• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • SILIGURI WB TWO RUPEES SCHOOL AN INITIATIVE TO BRING SCHOOL DROPOUTS BACK TO STUDIES DURING CORONA TIMES PBD

দু'টাকার পাঠশালা! করোনাকালে স্কুলছুটদের 'আলোয়' ফেরাতে নয়া উদ্যোগ রাকেশদের

দু'টাকার পাঠশালা! করোনাকালে স্কুলছুটদের 'আলোয়' ফেরাতে নয়া উদ্যোগ রাকেশদের

'মাগো আমায় ছুটি দিতে বল/সকাল থেকে পড়েছি যে মেলা।’ রবীঠাকুরের কবিতাটা যেন ছবি হয়ে ফুটে উঠল শিলিগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল এলাকায়

  • Share this:
    ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: ওঁরা কেউ আসে নদী ডিঙিয়ে, কেউ আসে অন্য গ্রাম থেকে। কারণ, করোনা ওদের স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ওরা সকাল আটটায় চলে আসে রাকেশ স্যারের পাঠশালায়। চলে পড়াশোনা চলে নতুন জানার চেষ্টা। সঙ্গে থাকে পুষ্টিকর খাবার। এভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে জঙ্গলের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দেদার চলছে দু'টাকার পাঠশালা। কোভিড পরিস্থিতিতে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুলছুটদের সংখ্যা দেদার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইনে চলছে ক্লাস। কিন্তু ওদের নেই সেই অবকাশ। তাই থেমে গিয়েছে ওদের পড়াশোনা। এমনই কিছু কচিকাচাদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিল রাকেশ, ইন্দ্রজিৎ, শুভঙ্কর, অনুষ্কারা। লকডাউনে বড়দের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে অনেক সংগঠন কিন্তু বাচ্চাদের সাহায্যে আছেন কারা? এরপরই প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে সাহায্যের হাত নিয়ে পৌঁছে যেত রাকেশরা। প্রায় প্রতিদিনই বাচ্চাদের পড়ার বই, খাতা সহ যাবতীয় সরঞ্জাম থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার পর্যন্ত পৌঁছে দিত এই যুবক-যুবতীদের দল। তখনই ওঁরা অনুভব করে যে বাচ্চাগুলি স্কুলছুট হয়ে পড়ছে। এরপরই রাকেশরা একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই কর্মসূচির পোশাকি নাম হয় \'দু\'টাকার পাঠশালা\'। সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই চলে এই স্কুল। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও কম নয়। রয়েছে তাঁদের আইডেন্টিটি কার্ডও। নিয়ম করে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাত্রছাত্রীরা এখানে ক্লাস করার পর, পুষ্টিকর খাবার খেয়ে, কখনও বই, কখনও খাতা, কখনও কলম, কখনও স্লেট-চক বা কখনও চারাগাছ হাতে নিয়ে ফিরে যায় বাড়ির পথে। করোনা পরিস্থিতিতে স্কুলছুটদের পুরনো অভ্যাসটা অক্ষুন্ন রাখতে ও দুঃস্থ শিশুদের সুবিধার্তে স্কুলের মত বাতাবরণ তৈরি করে তাদের পড়াচ্ছেন রাকেশ দত্ত, ইন্দ্রজিৎ দাস, রত্নদ্বীপ সিংহ, শুভঙ্কর মণ্ডল ও অনুষ্কা ঘোষের মতো একদল তরুণ প্রজন্ম। শিলিগুড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত বৈকন্ঠপুর জঙ্গল, পাগলুপাড়া চাবাগান ও ক্যানাল বস্তির মতো জায়গায় বাচ্চাদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পড়াশুনার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে ওতপ্রোত পরিচয়, থাকে কম্পিউটার শিক্ষা, থাকে পুষ্টিকর খাবার। লকডাউনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দুঃস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাকেশ। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চালায়। নাম শিলিগুড়ি ইউনিক সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। তাই করোনাকালে বাচ্চাদের এমন অসহায়তা দেখেই কিছু করার ইচ্ছে জাগে ওর মনে। এরপরই দেরি না করে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় বসে রাকেশ। বেরিয়ে আসে সমাধান। রাকেশের কথায়, 'করোনার মতো রিয়েল লাইফ টিচার হয়ত কেউ হতে পারবে না। আমাদের খুব অল্প সময়ে অনেক কিছু দেখিয়ে দিয়েছে, বুঝিয়ে দিয়েছে। দুঃস্থদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে আমার চোখে বাচ্চাগুলো অসহায় মুখ ভেসে ওঠে। তারপরই বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেমে পড়ি এই কাজে।' রাকেশ আরও বলেন, 'সপ্তাহে দুদিন পরে তিন জায়গায় ওদের পড়াশোনা চলছে। অনেকেই এই দু\'টাকার পাঠশালায় পড়তে আগ্রহী। সবথেকে বড় কথা স্কুলছুটদের বিদ্যালয়ের স্বাদ অক্ষত অবস্থায় থাকার লড়াই এই দু\'টাকার পাঠশালা।' ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্র কালিচরণ সূত্রধর বলে, 'আমাদের স্কুল বন্ধ। এই দাদা দিদিরা রোজ আমাদের খোঁজ নেয়। সপ্তাহে দু'দিন ক্লাসও চলে। তবে আমাদের বড় সমস্যা নদী। আমাদের এই নদী ভেঙে প্রতিদিন চলাফেরা করতে হয়। ভয় লাগে।' পাশাপাশি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সরস্বতী সূত্রধর বলেন, 'আমরা খুব খুশি যে ওঁরা এসে আমাদের আমাদের বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে জঙ্গলের মাঝে পড়তে বাচ্চাদেরও ভালো লাগছে। বাচ্চারাও পরের দিন কখন পড়তে আসবে তার জন্য অধীর আগ্রহে থাকে। দেখেও ভালো লাগছে।'
    Published by:Pooja Basu
    First published: