হোম /খবর /শিলিগুড়ি /
টিকাকরণের পর রক্তদানের ব্যবধান কমল, কী বলছে চিকিৎসক মহল

টিকাকরণের পর রক্তদানের ব্যবধান কমল, কী বলছে চিকিৎসক মহল

উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল, করোনার টিকা নেওয়ার ২৮ দিন পরেই রক্তদান করা যাবে।

  • Share this:

 #শিলিগুড়ি: করোনা আবহে রক্তের হাহাকার চারিদিকে। তার উপর আবার গ্রীষ্মকাল! রক্তের আকাল যেন শহর ছাড়িয়ে রাজ্যজুড়ে। এনিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি শিবিরের আয়োজন করলেও রক্ত সংকট থেকেই যাচ্ছে। মাথায় হাত সরকারি ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। যদিও এই সময়ে দাঁড়িয়ে বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলি নিজেদের সাধ্যমতো রক্তের জোগান দিয়ে যাচ্ছে। তবুও অক্সিজেনের হাহাকারে রক্তের এই সংকট যেন ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। সেভাবে হচ্ছে না নিয়মমাফিক রক্তদান শিবির। কিন্তু শহরের যুব সমাজ শিবির করে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল রক্তের এই হাহাকারকে। ফের টিকাকরণ চালু হওয়ায় একপ্রকার থেমে যায় শিবিরগুলি।

উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল, করোনার টিকা নেওয়ার ২৮ দিন পরেই রক্তদান করা যাবে। এই নিয়ম টিকার দু'ডোজেই প্রযোজ্য ছিল। এতদিনের ব্যবধানে রক্ত সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব। তার উপর আবার ১ মে থেকে দেশজুড়ে চালু হয়েছে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের টিকাকরণ। প্রথমদিকে টিকার আকাল পড়লেও সেটাকে কাটিয়ে এখন জায়গায় জায়গায় শুরু হয়েছে টিকাকরণ। এতে যুবরাও রক্তদানে এগিয়ে আসতে পারছেন না।

কিন্তু এবার এলো আরেক নির্দেশিকা। কোভিডের প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১৪ দিন পর থেকে রক্তদান করতে পারবেন সকলেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রকের তরফে অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর চিকিৎসক সুনীল গুপ্তার সই করা নির্দেশিকায় এমনটাই তথ্য রয়েছে। এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই দেশের সমস্ত ব্লাড ব্যাংকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এতো জল্পনা, তর্ক-বিতর্কের পর এবার আশার কিরণ দেখতে পাচ্ছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরা। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা অধ্যাপক ডাঃ কল্যাণ খানের মুখে শোনা গেল এই খুশির খবর।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার, ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল এবং স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের তরফে একটি নির্দেশিকা এসেছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোভিড টিকার প্রথম ডোজ বা দ্বিতীয় ডোজের ১৪ দিন পরেই রক্তদান করা যাবে। এটা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত। তাই এতে কোনও ভয় নেই বলে জানান কল্যাণবাবু।

নিউজ ১৮ লোকালের সাংবাদিকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আনন্দ প্রকাশ করে জানান, এতে রক্তের যে আকাল পড়েছিল, সেটি মিটবে। সবাইকে রক্তদান করতে উৎসাহিত করেন তিনি। তিনি বলেন, 'করোনা রক্তবাহিত রোগ নয়। ফলে রক্তদানে কেউ ভয় পাবেন না। সবাই এগিয়ে আসুন। যাঁরা ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী, তাঁরা নির্দিষ্ট সময় মতো রক্তদান করুন।'

সাক্ষাৎকারে কল্যাণবাবু একগাল হেসে বলেন, 'এখন চিকিৎসক মহল ছাড়াও ব্লাড ব্যাংকে স্বস্তি! প্রাপ্তবয়স্করা এগিয়ে এলেই আমরা সবাই মিলে এই সংকট কাটিয়ে সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারব।'

তিনি পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'বিশেষ দিনগুলিতে, যেমন জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে রক্তদান করুন। এতে নিজেরও ভালো লাগবে, এবং সমাজের কল্যাণেও সাহায্য হবে।'

Vaskar Chakraborty

Published by:Piya Banerjee
First published:

Tags: Blood Donation