Home /News /local-18 /

Sundarban: ছেলের চোখের সামনে থেকেই, বাঘ বাবা কে তুলে নিয়ে গেল সুন্দরবনের জঙ্গলে

Sundarban: ছেলের চোখের সামনে থেকেই, বাঘ বাবা কে তুলে নিয়ে গেল সুন্দরবনের জঙ্গলে

শোকের ছায়া পরিবারে

শোকের ছায়া পরিবারে

সুন্দরবনের জঙ্গলে পরপর বাঘের আক্রমণের শিকার মৎস্যজীবীরা। কেন বাড়ছে বাঘের আক্রমণ?

  • Share this:

    রুদ্র নারায়ন রায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শীতের মৌসুম পড়তেই বেড়েছে কাঁকড়ার চাহিদা। কাঁকড়া বিক্রি করে দুটি অর্থের মুখ দেখার জন্যই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিকারিরা কাঁকড়া শিকার করতে যান, সুন্দরবনের জঙ্গলের খাড়িতে । বৈধ অনুমতি পত্র নিয়ে শিকারে গেলেও, গত ১৫ দিনে প্রায় চারবার বাঘের আক্রমণের (tiger attack) শিকার হতে হয়েছে মৎস্যজীবীদের।

    এবার ছেলের সামনে থেকে বাবাকে তুলে নিয়ে গেল সুন্দরবনের বাঘ। প্রত্যন্ত সুন্দরবনের ঝিলার জঙ্গলে নিখোঁজ ওই মৎস্যজীবীর (fisherman killed)  নাম হাজারী মন্ডল, বয়স ৬৯।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোসাবা ব্লকের লাহিড়ীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চরঘেরীর বাসিন্দা হাজারী মন্ডল। এদিন সকালে ছেলে চিত্ত মন্ডল ও প্রতিবেশী সুভাষ মন্ডল কে নিয়ে, সুন্দরবনের জঙ্গলের (tiger attack) উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন কাঁকড়া ধরার জন্য। এরপর, তারা তাদের নৌকা জঙ্গল লাগোয়া নদীরখাড়িতে নোঙর করে, যখন ঝিলার জঙ্গলের খাড়িতে কাঁকড়া ধরছিলেন। তখনই, আচমকা সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে আসে এবং অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাজারী মন্ডলের উপর।

    শিকারের উপর থাবা বসিয়ে টানতে টানতে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই মুহূর্তে ওই মৎস্যজীবীকে বাঘের আক্রমণ থেকে উদ্ধার করার জন্য লাঠি আর কাঁকড়া ধরার শিক নিয়ে বাঘের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ছেলে ও অপর সঙ্গী। মুখের শিকার ছাড়তে নারাজ হিংস্র বাঘ। দীর্ঘক্ষণ চলে বাঘে মানুষের লড়াই। সুযোগ বুঝে ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করে দক্ষিণ রায়। প্রতিরোধ গড়েতোলার জন্য আক্রান্ত মৎস্যজীবীর ছেলে ও তার সঙ্গী কে আক্রমণ করার চেষ্টা করে বাঘ (tiger attack) । ক্ষুধার্ত বাঘের ভয়ঙ্কর রুদ্রমূর্তির সামনে ভয় পেয়ে যায় চিত্ত ও সুভাষ। বেগতিক বুঝে রণে ভঙ্গ দেয় তারা। বাঘ তার শিকার কে টানতে টানতে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়।

    চোখের সামনে বাবার এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে ছেলে ও তার সঙ্গী। এরপর তারা গ্রামে এসে, সেই শোকের খবর জানায় (fisherman killed)। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত কাঁকড়া শিকারির ছেলে চিত্ত মন্ডল জানান, 'কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে বাবাকে নিয়ে গেল বাঘ। বহু চেষ্টা করার পরও আটকানো গেলনা।'

    তবে, রাজ্য সরকারের পর্যটন দফতর, বনদপ্তর মৎস্যজীবীদের বিকল্প জীবিকার জন্য নানান ব্যবস্থা করলেও, সুন্দরবনের গভীরে ঘন জঙ্গল এলাকায়, মাছ কাঁকড়া ধরতে যাওয়ার প্রবণতা কিছুতেই কমছে না। প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও বারবার এইসব অঞ্চলে ছুটে যাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা (fisherman killed)। নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও, বারবার ঘটছে এই ধরনের বিপদ। জঙ্গলে আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। বাঘে আক্রান্ত পরিবারগুলি কোনরকম আর্থিক সাহায্য পাচ্ছে না বলে দাবি করা হয় এপিডিআর এর পক্ষ থেকে।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    Tags: South 24 Parganas news, Sundarban, West Bengal news

    পরবর্তী খবর