• হোম
  • »
  • খবর
  • »
  • local-18
  • »
  • SILIGURI WB VACCINATION IS THE ONLY MEDICINE CLAIMS WEST BENGAL CHIEF MINISTER MAMATA BANERJEE SR

পর্যটনের হাল ফেরাতে অস্ত্র 'ভ্যাকসিন', দাওয়াই মুখ্যমন্ত্রীর

প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে ছিল প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র। এ বার সেই পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে সুরক্ষায় মুড়তে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে ছিল প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র। এ বার সেই পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে সুরক্ষায় মুড়তে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Share this:

    Vaskar Chakraborty

    শিলিগুড়ি: 'নজরে উত্তরবঙ্গ' কথাটি যেন আলাদা করে বলার কিছু নেই। আর উত্তরবঙ্গ মানেই পর্যটন। দার্জিলিংয়ের শীতল পাহাড় থেকে লাটাগুড়ি-গরুমারার ঘন জঙ্গল। বক্সায় ট্রেকিং হোক কিংবা জঙ্গল সাফারি, উত্তরবঙ্গ বরাবরই প্রিয় পর্যটকদের কাছে।  প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে ছিল প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র। এ বার সেই পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে সুরক্ষায় মুড়তে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বা পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত স্টেকহোল্ডারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যেমন ভ্যাকসিন দিতে চাইছেন, তেমনি এই কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি তথ্যভান্ডার তৈরীর পরিকল্পনা মূখ্যমন্ত্রীর। কী এই তথ্যভান্ডার? কেমন করেই বা তৈরি হবে ভ্যাকসিন দেওয়ার খসড়া? এ সবই পরিষ্কার হয় মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশে। সম্প্রতি দ্রুত টিকাকরণের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন পর্যটন দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে। কোন জেলায় পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত কতজনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, কতজনই বা বাকি রয়েছেন সেইসব তথ্য নিয়মিত তাঁর দফতরে পাঠানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিকে মুখ্যমন্ত্রীর এ হেন পদক্ষেপে কার্যত খুশি পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত স্টেকহোল্ডাররা। পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় নতুন করে যে আশার আলো দেখছে তা এককথায় পরিষ্কার করে দিলেন হিমালয়ের হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল। সম্রাটবাবুর কথায়, 'একেবারে প্রথমেই আমরা পর্যটন দফতরের চিঠি দিয়েছিলাম, যাতে আমাদের পর্যটনের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি স্টেকহোল্ডার ভ্যাকসিন পান। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যথেষ্ট খুশি এবং তাঁর এই পরিকল্পনাকে সাদরে স্বাগত জানাই।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা গাইডলাইন তৈরি করার অপেক্ষায় রয়েছি। সমস্ত স্টেকহোল্ডারকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে সেফ জোন হিসেবে আমরা অনেকটাই এগিয়ে যাব। আমরা বলতে পারব, বেঙ্গল টুরিজ্যম ইজ ভ্যাকসিনেটেড। আর এরজন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে আমরা সবদিক থেকে তৈরি।' এ দিন সম্রাটবাবু সুরে সুর মেলাতে দেখা যায় দার্জিলিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রাভেল এজেন্স (ডাটা)-এর সম্পাদক প্রদীপ লামাকেও। প্রদীপবাবু বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সকলকে যদি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তা হলে পর্যটনশিল্প আরও শক্ত ও মজবুত হবে। পর্যটকরা নির্ভয় স্বাভাবিক ছন্দে ঘুরতে আসতে পারবেন। ফলে লকডাউন বা করোনাকালে পর্যটন যেভাবে থেকে থিতিয়ে পড়েছে, তা পুনরায় আগের রূপে ফিরে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।' অন্যদিকে, লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, 'করোনার দাপটে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন। এই পর্যটনকে পুনর্জীবন করতে টিকাকরণ অত্যন্ত জরুরি। আজ মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত স্তরের মানুষকে টিকা দেওয়া আমাদের বহুদিনের একটা দাবির অঙ্গ ছিল। যা আজ পূরণের পথে।' যদিও করোনার বাড়বাড়ন্ত যেমন বেড়েছে তেমনই মিউকরমাইকোসিস নামক ছত্রাকজনিত রোগও এখন সকলের চিন্তার কারণ। সেখানে ভবিষ্যতে লকডাউনবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভবনাকে নস্যাৎ করা যায় না। এবিষয়ে দিব্যেন্দুবাবু অবশ্য আশাবাদী। তিনি বলেন, 'করোনাকে ভয় পেলে চলবে না। চলতে পারে না। আমাদের সাবধানতা অবলম্বনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পুরোনো জীবনে ফিরে আসতে হবে। আর টিকাকরণ হলে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মনে যেমন সাহস জুগোবে। তেমনই পর্যটকদের মনেও সংক্রমণের আতঙ্ক আর থাকবে না।'

    Published by:Simli Raha
    First published: