Home /News /local-18 /
East Medinipur News- আবারও বন্ধ হল পর্যটন কেন্দ্র, লক্ষাধিক হোটেল কর্মীরা চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে।

East Medinipur News- আবারও বন্ধ হল পর্যটন কেন্দ্র, লক্ষাধিক হোটেল কর্মীরা চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে।

দিঘা সমুদ্র সৈকত

দিঘা সমুদ্র সৈকত

বন্ধ হল হোটেল, জীবিকা হারিয়ে সংসার চালানোর চিন্তায় দিশেহারা হোটেল কর্মীরা।

  • Share this:

    #দিঘা: করোনা আবহে দু'বছর কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছিল বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের হোটেল ব্যবসায়ী থেকে হোটেল কর্মীরা আশার মুখ দেখছিল। কিন্তু নতুন করে রাজ্যে কোভিড বিধি চালু হওয়ায় বন্ধ হলো রাজ্যের সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন কেন্দ্র পুনরায় বন্ধ হওয়ায় অশনি সংকেত নেমে এল হোটেল ব্যবসায়ী থেকে হোটেল কর্মীদের ওপর। পর্যটন কেন্দ্রে হোটেল বন্ধ হওয়ায় হতাশায় হোটেল কর্মীরা।

    করোনা সংক্রমন রুখতে আবারও একাধিক বিধি নিষেধ জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। পর্যটন কেন্দ্র, সেলুন, বিউটিপার্লার, সুইমিং পুল, পার্ক ও জীম সম্পূর্ন রূপে বন্ধের নির্দেশিকা জারি হয়েছে ২ জানুয়ারি, রবিবার। রাজ্য ও জেলার পর্যটন কেন্দ্রে লক্ষাধিক হোটেল কর্মীরা ও পর্যটক নির্ভর দোকানদারেরা চরম হতাশায়। চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে হোটেল কর্মীসহ পর্যটক নির্ভর দিঘা সহ জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের দোকানদারেরা (East Medinipur News)। পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমনি, তাজপুর থেকে পর্যটকরা ঘর মুখো হয়েছে। এক সঙ্গে বহু যাত্রী বাড়ি ফেরার জন্য সমস্যায় পড়ছেন পর্যটকেরা। যাত্রীবাহি বাসে ও ট্রেনে ঠাসা ভীড়ে আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাঁদের। অভিযোগ ওঠে বাসে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়ারও। যে সব পর্যটক সপরিবারে বেড়াতে এসেছিল তারা বাড়ি ফিরতে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে।

    নতুন করে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায়, হোটেল কর্মী থেকে হোটেল ব্যবসায়ীরা আশঙ্কায় দিন গুনছে (East Medinipur News)। অতীতের লকডাউন গুলোর ছবি ভেসে উঠলে হতাশার ছবি স্পষ্ট হয়। লকডাউনগুলোতে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছিল তাঁদের। চরম আর্থিক দুর্দশারও শিকার হতে হয়েছিল তাদের। সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হয়েছিল তাদের। এমনকি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকদিন উপোষ করে কাটাতে হয়েছে (East Medinipur News)। পুনরায় পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় দিঘা , শংকরপুর , মন্দারমনি, তাজপুরে কয়েক হাজার হোটেলের লক্ষাধিক কর্মী কার্যত এদিন থেকে বেকার হল। আবারও চরম দুর্ভোগের শিকার হল হোটেল কর্মীরা। এই লকডাউন কবে খুলবে তা ভেবে হতাশ তারা।

    হোটেল কর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকার এবং হোটেল মালিকগন যদি তাদের প্রতি সদয় না হয় তাহলে কর্মীদের পরিবারকে অনাহারে দিন কাটাতে হবে। বর্তমান লকডাউনের খবর পেয়েই দিশেহারা কর্মীরা। একই সঙ্গে দিঘা সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের পর্যটক নির্ভর দোকানদারগুলিও হতাশয় ভুগছে (East Medinipur News)। দোকানপাট বন্ধ থাকলে সংসার চলবে কিভাবে এই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে তাদের। নিউ দিঘার এক হোটেল কর্মী শংকর বাগ বলেন, "বিগত দুটি লকডাউনের দগদগে ঘা এখনো শুকায়নি। সবে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছিল পর্যটন কেন্দ্র। ধীরে ধীরে সবকিছু পুনরায় স্বাভাবিক হচ্ছিল। কিন্তু আবারও পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে আমাদের মত হোটেলকর্মীদের। গত লকডাউনগুলোতে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে, সংসার চালাতে হিমসিম খেয়েছি। পরিবার সদস্যদের নিয়ে মাঝেমধ্যেই অনাহারে দিন কাটিয়েছি। আজও সেই ছবি ভেসে উঠলে আঁতকে উঠি। আবারও পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বন্ধ হোটেল কিভাবে সংসার চলবে জানি না!"

    প্রসঙ্গত, ওমিক্রণ আতঙ্কে দিঘায় কার্যত মরুভূমির নিস্তব্ধতা। ইংরেজি নতুন বছরকে ঘিরে যে উৎসবের আবহ দেখা গিয়েছিল, তা রাতারাতি বদলে গেল অন্য ছবিতে। রবিবার সকালে দুপুরে বহু পর্যটকের আনাগোনায় মুখরিত দিঘা সমুদ্র সৈকত, সোমবার আতঙ্কে নিস্তব্ধপুরীতে পরিণত হল।

    Saikat Shee

    First published:

    Tags: Corona, Digha, East Medinipur, Tourist Destination

    পরবর্তী খবর