শ্রমিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা যে ভীষণগুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝিয়ে দিয়েছে এই মহামারী

নিজেদের উদ্যোগেই তারা সংস্থার শ্রমিকদের ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। সবমিলিয়ে সংস্থার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিককে

নিজেদের উদ্যোগেই তারা সংস্থার শ্রমিকদের ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। সবমিলিয়ে সংস্থার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিককে

  • Share this:

    #দুর্গাপুর: করোনা ভাইরাস রুখতে রাজ্য সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। রাজ্যে যা আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত জারিথাকবে। বিশেষজ্ঞ থেকে চিকিৎসক সকলেই বলছেন, রাজ্য সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। কার্যত লকডাউনের সুফলে প্রতিদিন সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। অন্যদিকে আবার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকাএবং গুরুত্বপূর্ণ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বন্ধ থাকার ফলে কাজ হারিয়েছেন অনেক মানুষ। অনেকেই এখনও কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তবে শুধু শ্রমিকরা নন, ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সংস্থাগুলিও। আর এর থেকেইবিভিন্নসংস্থা শ্রমিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। এক কথায় বলা যায়, লাভের মুখ দেখতে হলে, শ্রমিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা যে ভীষণগুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝিয়ে দিয়েছে এই মহামারী।

    এই বিষয়টা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছেন দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি সংস্থা জয় বালাজি কর্তৃপক্ষ। তাই নিজেদের উদ্যোগেই তারা সংস্থার শ্রমিকদের ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। সবমিলিয়ে সংস্থার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিককে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। সহযোগিতায় রয়েছে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধুমাত্র ১০ হাজার নয়, আগামী দিনে যদি আরো বেশি পরিমাণ শ্রমিককে ভ্যাকসিন দিতে হয় তাহলেও তারা সেই কাজ করবেন।

    রাজ্যের মধ্যে প্রথম এই বেসরকারি সংস্থা নিজের শ্রমিকদের ভ্যাকসিন দিতে উদ্যোগী হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অন্দরের খবর, শ্রমিকরা সুরক্ষিত না থাকলে সংস্থা চালানো যে কঠিন, তা কর্তৃপক্ষ খুব ভালভাবেই বুঝতে পেরেছে। করোনা মহামারীর মত কঠিন সময়, শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে না পারলে সংস্থাও বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হবে। তাই রাজ্য সরকার ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে সহযোগিতায় জয় বালাজি কর্তৃপক্ষ নিজের শ্রমিকদের ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য মনস্থির করেছে।

    উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বণিকসভার সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, যদি সমস্ত সংস্থাগুলি নিজেদের উদ্যোগে তাদের কর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে তাদের পাশে থাকবে রাজ্য। সংস্থাগুলিকে ভ্যাকসিন জোগান দেওয়ার পাশাপাশি সবরকম সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার। বণিকসভাও তাতে সায় দিয়েছিল। আর তারপরেই দুর্গাপুরে এই বেসরকারি সংস্থা নিজের বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

    এদিন সংস্থাটির ভ্যাকসিন দেওয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা আইএনটিটিইউসি সভানেত্রী দোলা সেন। তিনি সংস্থার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এভাবে যদি অন্যান্য সংস্থাগুলিও নিজেদের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা রক্ষা করতেএগিয়ে আসে, তাহলে এই মহামারী জয় করা যাবে। পাশাপাশি অর্থনীতিও সচল রাখা যাবে। শ্রমিক এবং সংস্থা, দুই'ই ভালো থাকবে।

    সংস্থার এই উদ্যোগে খুশি সংস্থার কর্মীরাও। তারা বলছেন, যদি তাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে। তাদের কাজ হারানোর আশঙ্কাও কমবে। তারা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: