Home /News /local-18 /
৪৩৬ বছরের পূজো ক্যানিং-এর ভট্টাচার্য্য পরিবারের, দেবী এখানে পূজিত হন বিশেষরূপে

৪৩৬ বছরের পূজো ক্যানিং-এর ভট্টাচার্য্য পরিবারের, দেবী এখানে পূজিত হন বিশেষরূপে

ক্যানিং ভট্টাচার্য্য পরিবারের পুজো

ক্যানিং ভট্টাচার্য্য পরিবারের পুজো

ক্যানিং এর প্রাচীন পুজো গুলির মধ্যে অন্যতম ভট্টাচার্য্য পরিবারের এই দুর্গাপুজো

  • Share this:

    রুদ্র নারায়ন রায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ঐতিহ্যের সাথে প্রাচীন যে ক'টি পুজো ক্যানিংয়ের বুকে আজও হয়ে আসছে তার মধ্যে অন্যতম এই পুজো। ওপার বাংলায় সূচনা হওয়া পূজোকে, আজও এপার বাংলায় ধরে রেখেছেন ক্যানিংয়ের ভট্টাচার্য্য পরিবার। ৪৩৬ বছরের  পূজার ইতিহাস এই পরিবারের। এপার বাংলায় বর্তমানে ৮০তম বর্ষের পুজো এবার (Durga Puja 2021)।

    মায়ের রুপ এখানে আর দশটা পুজোর থেকে অনেকটাই আলাদা। দেবীর এখানে মুখমন্ডল কালো, ও গায়ের রং বাদামি রূপে পূজিত হন। স্বপ্নাদেশ লাভ করে, এভাবেই পুজো হয়ে আসছে প্রাচীন কাল থেকে।

    অতীতে ভট্টাচার্য্য পরিবার বসবাস করতেন বাংলাদেশ। সেখানে তাদের মনসা মন্দির ও দুর্গা মন্দির ছিল পাশাপাশি। আর পরিবারের রীতি অনুযায়ী আগে মনসা মন্দিরে পূজা করার পর, দূর্গা মায়ের পূজা হত। ভট্টাচার্য্য পরিবার সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ একদিন মনসা মন্দিরের পুজো শেষ করে পূজারী দুর্গা (Durga Puja 2021) মন্দিরের পূজোর জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু, তার মাঝে মনসা মন্দিরে জ্বালানোর প্রদীপের সলতে কাক মুখে করে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়, জ্বলন্ত সলতে গিয়ে পড়ে দুর্গামন্দিরে চালে। এরপর, সেই সলতের আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় গোটা দুর্গা মন্দির।

    পরিবারের সদস্যরা ভাবতে শুরু করেন, মা হয়তো আর পূজো (Durga Puja 2021) চাইছে না। সেই কারণে পূজো বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত নেয় ভট্টাচার্য্য পরিবার। এরপর ওই পরিবারের এক সদস্যকে দেবী স্বপ্নাদেশে দেন। স্বপ্নে দেবী জানান, তার মুখের রং কালো ও গায়ের রং বাদামি রূপে সাজিয়ে, মা-কে পুনরায় পূজা করতে। এরপর সেইভাবেই মায়ের মুখে রং কালো ও গায়ের রং বাদামি রূপে পূজা হয়ে আসছে ভট্টাচার্য্য পরিবারে। এই ভট্টাচার্য্য পরিবারের রীতি অনুযায়ী জন্মাষ্টমীর দিনই, প্রতিমার কাটামোর গায়ে মাটির প্রলেপ লাগানো হয়। এভাবেই যথাযথ নিয়ম ও রীতি মেনে পুজো চলে আসছে ক্যানিংয়ের ভট্টাচার্য্য পরিবারে।

    পরিবারের সদস্য, পল্লবী ভট্টাচার্য জানান, 'পুজোর কয়েকদিন আমরা আনন্দের পাশাপাশি পুজোর কাজ করে থাকি। সবাই এক সাথে মিলিত হওয়ার আনন্দ যা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। খাওয়া দাওয়া থেকে সাজগোজ সবেতেই বিশেষ চমক থাকে পুজোর ক-দিন।

    পরিবারের অন্যতম আরেক সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, 'বাংলাদেশে প্রায় ২০০ বছর পুজো হবার পর, ভট্টাচার্য্য পরিবারে ঘটে দেবীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তারপর স্বপ্নাদেশে ফের শুরু হয় পুজো। পুজোর বিশেষ মন্ত্র ও নিয়ম রীতিও স্বপ্নাদেশে মা পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে ছিলেন। আর সেই নিয়ম মেনেই আজও পূজো হয়ে আসছে। আগে আরো বড় করে পুজো করা হতো কিন্তু করোনার কারণে কিছুটা হলেও জৌলুস হারিয়েছে। তবে যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা হবে পুজো'।

    এই পূজো দেখতে প্রতি বছরই ভিড় হয় দর্শনার্থীদের। এবছর করোনা কারণে বিশেষ সতর্কতা মেনেই পূজো দর্শন করতে পারবেন আগত দর্শনার্থীরা। এমনটাই জানানো হয় পরিবারের তরফ থেকে।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    Tags: Durga Puja, South 24 Parganas news, Sundarban, West Bengal news

    পরবর্তী খবর