Home /News /local-18 /

শুরুতেই ঝোড়ো ইনিংস বর্ষার, আতঙ্কে দিন কাটছে বীরভূমের নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের

শুরুতেই ঝোড়ো ইনিংস বর্ষার, আতঙ্কে দিন কাটছে বীরভূমের নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের

শুরুতেই ঝোড়ো ইনিংস বর্ষার, আতঙ্কে দিন কাটছে বীরভূমের নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের

শুরুতেই ঝোড়ো ইনিংস বর্ষার, আতঙ্কে দিন কাটছে বীরভূমের নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের

  • Share this:

    মাধব দাস, বীরভূম : বর্ষার শুরুতেই টানা বৃষ্টি নজরে এসেছে বীরভূমের অধিকাংশ জায়গায়। টানা বৃষ্টির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খন্ড থেকে জলাধারের জল ছাড়া আরও বেশি বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বীরভূমের অজয় থেকে ব্রাহ্মণী প্রায় প্রতিটি নদ-নদীতেই জলস্তর উপচে পড়ার মতো। শুরুতেই পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক রূপ নিয়েছে যে ইতিমধ্যেই নদীর জলে তলিয়ে তিন তিন জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বীরভূমের নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। নানুর ব্লকের অজয় নদের তীরে রয়েছে নিধাই, সুন্দরপুর, টিকুরে সহ ১০ থেকে ১২টি গ্রাম। এছাড়াও ব্রাহ্মণী, ময়ূরাক্ষী, হিংলো, বক্রেশ্বর, কুয়ে, কোপাই সহ একাধিক নদ নদীর তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে শয়ের কাছাকাছি গ্রাম। আর এই সকল গ্রামে লক্ষাধিক মানুষের বসতি রয়েছে। কমবেশি প্রত্যেক গ্রামের বাসিন্দাদের শুরুতেই বর্ষার এমন ঝোড়ো ইনিংস দেখে কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। নদী তীরবর্তী এই সকল বাসিন্দাদের ভয় তাদের একমাত্র বাসস্থান নদীর গ্রাসে চলে যাবে না তো? কারণ এই কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তারা দেখেছেন নদীর পাড় ভাঙতে, রাস্তাঘাট ডুবে যেতে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে। তারা ইতিমধ্যেই দেখেছেন প্রতিবেশী, পরিজনদের প্রাণ যেতে। আর এসব দেখে আতঙ্ক তো তাদের গ্রাস করবে এটাই স্বাভাবিক। নদী তীরবর্তী এই সকল অধিকাংশ গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাড়িতে ছোট ছোট ছেলে রয়েছে। তাদের নিয়েই সব সময় সব থেকে বেশি চিন্তা হয়। বন্যার জল গ্রামে ঢুকলে, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়লে এই ছেলে মেয়েদের কি খাওয়াবো! ছেলে মেয়েদের কি পড়াবো! শেষ আশ্রয়টুকু আবার খোয়াতে হবে নাতো! পাশাপাশি এই সকল ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাদের মধ্যে আরও এক আতঙ্ক, 'খেলতে খেলতে যদি নদীর ধারে চলে যায়, যদি নদীর জলে পড়ে যায় তাহলে আর ছেলেকে পাওয়া যাবে না'। তবে এই সকল আতঙ্ক নিয়েই তাদের বছরের পর বছর ধরে নিজেদের জীবন জীবিকার মাধ্যমেই দিন কাটাতে হচ্ছে। এটাই তাদের স্বাভাবিক জীবন। অন্যদিকে বর্ষার শুরুতেই এমন অতিবৃষ্টিকে নজরে রেখে একাধিক নদী তীরবর্তী এলাকায় নদীবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে প্রশাসনিকভাবে। তবে তা হলেও গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে যেভাবে বীরভূমের একাংশে কজওয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার মতো ঘটনা, রাস্তাঘাট জলের তলায় চলে যাওয়ার মতো ঘটনা নজরে এসেছে তা আগামী দিনকে আরও ভাবাচ্ছে। সেই যে কথায় আছে না 'নদী তীরে বাস, চিন্তা বারো মাস'।

    Published by:Pooja Basu
    First published:

    Tags: Birbhum, River

    পরবর্তী খবর