• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • Siliguri: শীত পড়তেই 'ভাপা পিঠে'র পসরা রাস্তায়, জমছে সব বয়সীদের ভিড়

Siliguri: শীত পড়তেই 'ভাপা পিঠে'র পসরা রাস্তায়, জমছে সব বয়সীদের ভিড়

শীত পড়তেই 'ভাপা পিঠে'র পসরা শিলিগুড়ির রাস্তায়

শীত পড়তেই 'ভাপা পিঠে'র পসরা শিলিগুড়ির রাস্তায়

শীত পড়তেই 'ভাপা পিঠে'র পসরা শিলিগুড়ির রাস্তায়, জমছে সব বয়সীদের ভিড়

  • Share this:
    #শিলিগুড়ি: শীত! এমন এক ঋতু, যে ঋতুতে ভ্রমণপিপাসুরা ভ্রমণের ডাককে আটকাতে পারে না। তবে এই শীত মানেই শুধু ঘোরাফেরা নয়! নানা শাকসবজির ভান্ডারের পাশাপাশি নানা ধরণের পিঠেপুলি, নানা রকম খানা, হালকা মিঠে রোদ আর দেদার মজা। পাকাপাকি শীত না পড়লেও লক্ষ্মীপুজোর পরই হিমেল হাওয়া শীতের আমেজ এনে দিয়েছে। আর শীত নামতেই অনুষঙ্গ যেসব কাছে এগিয়ে আসে, তার মধ্যে অন্যতম উত্তরবঙ্গের অন্যতম পছন্দের 'ভাপা পিঠে' চলিত ভাষায়, 'ভাপা পিঠা' বা 'ভাপাইয়া পিঠা'। সাদা-নরম ভেলভেটের মতো সুস্বাদু। শীতের সময় নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন এই ভাপা পিঠার ব্যবসা। একদিকে ভাপা পিঠার স্বাদ অন্যদিকে চুলার আগুন আর জলীয়বাষ্পের উত্তাপ যেন চাঙ্গা করে দেয় দেহমন। অনেকেই পিঠার দোকানে চুলার পাশে বসেই গরম পিঠা খাচ্ছেন। অনেকে পরিবারের চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ আবার পিঠা কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া সন্ধ্যার পর বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, অফিস, দোকান, ক্লাব, আড্ডায়ও পিঠার আয়োজন লক্ষ করা যায়। শীতকালে শ্রমজীবী, রিকশাচালক, ড্রাইভার, শ্রমিকসহ অভিজাত পরিবারের লোকজনের কাছে প্রিয় শীতের এই পিঠা। শিলিগুড়ি বাবুপাড়ার রাস্তায় ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেছে ৫৪ বছর বয়সী সুমিতা রায়। বাড়ি চয়নপাড়া এলাকায়। তিনি হাসিমুখে বিক্রি করছেন ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা ইত্যাদি। তিনি নিউজ ১৮ লোকালকে (News 18 Local) বলেন, 'বিক্রি বেশ ভালোই হয়। এখানে বিভিন্ন পড়ুয়া থেকে শুরু করে অফিসে যাতায়াত করেন, এমন অনেকেই আসেন। নিজেরা খান ও বাড়ির জন্যও নিয়ে যাঁন।' ফুলেশ্বরী বাজারের পাশে ভাপা পিঠা, পাটিসাপটার সম্ভার নিয়ে বসেন বছর ৫০-এর ভবেশ পাল। তিনি আগে রিকশা চালাতেন। কিন্তু শারীরিক সমস্যা হওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শে তিনি এখন আর চালাতে পারেন না। সেই কারণেই তিনি সংসারের কথা ভেবে ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, 'বাড়িতে বড় মেয়ে রয়েছে। রাস্তার উপরে একটা দোকানও রয়েছে। সেই দোকানে সকালে কেনাবেচা করি। তবে রাতে এখানেই বসি। ঠান্ডার সময় ভালো বিক্রি হয়। আমি এটা নিজে বানাতে ও খেতে ভালোবাসি।' শিলিগুড়ির অন্যতম কর্মব্যস্ত জায়গা বলতে বাঘাযতীন পার্ক। সেখানে আট থেকে আশি, সবার ভিড়ে প্রায় জমজমাট হয়ে থাকে সেই জায়গা। এই পার্কেরই ঠিক উল্টোপাশের রাস্তায় এক কোনায় দেখা যায় বছর ৬০-এর ননীবালা সামন্ত। ননীবালাদেবীর বাড়ি এই জায়গারই আশেপাশে বলে জানান তিনি। প্রায় ১৫ টা শীত তিনি এই জায়গা থেকে দেখেছেন। একই জায়গায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন। ননীবালাদেবী আমাদের বলেন, 'দিনে ৫০০ থেকে ৬০০, মাঝেমধ্যে ৭০০ টাকারও বিক্রি হয়। যা আনি সবই প্রায় বিক্রি হয়ে যায়। এই পিঠা এমনই এক পিঠা, যা বাশি হয় না। তাই রোজ নারকেল কুড়িয়ে, চাল ভিজিয়ে, গুঁড়ো করে এই পিঠা বানাই। এই ভাপা পিঠা কিনতে অনেকেই আসেন। আমার ছেলে টোটো চালায়। সেই আমায় এই জায়গায় নামিয়ে দিয়ে নিজের কাজে চলে যায়। সন্ধ্যার পর আমায় ফের ও বাড়ি নিয়ে যায়। এই তো, এভাবে বেশ ভালোই আছি। আমি চাই যেন পৃথিবী এভাবেই রোগমুক্ত থাকুক। আমাদের মতো গরীব মানুষগুলি যেন আর পেটে গামছা বেঁধে না ঘুমোতে যাক।' সূর্যনগর ডাবগ্রাম এলাকায় বছর ষাটের আধ কাঁচাপাকা চুল নিয়ে গত ১৫ বছর ধরে ভাপা পিঠে বিক্রি করেন গিরিধারী সূত্রধর। তাঁকে ভাপা পিঠা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেই চটপট প্রণালী জানিয়ে দিলেন গিরিধারীবাবু। তিনি বলেন, 'প্রথমে চালের গুড়া চালুনিতে করে চেলে নিতে হবে। এরপর চালের গুঁড়োর সঙ্গে জল ছিটিয়ে দিন। লবণ দিয়ে হালকা ভাবে মেখে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন দলা না বাঁধে। বড় ছিদ্র যুক্ত প্লাস্টিকের ঝুড়িতে করে আবার চেলে নিন। হাড়িতে জল দিয়ে গরম করে নিন। পিঠা বানানোর ছাচ অথবা ঢাকনাটি হাড়ির উপর বসিয়ে দিন।আটার গোলা অথবা মাটি গুলিয়ে পিঠার ছাচ বা ঢাকনার চারপাশটা হাড়ির সাথে লাগিয়ে দিন যাতে বাতাস বের না হয়ে যেতে পারে। ছোট বাটিতে মাখানো চালের গুঁড়ো নিয়ে তার মাঝখানে পরিমাণ মত গুড় দিন। গুড়ের উপর নারকেল ছড়িয়ে দিন। এরপর ওপরে অল্প চালের গুঁড়ো দিয়ে পাতলা কাপড় দিয়ে বাটির মুখ ঢেকে পিঠার ছাচ বা ছিদ্রযুক্ত ঢাকুনির ওপর বাটি উল্টে রাখুন। বাটিটা সরিয়ে নিন। ২ থেকে ৩ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপরই তৈরি পছন্দের ভাপা পিঠে।' শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্কেই হাঁটতে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি এক শিক্ষক (নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, 'এই ভাপা পিঠা একসময় মা বানাতেন। পৌষ মাস পড়তেই আমরা ভাইবোনরা সবাই মিলে এই ভাপা পিঠা লোভে মায়ের আঁচল টানতাম। সেই সময় বিভিন্ন পিঠা, পাটিসাপটার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের পিঠা করতেন। এই পিঠার বৈশিষ্ট হল, এটা খুব তাড়াতাড়ি ও গরম গরম খেতে হয়। ঠাণ্ডা খেলে, স্বাদ কোথাও একটা হারিয়ে যায়। তাই বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে একটু খাই, আর বাড়ির জন্যও নিয়ে যাই। বিকেলে এখানে হাঁটতে বেশ ভালোই লাগে। অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার পর বেশ অনেকের সঙ্গে কথোপকথন হয়, চেনাজানা হয়। শীতের আমেজে বেশ ভালোই লাগে। তাঁদেরও উপার্জন হয়।' আমরা এক যুগলকে দেখতে পেলাম ফুলেশ্বরীর সেই দোকানে কথা বলতে, 'দাদা, দুটো ভাপা পিঠা দিন। চারটে পাটিসাপটা প্যাক (Pack) করে দিন।' তাঁদের সামনে এগোতেই তাঁরা জানান, একই অফিসে কাজ করেন তাঁরা। বাড়ি ফেরার পথে শীত বেশ জাঁকিয়ে পড়ে। তাই ভাপা পিঠা স্বাদ নিতে পিছপা হন না তাঁরা। বলেন, 'ক্যাফেটেরিয়া (Cafeteria) বা বড় রেস্টুরেন্টে (restaurant) তো যেকোনও সময় যাওয়া যায়। কিন্তু শীত এলেই মনটা কেমন ভাপা পিঠা ভাপা পিঠা করে। তাই নিজেরা তো খাই। বাড়ির জন্যও নিয়ে যাই।' কয়েক বছর আগেই ১ টাকা থেকে এই ভাপা পিঠা বিক্রি হতো উত্তরবঙ্গের সর্বত্র। ১ থেকে দাম উঠল ২ টাকা। এরপর ৫ টাকায় ২টি। তারপর বছর দুয়েক আগে পর্যন্ত ৫ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে। গত বছর থেকেই একটি দশ টাকার কমে বিক্রি করছে না কেউই। ক্ষীর ভরা থাকলে দাম নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা। একটু মনক্ষুণ্ণ হলেও আপত্তি করছেন না কেউই। রেস্তোরাঁয় তৈরি নানা ফাস্টফুডের প্রতি ঝোঁক থাকলেও ভাপা পিঠার মজা নিচ্ছেন শিলিগুড়ির সকলেই। Vaskar Chakraborty
    First published: