা। কেননা তারা হৈ-হুল্লোড়, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে বিরাট জাকজমকপূর্ন আয়োজন করে জন্মদিন পালন না করে বরং দুঃস্থ শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন করলো আর তা নিয়ে বৃহস্পতিবার উৎসবের চেহারা নিল মেদিনীপুর (Midnapore)সদর ব্লকের একটি স্কুল।

    মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক অনির্বাণ দাস ও তার স্ত্রী সুপর্ণা দাস বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর চালিয়ে মেদিনীপুর সদর ব্লকে একটি স্কুলের সন্ধান পান। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দুঃস্থ শিশুরা পড়াশোনা করে একসাথে। সেই বাচ্চাদেরকে নিজেদের ভেবে তারা বৃহস্পতিবার ঐ স্কুলে গিয়ে কেক কেটে ছেলে তৃণভের জন্মদিন পালন করলো তৃনভের বাবা মা। কেক কাটার পর ছিল খাওয়া দাওয়ার এলাহি আয়োজন। পাতে ছিল আলু ভাজা, ভাত, ডাল, আলু পোস্ত, মাংস, চাটনি, পাপড় এবং মিষ্টি সঙ্গে ছিল জন্মদিনের পায়েস। এছাড়াও বাচ্চাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো উপহার। আর এইসব আয়োজনে খুশির হাওয়া এই দুস্থ ও মেধাবী শিশুদের মধ্যেও। এদিন সকাল থেকেই বেলুন সাজিয়ে জন্মদিনের আয়োজন চলে সঙ্গে কেক কাটার মজা।

    অনির্বাণ দাস এবং স্ত্রী সুপর্ণা দাস বলেন, তৃণভ আমাদের একমাত্র ছেলে। আমরা এই covid বিপর্যয়ের মাঝে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এই পরিস্থিতে আর পাঁচটা পরিবারের মতো সবার সঙ্গে হইহুল্লোড় করে হাজার লোককে খাওয়ানোর কোনও ইচ্ছে আমাদের ছিল না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এই স্কুলের বাচ্চাদের মধ্যে জন্মদিন পালন করার। তাই তাদের যেমন খাওয়া-দাওয়া করিয়েছি, তেমনি কেক কেটে ছেলে তৃনভের সমস্ত সখ আহ্লাদ পূরণ করেছি।

    যদিও তৃণভ আর দশটা বাচ্চাদের থেকে আলাদা।  ছোটবেলা থেকে যা দেখে তাই আঁকে। সে উল্টো ভাবে ৯৯ থেকে ১ লিখতে পারে। সকাল সন্ধে নয় বরং তৃণভের পড়াশোনাও রাত্রি বারোটার পর। চলে রাত্রি তিনটে পর্যন্ত। তাই তৃণভের ইচ্ছে ছিল তার জন্মদিন এইভাবে পালন করার, আমরা কেবল মাত্র তার পাশে থেকে তাকে উৎসাহ দিতে পেরেছি।

    Partha Mukherjee

    Published by:Piya Banerjee
    First published: