Home /News /local-18 /
South 24 Parganas News- করোনা কাবু করতে পারেনি গভীর সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবীদের

South 24 Parganas News- করোনা কাবু করতে পারেনি গভীর সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবীদের

করোনা কাবু করতে পারেনি গভীর সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবীদের

করোনা কাবু করতে পারেনি গভীর সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবীদের

অবাক হলেও এটাই সত্যি! করোনা কাবু করতে পারেনি গভীর সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবীদের

  • Share this:

    #দক্ষিণ ২৪ পরগনা: করোনা ভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া এই অতিমারি পরিস্থিতি দু'বছরে আঘাত হেনেছে গোটা বিশ্বের সর্বস্তরের মানুষের জীবন-জীবিকায়। দিনের-পর-দিন করোনার থাবা চওড়া হতেই স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে বিশ্ববাসী। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর ওমিক্রনের জেরে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় যখন কাঁপছে আমজনতা, ঠিক তখনই লক্ষ করা গেল এক আশ্চর্যজনক বিষয়!

    করোনার করাল গ্রাস কাবু করতে পারেনি কিছু সংখ্যক মৎস্যজীবীদের (South 24 Parganas News)। শুনে আশ্চর্য মনে হলেও এটাই সত্যি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের কেউই এখনও অবধি আক্রান্ত হননি কোভিডে। প্রথম, দ্বিতীয় এমনকি হালে ওমিক্রন এর চোখরাঙানির পরেও, স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রেখেছে এই মৎস্যজীবীদের দলে। এমনকি বিষয়টিকে মান্যতা দিয়েছেন মৎস্য দফতরের অধিকর্তা থেকে চিকিৎসক মহলও।

    বিগত দিনে গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, একমাত্র হার্ড ইমিউনিটিতেই কুপোকাত হবে করোনা ভাইরাস। মনে করা হচ্ছে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ও সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির কারণে প্রাকৃতিক ভাবে এই মৎস্যজীবীদের শরীরে তৈরি হয়ে গিয়েছে 'অ্যান্টি বডি' (South 24 Parganas News)। পাশাপাশি স্থলভাগের সঙ্গে কোনরকম সংযোগ না থাকায়, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া এই শ্রেণির মৎস্যজীবীদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটাতে পারেনি। যার ফলেই এখনো পর্যন্ত করোনা মুক্ত থাকতে পেরেছেন, ট্রলারে করে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া এই মৎস্যজীবীর দল গুলি।

    গত মরশুমে মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে পারি দিলেও লাভের মুখ দেখতে পারেননি অধিকাংশ মৎস্যজীবী দলগুলি। ফলে এখন অধিকাংশ দলগুলি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া বন্ধ রেখেছে। কিন্তু কিছু শতাংশ মৎস্যজীবী এখনো গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। জেলা মৎস্য দফতর সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে ট্রলার চলছে প্রায় ৭০০ র কাছাকাছি। সব মিলিয়ে মোট ফিশিংবোট আছে ১৩ হাজারের কিছু বেশি (South 24 Parganas News)। প্রায় আড়াই লক্ষ মৎস্যজীবী জেলায় এই পেশায় যুক্ত। প্রায় সকল মৎস্যজীবীদেরই দুটি করে টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে।

    জেলা সহ-মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) জয়ন্ত কুমার প্রধান নিউজ এইট্টিন লোকাল কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, " ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফ থেকে প্রায় সকল মৎস্যজীবীদের টিকাকরণ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। তবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের কারোর করোনা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। কারণ প্রতিদিনের রোদ জলে, হাড়ভাঙ্গা খাটুনির কারণে হয়তো তাদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারেনি এই মারণব্যাধি। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে ফিরে এহেন ট্রলার গুলির মৎস্যজীবীরা ডাঙ্গার থেকে দূরেই থাকেন। ফলে অন্যান্য মানুষদের সংস্পর্শেও আসেন না তারা। যার ফলে সংক্রমিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। দু'চারদিন ডাঙ্গায় নোঙ্গর করে পুনরায় তারা ১০ - ১২ দিনের জন্য ফিরে যান গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে। তবে মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ করোনা আক্রান্ত হলেও, গভীর সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবী দলের কারোর করোনা আক্রান্তের খবর আমাদের কাছে নেই"।

    বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক রাহুলদেব মন্ডল জানান, "গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার কারণে সংক্রমিত মানুষজনের থেকে দূরে রয়েছেন এই মৎস্যজীবীরা। প্রতিদিন রোদ জলে কঠোর পরিশ্রমের কারণে অ্যান্টিবডি গঠন হয়ে যাওয়ায়, সাধারণত কোন রোগই প্রভাব ফেলতে পারে না। এক্ষেত্রেও হয়তো তেমনটাই হয়েছে বলে আমার ধারণা"। তবে কি প্রাকৃতিক ভাবে শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি-ই ঠেকিয়ে দেবে করোনা সংক্রমণকে? করোনার বাড়বাড়ন্তের মধ্যেও মৎস্যজীবীরা করোনা মুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে আসতেই এই প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠেছে।

    Rudra Narayan Roy
    First published:

    Tags: Corona, Fishermen, South 24 Parganas news

    পরবর্তী খবর