• হোম
  • »
  • খবর
  • »
  • local-18
  • »
  • SILIGURI WB THE ADMINISTRATION IS WORRIED OVER THE FAKE CORONA TEST REPORT IN SILIGURI PB

জাল করোনা টেস্টের রিপোর্ট কাণ্ডে চিন্তিত প্রশাসন ! উদ্বেগ শিলিগুড়ির চিকিৎসক মহলে

শিলিগুড়ি পুরনিগমে প্রশাসক গৌতম দেব বলেন, 'মারাত্মক ও বিপজ্জনক ঘটনা। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। সরাসরি ল্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। পুরো বিষয়টি নজরে রেখেছি।'

শিলিগুড়ি পুরনিগমে প্রশাসক গৌতম দেব বলেন, 'মারাত্মক ও বিপজ্জনক ঘটনা। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। সরাসরি ল্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। পুরো বিষয়টি নজরে রেখেছি।'

  • Share this:

    শিলিগুড়ি: করোনার জাল রিপোর্ট পেশ করে রমরমিয়ে নিজের আখের গোছাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী৷ শহরতলী থেকে গ্রামাঞ্চলে ছেয়ে গিয়েছে তাদের এই অসৎ কারবার। এরকমই এক কারবারের হদিস মিলেছে শিলিগুড়ির বুকে। ৮ জুন, মঙ্গলবার করোনার জাল রিপোর্ট তৈরি করে শিলিগুড়ি পুলিশের ফাঁদে পা পড়ে এক যুবকের৷ ধৃতের নাম বিশাল দত্ত৷ শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়ার খাপড়াইল মোড়ের বাসিন্দা সে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, শিলিগুড়ির সেভক রোডের 'ইউনিপ্যাথ ল্যাব' নামে একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিল ওই যুবক। পাশাপাশি ওই যুবক বাড়ি বাড়ি নমুনা সংগ্রহেরও কাজ করত৷ সেই সুবাদে শহরে তার পরিচিতির সংখ্যাও বেড়েছিল৷ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অর্থ তচ্ছরূপের অভিযোগে তাকে সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার আগে অবশ্য ল্যাবরেটরির পুরোনো গ্রাহকদের ডেটা হাতিয়ে নিয়েছিল সে।

    এদিকে কাজ চলে যাওয়ার পর করোনার পরীক্ষার নামে তার কাছে ফোন আসলে নিজে থেকে বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করত। আর দু'দিন পরে রিপোর্ট দেওয়ার হলে সুবিধা মতো পুরোনো গ্রাহকদের রিপোর্ট কম্পিউটারে এডিট করে প্রিন্ট করে দিত। এভাবেই দিনের পর দিন চলছিল এই কারবার। কিন্তু এতকিছু করেও শেষরক্ষা হল না৷ শিলিগুড়ির এক ব্যক্তির সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় সে৷ রিপোর্ট দেয় পজিটিভ৷ সেইমতো ডাক্তার চিকিৎসা শুরু করলে অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে৷ পরে রিপোর্ট অন্য একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে রিপোর্টটি জাল বলা হয়৷ এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হয় সেই রোগীর পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে সেইমতো তদন্তে নামে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের পানিটাঙ্কি ফাঁড়ির পুলিশ৷

    এরপরই ধৃত যে ডায়গনস্টিক সেন্টারে কাজ করত, সেখানে যোগাযোগ করে পুলিশ৷ গ্রেফতার করা হয় যুবককে৷ জেরার মুখে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ স্বীকারও করে সে৷ অন্যদিকে, তার ব্যাগ থেকে বেশকিছু নমুনাও উদ্ধার করা হয়েছে৷ বুধবার সকালে ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত শিলিগুড়ির বহু পরিবারকে এমন ভুয়ো রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। ভুয়ো রিপোর্টচক্রের এক যুবককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত শুরু করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। তদন্তে নেমেছে পুলিশের ডিটেক্টিভ ডিপার্টমেট, স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ, সাইবার ক্রাইম বিভাগও।

    বুধবার এক প্রেস বিবৃতিতে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি জয় টুডু বলেন, 'আমরা এখনও অবধি বহু সন্ধান পেয়েছি। ধৃত যুবকের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেরার মুখে ওই চক্রী জানায় তাকে একজন সহায়তা করত। পুলিশ ওই তার বা তাদের সন্ধানে নেমেছে। ভুয়ো রিপোর্টগুলি মূলত মোবাইলে তৈরি করা হতো। আমরা ঘটনার গোড়ায় গিয়ে তদন্ত করব। যারা এই চক্রে জড়িত রয়েছে কেউ রেহাই পাবে না।'

    এদিকে গোটা ঘটনার কথা জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককেও জানানো হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ এর পেছনে বড় কোনও চক্র কাজ করছে। যেকারণে মানুষকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে, জানান জয়বাবু। ইতিমধ্যেই যাঁদের ভুয়ো রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল তাঁদের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজ নিয়ে দেখছে পুলিশ।

    শিলিগুড়ি পুরনিগমে প্রশাসক গৌতম দেব বলেন, 'মারাত্মক ও বিপজ্জনক ঘটনা। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। সরাসরি ল্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। পুরো বিষয়টি নজরে রেখেছি।'

    এবার এবিষয়ে সরব হতে দেখা যায় চিকিৎসক মহলে। এদিন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক তথা চিকিৎসক ডাঃ কল্যাণ খান তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'এই বিষয় খুবই মারাত্মক। আমরা এর বিরুদ্ধে দোষীদের কঠিন শাস্তি চাই। আমরা ল্যাবগুলিকে বলব, তাদের ডেটা খুব স্ট্রং পিন ও পাসকোড দিয়ে নিরাপত্তায় ঢেকে দেওয়া হোক। নয়ত এভাবে অনেক মানুষকে সমস্যার মুখে পড়তে হবে।' কল্যাণবাবু পুলিশের প্রশংসা করে এদিন বলেন, 'শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটকে ধন্যবাদ। তাঁরা অবিলম্বে দোষীকে গ্রেপ্তার করেছেন। পুলিশ প্রশাসন এর গভীরে গিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। যা অতি প্রশংসনীয়।'

    Vaskar Chakraborty

    Published by:Piya Banerjee
    First published: