হোম /খবর /পশ্চিম বর্ধমান /
বৃষ্টিতে বাদাম চাষে ক্ষতি প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ! চিন্তায় দিন কাটছে চাষীদের

বৃষ্টিতে বাদাম চাষে ক্ষতি প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ! চিন্তায় দিন কাটছে চাষীদের

পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে হয় বাদাম চাষ। প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা।

  • Share this:

#পশ্চিম বর্ধমান: ঘূর্ণাবর্তের জেরে টানা বৃষ্টিতে ভেসেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা। এখনও পর্যন্ত জেলার অনেক জায়গা জলমগ্ন। বিভিন্ন এলাকা জলের তলায়। চরম অসুবিধার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন জায়গার মানুষজন। একই সঙ্গে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন পশ্চিম বর্ধমানের বাদাম চাষিরা। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে হয় বাদাম চাষ। প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা। টানা বৃষ্টিতে তাদের মাথায় হাত। বাদাম চাষে ব্যাপক ক্ষতি। বাদাম চাষের জমিগুলিতে জমেছে জল। ফলে জমিতেই পচে নষ্ট হচ্ছে বাদাম।

কাঁকসা অঞ্চলের বাদাম চাষীরা বলছেন, চলতি বছরে তারা আলু চাষ করেছিলেন। শীতের মরশুমে আলু চাষ করে এ বছর বিশেষ লাভ হয়নি। তাই তারা অনেকেই ঋণ নিয়ে বাদাম চাষ করেছিলেন। আশা করেছিলেন বাদাম চাষ করে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পাবেন তারা। তবে বরুনদেবের অক্লান্ত বর্ষণে, তাদের পরিশ্রম মাটিতে মিশেছে। দীর্ঘ পরিশ্রম করে ফলানো ফসল নষ্ট হচ্ছে জমিতেই। কৃষকরা বলছেন, বাদামগুলি তোলার সময় হয়ে এসেছিল। বাদামের ফলনও ভালো হয়েছিলল। তবে নাগাড়ে বৃষ্টিতে বাদাম চাষের জমিতে জল জমেছে। ফলে জমিতে পচে নষ্ট হচ্ছে বাদাম। ক্ষতি হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাদাম চাষী মেহের আলী খান বলেছেন, প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছিল। এই বছরে কিছু কিছু কৃষক বৃষ্টির আগে নৌকায় করে বাদাম ঘরে তুলেছিলেন। তবে বেশিরভাগ জমিতেই বাদাম এখনো পড়ে রয়েছে। এক নাগাড়ে বৃষ্টির ফলে সেই বাদাম এখন জলের তলায় পচে নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, বাদাম এখন কুইন্টাল প্রতি পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক একজন কৃষকের মাঠে পনেরো থেকে কুড়ি কুইন্টাল করে বাদাম রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় 50 লক্ষ টাকার বাদাম চাষে ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

এই কঠিন সময়ে প্রশাসনের কাছে সাহায্যের হাত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। মেহের আলী খান বলেছেন, আলু চাষের পর বাদাম চাষেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পরিবেশের খামখেয়ালিপনায়। এই কঠিন সময়ে সরকার পাশে না দাঁড়ালে দেনার দায়ে ডুবে যাবেন কৃষকরা। ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হবেন তারা।

এক্ষেত্রে অন্য আর এক কৃষক বলেছেন, কাঁকসা অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষের জীবনযাত্রা নির্ভর করে চাষাবাদের ওপর। আলু চাষের পর বাদাম চাষ করতে, যে ঋণ তারা নিয়েছেন, তা পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হবে তাদের। তিনি আরও বলেছেন, স্থানীয় কিছু কৃষকের জমির পাট্টা থাকলেও, বেশিরভাগ কৃষকদের জমির পাট্টা নেই। ফলে সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে না দাঁড়ালে তাদের জীবনযাত্রা থমকে যাবে। আগামী মরশুমে তাদের চাষ করাও সম্ভব হয়ে উঠবে না। তাই কাঁকসা অঞ্চলের বাদাম চাষিরা বরুনদেবের খামখেয়ালিপনা দেখে, চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন প্রশাসনের দিকে।

Nayan Ghosh

Published by:Piya Banerjee
First published:

Tags: Farming, Paschim bardhaman, Peanut, Rainfall