• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • Bengal News: পুজোর আনন্দ থেকে অনেক দূরে থাকে আদিবাসী মহল্লার মানুষেরা

Bengal News: পুজোর আনন্দ থেকে অনেক দূরে থাকে আদিবাসী মহল্লার মানুষেরা

পুজো আসে পুজো যায়, টের পায় না ওরা

পুজো আসে পুজো যায়, টের পায় না ওরা

ভাঙ্গড়ের আদিবাসী (south bengal) পাড়ার মানুষেরা পুজোর ক'দিন বুক ভাঙ্গা কান্নায় গুমরে কাঁদে

  • Share this:

    দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বয়সের ভারে শরীরটা বেশ কুঁকড়ে গেছে সাবিত্রী সর্দারের। সেই পণের বছর বয়েসে বউ হয়ে এসেছিলেন ভাঙড়ের বেওতা আদিবাসী মহল্লায়(tribal people)। তারপর একে একে চার সন্তানের জন্ম আর তাঁদের মানুষ করতে গিয়েই যৌবন কাটিয়ে বার্ধক্যে পৌঁছে গেছেন সাবিত্রী দেবী। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা একই রকম ঘরকন্নার কাজ করে তাঁর দিন কাটে। শরতের নীল আকাশ, পেঁজা তুলোর মত মেঘ দেখলেও মনটা রোমাঞ্চিত হয় না আর। কারণ পুজো (Durga Puja) এলেও তাঁদের জোটেনা নতুন জামা কাপড়, হয় না দুর্গা দর্শন।

    আরও পড়ুন Bengal News| Accident: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়নজুলিতে উল্টে গেল প্রাইভেট কার, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত১, আহত ৪

    একই অবস্থা শ্যামল, ভোম্বল, টুকাই, বিজলীদের। তাঁদের মত অন্য স্কুল পড়ুয়ারাও পুজোর (Festival) চারদিন আনন্দে মাতলেও তাঁদের সে সুযোগ নেই। কারণ তাঁদের পাড়ায় দুর্গা পুজো হয় না। খড় বিচুলি দিয়ে মাটির প্রতিমা তৈরি কিংবা বাঁশ খুঁটি দিয়ে প্যান্ডেল তৈরির দৃশ্য তাঁরা চাক্ষুস করতে পারে না। বাইরে গিয়েও ঠাকুর দেখবে, সে সুযোগ নেই। কারণ বাড়ির বড়রা বাড়তি রোজগারের আশায় কলকাতায় চলে যান। ফলে গোটা বিশ্ব আনন্দে মাতলেও পুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন ভাঙড়ের আদিবাসীরা।

    প্রতি বছর তাই এমন বুক ভাঙা কান্নায় গুমরে কেঁদে মরে আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দারা। অথচ কয়েক কিমি দূরেই রাজারহাট নিউটাউন (Rajarhat)। সেখানকার দুর্গোপুজোর আলোর রোসনাই কিংবা আতসবাজীর কারিকুরি দেখা যায় ভাঙড়ের বেওতা দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলবেড়িয়া গ্রাম থেকে। সেই কুলবেড়িয়ার সরদার পাড়ার খাল পাড়ে ‘বাড়ি’ কাশি সরদারে। পেট চালাতে তিনি এবং এক নাবালক ছেলে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করেন। বাড়ি বললে ভুল হবে, খড়, প্ল্যাস্টিক দিয়ে ছাওয়া একটা বস্তি। কাশীর স্ত্রী সোনামণি সর্দার বলেন, ‘দু’বেলা দু’মুঠো ভাল করে খাওয়ার জোটে না আমাদের। ছেলে, মেয়েদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারি না। দুর্গাপুজো কবে শুরু হয় কবে শেষ হয় কিছুই জানি না আমরা।‘

    আরও পড়ুন Bengal News| Birbhum: ৫১ সতীপীঠ স্মরণে ত্রয়োদশীতে কঙ্কালীতলায় ৫১ কুমারী পুজো

    ওই এলাকার বাসিন্দা মাধব সর্দার বলেন, ‘আমাদের আদিবাসী পাড়াটি বেওতা দু’নম্বর পঞ্চায়েতের ৩৬ নং বুথের অন্তর্গত। এখানে চারশোর ওপর আদিবাসী ভোটার রয়েছে। আমরা একবছর দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে গিয়ে পয়সার অভাবে পিছিয়ে আসি। পুজো করার সাধ থাকলেও, সাধ্য হয়নি।‘

    আদিবাসী আন্দোলনের (Tribal) নেত্রী সাগরিকা সর্দার বলেন, ‘এখানকার খেটে খাওয়া মানুষদের আনন্দ করার মত কোন আর্থিক সঙ্গতি নেই। দুর্গাপুজো, কালীপুজো কিছুই হয় না এখানে। ছোটরা পুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয় বারবার। আগামী বছর সরকারি অনুদানের ভিত্তিতে পুজো করা যায় কিনা সে ব্যপারে ভাবনা চিন্তা করা হবে।‘জায়গাটি কলকাতা পুলিশের লেদার কমপ্লেক্স থানার আওতাধীন হলেও, শহুরে আলোর ঝলকানি, চাকচিক্য কোনটাই পৌঁছায় না ভাঙ্গড়ের এই আদিবাসী এলাকায়।

    রুদ্র নারায়ন রায়
    Published by:Pooja Basu
    First published: