• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • অনলাইনে পুজোর আবেদনে হয়রানির শিকার জেলার পুজো উদ্যোক্তারা

অনলাইনে পুজোর আবেদনে হয়রানির শিকার জেলার পুজো উদ্যোক্তারা

পোর্টাল সমস্যায় হচ্ছে না পুজোর অনুমতির আবেদন

পোর্টাল সমস্যায় হচ্ছে না পুজোর অনুমতির আবেদন

অনলাইনে পুজোর আবেদনে পোর্টাল সমস্যায় হয়রানির শিকার জেলার পুজো উদ্যোক্তারা

  • Share this:

    রুদ্র নারায়ন রায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আর মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার। করোনা অতিমারির কারণে গত বছর থেকেই অনলাইনে পুজোর অনুমতির, আবেদনের ব্যবস্থা করেছিল রাজ্য সরকার। আর সেই অনুমতি নিতে গিয়েই বেজায় সমস্যায় পড়েছেন পুজো উদ্যক্তারা। অনুমতির জন্য ১৬ ও ১৭ তারিখ দুদিন  ধার্য্য করা হলেও, প্রথম দিন থেকেই পোর্টালের সমস্যায় নাস্তানাবুদ হলেন সকলে। অভিযোগ, পোর্টালে রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার সাব ষ্টেশন গুলির নাম নথিভুক্ত না থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়। যার ফলে পুজো কমিটি গুলো অনুমতি নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সাইবার ক্যাফে, ব্লক প্রশাসন কিংবা বিদ্যুৎ দপ্তরে ছোটাছুটি করে হয়রানির শিকার হতে হয় উদ্যোক্তাদের। এখন এই সমস্যার সমাধান কি ভাবে হবে, তা নিয়ে সঠিক কোন পথ দেখাতে পারেননি খোদ আধিকারিকরাই।

    কাশীপুর শতধারা প্রমিলা সংঘের সম্পাদক রীনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘চব্বিশ ঘন্টায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বার চেষ্টা করেও অনলাইনে সব তথ্য সাবমিট করতে পারিনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কখনও জানানো হয় সার্ভারের সমস্যা আছে, আবার কখনও বলা হয় বিদ্যুৎ দপ্তরের সমন্বয়ের অভাবে কাজ টা করতে দেরি হচ্ছে।‘ খয়েরপুর সতসঙ্গ অনুশীলন কেন্দ্রের পুজো কর্তা দিলীপ কর্মকার বলেন, ‘বারুইপুর পুলিশ জেলার ওয়েব সাইট খুলে কাজ করতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই তা ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার ওয়েব সাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। ডেটা সেভ করতে গেলে বলছে তথ্যে ভুল আছে। আবার কখনও এরর দেখাচ্ছে।‘ লাঙলবেকি পুজো কমিটির কর্তা অতনু রায় বলেন, ‘অনলাইনে পুজোর অনুমতি না পেলে সরকারের দেওয়া অনুদান পাবো না। তখন পুজো করা অসম্ভব হয়ে পরবে।'

    ভাঙড় এক ও দু নম্বর ব্লকের কাশীপুর, ভাঙড় ও লেদার কমপ্লেক্স থানা মিলিয়ে কমপক্ষে দুশো অনুমোদিত পুজো হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার পুজোর অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি ভিন্ন ওয়েবসাইট বানানো হয়েছে।সেই সাইটে গিয়ে তিনটে পুলিশ জেলার বাসিন্দারা আলাদা আলাদা ভাবে তাঁদের ব্লক বা পুরসভা এবং থানা নির্বাচন করে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে, পূজোর অনুমতির আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার ভাঙড় ডিভিশনের অধীন ভাঙড়, লেদার কমপ্লেক্স, মিনাখা, সড়বেড়িয়া সাপ্লাই এর অধীন পুজো কমিটি গুলো সমস্যায় পড়েন ওয়েবসাইটে তাঁদের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের নাম না থাকার জন্য। রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার ভাঙড় ডিভিশনের ম্যানেজার শান্তনু নায়েক বলেন, ভাঙড়, কেএলসি,কাশীপুর বিধাননগর সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ওয়েবসাইটে ওঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলে সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছি।‘পরে ওয়েবসাইটে ভাঙড় বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার নাম দেখালেও, ওই পেজ কিছুতেই ‘সেভ’ হচ্ছিল না। বারবার এরর দেখাচ্ছিল বলে জানালেন ভাঙড় দুর্গা পুজো সমন্বয় কমিটির সম্পাদক কৌশিক সরদার। তিনি বলেন, ‘দু দিন ধরে কেন একটা সমস্যার সমাধান হল না বুঝতে পারছিনা। আমরা কমিটি গুলোকে বলেছি সব কিছুর হার্ড কপি তৈরি রাখতে। অনলাইনে সাবমিট করা না গেলে অফলাইনে সাবমিট করা হবে।‘ জেলার অনলাইন পোর্টালের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বনাথ চৌধুরী বলেন, ‘যারা ওয়েব সাইট তৈরি করেছে তাঁদেরকে সমস্যার কথা জানান হয়েছে।আশাকরছি দ্রুত সমাধান মিলবে।'

    এখন অনলাইন না হার্ড কপি জমা দিয়েই, পুজোর অনুমতি মিলবে সেদিকেই তাকিয়ে জেলার পুজো উদ্যোক্তারা।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: