• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • দুর্গাপুরে ফের চর্চায় সুচেতা কাণ্ড, নেপথ্যে মামড়াবাজারের ব্যাঙ্ক

দুর্গাপুরে ফের চর্চায় সুচেতা কাণ্ড, নেপথ্যে মামড়াবাজারের ব্যাঙ্ক

এই আবাসনে ভাড়া থাকতেন বিপ্লব পরিধা ও ইপসা প্রিয়দর্শিনী।

এই আবাসনে ভাড়া থাকতেন বিপ্লব পরিধা ও ইপসা প্রিয়দর্শিনী।

সুচেতা হত্যাকাণ্ডের মূল ভিলেন সমরেশ সরকার যে ব্যাঙ্কে কর্মরত ছিলেন, সেই ব্যাঙ্কেই কর্মরত ছিলেন বিপ্লব পরিধা

  • Share this:

    #দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে ফের চর্চায় উঠে এসেছে সুচেতা কান্ড। একই রকম দুটি কাকতালীয় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছয় বছরের পুরনো একটি হত্যাকাণ্ড আবার মনে পড়ছে দুর্গাপুরবাসীর। প্রেমিকা সুচেতা চক্রবর্তী ও তার ছ\'বছরেরকে মেয়েকে খুন করে, দেহ টুকরো টুকরো করে মাছ গঙ্গায় ফেলে দিয়েছিলেন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার সমরেশ সরকার। দুর্গাপুরের বাসিন্দা সুচেতা চক্রবর্তীর এমন নৃশংস হত্যা, আলোড়ন ফেলেছিল রাজ্যজুড়ে। একইভাবে গত রবিবার রাতে ব্যাঙ্কের এক সহকারি ম্যানেজার বিপ্লব পরিধা, কুকুরের বেল্ট গলায় জড়িয়ে খুন করেছেন নিজের স্ত্রীকে। কাকতালীয়ভাবে সমরেশ সরকার যে ব্যাঙ্কে ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন, সেই ব্যাঙ্কেই বর্তমানে সহকারি ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন বিপ্লব। স্ত্রী ইপসা প্রিয়দর্শনীকে খুন করে, থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

    দুর্গাপুর বামুনআড়ায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন বিপ্লব পরিধা। কিছুদিন আগেই উড়িষ্যার বাসিন্দা ইপসা প্রিয়দর্শিনীর সঙ্গে বিয়ে হয় বিপ্লবের। বিপ্লব দুর্গাপুরের মামড়াবাজারে একটি ব্যাঙ্কের সহকারী ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। রবিবার রাত্রে স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তির জেরে তাকে খুন করেন বিপ্লব। ঘরে থাকা পোষ্য স্প্যানিশ কুকুরের বেল্ট, গলায় জড়িয়ে খুন করেন  স্ত্রীকে। পরে কাঁকসা থানায় গিয়ে নিজেই আত্মসমর্পণ করেন। প্রথমেই বিপ্লবের কথায় হকচকিয়ে যায় পুলিশ। পরে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ইপসার দেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

    এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়ায় দুর্গাপুরে। ফের চর্চায় উঠে আসে সুচেতা কান্ড। উঠে আসে সমরেশ সরকারের নাম। নেপথ্যে রয়েছে মামড়াবাজারের ব্যাঙ্কটি। বছর ছয়েক আগে রাজ্য তোলপাড় করে দেওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল ভিলেন, সমরেশ সরকার যে ব্যাঙ্কে ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন, সেই ব্যাঙ্কেই কর্মরত ছিলেন বিপ্লব পরিধা। স্বাভাবিকভাবে এই কাকতালীয় ঘটনা থেকে উঠে আসছে সুচেতা হত্যাকাণ্ড।

    ঘটনার জেরে ছয় সমস্যায় পড়েছেন ব্যাঙ্কের কর্মীরা। ছয় বছর আগে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের কুকীর্তির জেরে ফাঁপরে পড়তে হয়েছিল ব্যাঙ্কের সমস্ত কর্মচারীকে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, ফের একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে, সমস্যার সম্মুখীন মামড়াবাজারের ব্যাঙ্কের কর্মীরা।

    গত রবিবারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বিপ্লব পরিধা, সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছিলেন, স্ত্রীর নিত্যদিনের নতুন নতুন বায়নাক্কা সহ্য করতে না পেরে, এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। যদিও সুচেতা কাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। বিধাননগর হাউসিং কলোনির বাসিন্দা, বছর পঁচিশের সুচেতা চক্রবর্তী ও তার ছয় বছরের মেয়েকে নৃশংসভাবে খুন করেছিলেন সমরেশ সরকার। দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে, স্যুটকেসে ভরে মাঝ গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বামুনাআড়ার বাসিদা ব্যাঙ্কের সহকারী ম্যানেজারের কীর্তি ততটা নৃশংস নয়। তবে ছয় বছর পরে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন একই ব্যাঙ্কের সহকারী ম্যানেজার। কাকতালীয় এই ঘটনায় সমস্যায় পড়েছেন মামড়াবাজারের ব্যাঙ্কের কর্মীরা ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: