• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • সকাল থেকেই বরুনদেবের অকৃপণ বর্ষণ, কাদা-জলে জামাইষষ্ঠী

সকাল থেকেই বরুনদেবের অকৃপণ বর্ষণ, কাদা-জলে জামাইষষ্ঠী

পশ্চিম বর্ধমান জেলা ভিজেছে অক্লান্ত বৃষ্টিতে। জল থৈ থৈ জেলার বেশিরভাগ জায়গা। যার জেরে জামাইষষ্ঠীর বাজার মার খেয়েছে।

পশ্চিম বর্ধমান জেলা ভিজেছে অক্লান্ত বৃষ্টিতে। জল থৈ থৈ জেলার বেশিরভাগ জায়গা। যার জেরে জামাইষষ্ঠীর বাজার মার খেয়েছে।

পশ্চিম বর্ধমান জেলা ভিজেছে অক্লান্ত বৃষ্টিতে। জল থৈ থৈ জেলার বেশিরভাগ জায়গা। যার জেরে জামাইষষ্ঠীর বাজার মার খেয়েছে।

  • Share this:

    #পশ্চিম বর্ধমান: আবহাওয়া দপ্তরের সাবধান বাণী মতোই বুধবার পশ্চিম বর্ধমান জেলা ভিজেছে অক্লান্ত বৃষ্টিতে। জল থৈ থৈ জেলার বেশিরভাগ জায়গা। যার জেরে জামাইষষ্ঠীর বাজার মার খেয়েছে। বাজার করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হয়েছে শ্বশুরকূল। শ্বশুরবাড়িমুখো জামাইদের রাস্তায় বেরিয়ে অথৈ জলে পড়ার অবস্থা।

    এমনিতেই রাজ্য সরকার কার্যত লকডাউন এর মেয়াদ বাড়িয়েছে ৩০ জুন পর্যন্ত। যার জেরে বন্ধ যানবাহন চলাচল। পাশাপাশি বাজার খোলা ছিল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। দীর্ঘদিন বাজার বন্ধ থাকার ফলে সমস্যার সম্মুখীন ব্যবসায়ীরা। জামাইষষ্ঠীকে কেন্দ্র করে ব্যবসার হাল কিছুটা ফিরতে পারে বলে আশা করেছিলেন বিক্রেতারা। তবে বুধবার সকাল থেকে বরুণদেবের অকৃপণ বর্ষণে মলিন হয়েছে তাদের মুখের হাসি। সকাল থেকেই রীতিমতো বিভিন্ন মাছ সাজিয়ে বসে ছিলেন বিক্রেতারা। মাংসের দোকানে ভিড় হওয়ার আশা ছিল বিক্রেতাদের। শ্বশুরকুল সকালে বেরিয়ে জামাই আদরের জন্য মাছ-মাংস কেনার পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। কিন্তু তুমুল বৃষ্টিতে হাঁসি ফেরেনি ব্যবসায়ীদের মুখে। বাজার করতে গিয়ে কার্যত লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে শ্বশুর-শ্যালকদের। দূরের বাজারের পরিবর্তে কাছের বাজার থেকে আনা হয়েছে জামাই আদরের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য। তুমুল বৃষ্টির জেরে, অনেক জামাইয়ের পাতে ভেটকির বদলে পড়েছে রুই-কাতলা। যদিও তাতে শ্বশুরদের পকেটে কিছুটা সাশ্রয় হয়েছে বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না নেটিজেনরা।

    অন্যদিকে, যানবাহন বন্ধ থাকার ফলে জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুর বাড়ি যেতে পারেননি অনেকে। রাস্তায় যারা বেরিয়েছিলেন, তাদের পোহাতে হয়েছে অনেক ঝক্কি। যদিও কিছু মানুষ নিজের গাড়ি অথবা ক্যাবের উপর ভরসা রেখে রাস্তায় বেরিয়েছেন। যার জেরে জেলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গুলিতেই সকাল থেকে যানবাহনের ভীড় ছিল কিছুটা বেশি। জামাইষষ্ঠীর কথা ভেবে লকডাউনের কড়াকড়িতেও কিছুটা ঢিলেঢালা মনোভাব দেখা গিয়েছে। যাদের শ্বশুর বাড়ি কাছেই, তাদের অনেককেই ভরসা রাখতে দেখা গিয়েছে সাইকেল অথবা এগারো নম্বর গাড়িতে (পায়ে হেঁটে)। জামাইষষ্ঠীতে মানুষজনের এই রাস্তায় বেরোনোকে অনেকেই হাসির ছলে warm-up বলছেন। কারণ বুধবার থেকে বেসরকারি অফিসগুলি 25% কর্মী নিয়ে অফিস চালু করেছে। সরকারি অফিসগুলিও বৃহস্পতিবার থেকে 25% কর্মী নিয়ে শুরু হয়ে যাবে। তবে এখনো বন্ধ যানবাহন। যদিও রেলওয়ের তরফে কিছু স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে। তবে তা যে অফিসযাত্রীদের জন্য যথেষ্ট নয়, সেটাও বুঝতে পারছেন অনেকে। তাই সাইকেল নিয়ে অথবা পায়ে হেঁটে রাস্তায় বেরোনোকে, অফিস যাবার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তাছাড়াও টানা বৃষ্টির জেরে রাস্তায় বেরোনো অন্যান্য মানুষকেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আসানসোল, দুর্গাপুর সহ পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যে জায়গাগুলির নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল, সেই জায়গাগুলির অবস্থা আরও শোচনীয়। তবে এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই, দীর্ঘ গরম এবং আর্দ্রতার কারণে যে অস্বস্তি এবং ভ্যাপসা গরম ছিল, টানা বৃষ্টিতে তার অনেকটাই লাঘব হয়েছে।

    Nayan Ghosh

    Published by:Piya Banerjee
    First published: