• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • ফিশিং হাব ও ইকো ট্যুরিজম উন্নয়নের ভাবনায়  নয়াচর পরিদর্শনে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব।

ফিশিং হাব ও ইকো ট্যুরিজম উন্নয়নের ভাবনায়  নয়াচর পরিদর্শনে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব।

নয়াচর পরিদর্শনে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব

নয়াচর পরিদর্শনে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব

নয়াচর এর মোট জমির ১২৫০ হেক্টর জমি মৎস্য দফতরের হাতে আসে ১৯৮৮ সালে। মাত্র ৪ হেক্টর জমিতে ট্যুরিস্ট লজ ও কিছু পরিকাঠামো রয়েছে। ২০০৮ সালে মৎস্য দপ্তরে দ্বীপের উত্তর দিকের জমি হস্তান্তর করে। ১৮৭৭ হেক্টর জলা জমিতে ১৩ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী।

  • Share this:

    হলদিয়া: রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব অত্রি ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকেরা বুধবার নয়াচর (Nayachar) পরিদর্শনে আসে। মীনদ্বীপ নয়াচরকে উন্নয়ন যজ্ঞে সামিল করতে আগ্রহী রাজ্য সরকার (State Government)। সম্প্রতি হাওড়া (Howrah) জেলার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Bandopadhyay) নয়াচরে (Nayachar) ইকো ট্যুরিজম ও ফিশিং হাব গড়ে তোলা যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন আধিকারিকদের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতই ২৪ নভেম্বর নয়াচর দ্বীপে আসেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা। সম্প্রতি হলদিয়া (Haldia) পৌরসভা ইকো ট্যুরিজম পরিকাঠামো গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে। সেইমতো নয়াচর কি হলদিয়া (Haldia) পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন জানিয়েছে পৌরসভা। প্রায় ২৫ বর্গ কিমি আয়তন জুড়ে নয়াচর দ্বীপের বিস্তার। বর্তমানে প্রায় কুড়ি হাজার মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। মূলতঃ মাছচাষ করার কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছে। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নদী তিরবর্তী এলাকাবাসী নয়াচরে নিজেদের দখলদারি করে আছে। বহুবছর ধরে মৎসচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে তারা। দ্বীপে নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা, নেই বৈদ্যুতিক আলো, রাস্তাঘাট। নুন্যতম কোন পরিকাঠামো না থাকায় প্রকৃতিক বিপর্যয়ের সময় মানুষ দুরাবস্থায় পড়ে। এবার এই নয়াচরকে উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল করার উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই এদিন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব অত্রি ভট্টাচার্য নেতৃত্বে নয়াচরের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মৎস্য, বন, ভূমি, বিদ্যুৎ ও পর্যটন দপ্তরের আধিকারিকরা। প্রতিটি দপ্তর আলাদা আলাদা করে রিপোর্ট তৈরি করে তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী (CM) নির্দেশ দিয়েছিলেন নয়াচরের সম্পর্কে পরিকল্পনা করতে হবে। সেখানে শিল্পায়নের নয়া সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত মৎস্যচাষ ও পর্যটনের নয়া সম্ভাবনার নানা দিক খতিয়ে দেখেন প্রশাসনিক কর্তারা। এদিন প্রশাসনিক কর্তারা নয়াচরের মাছ চাষের পুকুর সম্পর্কে খোঁজ নেন। অস্থায়ী প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। নয়াচর পরিদর্শন শেষে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বলেন, 'নয়াচর নিয়ে রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ পরিকল্পনা আছে। শুধু ফিশিং হাব বা ইকোট্যুরিজম নয়, সোলার এনার্জি প্রজেক্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। প্রতিটি দপ্তর আধিকারিকরা আলাদা আলাদাভাবেই রিপোর্ট জমা দেবে।' নয়াচরে বর্তমান অধিবাসীদের সমস্যার কথা নিয়ে তিনি জানান, 'এখানকার বসবাসকারী মানুষদের নানান সমস্যা আছে সেই সমস্যার কথা শুনে জেলাশাসক এর মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে, আশা করা যায় তাতে করে এলাকাবাসীর চাহিদা পূরণ হবে।' পূর্ব মেদিনীপুরের নয়াচর একটি দ্বীপ। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী তিন হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করে। যার মোট আয়তন ৪৬৬৩ হেক্টর। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে পৌঁছাতে প্রায় তিন কিলোমিটার জল পথ অতিক্রম করতে হয়। নেই ফেরির ব্যবস্থা। নয়াচরে উন্নয়নের কোন পরিকাঠামো নেই। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে তৈরি হয়েছে একটি স্কুল। নয়াচর এর মোট জমির ১২৫০ হেক্টর জমি মৎস্য দফতরের হাতে আসে ১৯৮৮ সালে। মাত্র ৪ হেক্টর জমিতে ট্যুরিস্ট লজ ও কিছু পরিকাঠামো রয়েছে। ২০০৮ সালে মৎস্য দপ্তরে দ্বীপের উত্তর দিকের জমি হস্তান্তর করে। ১৮৭৭ হেক্টর জলা জমিতে ১৩ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তর আধিকারিকের নয়াচর পরিদর্শনে নয়াচরে শিল্পায়ন নিয়ে আশাবাদী পূর্ব মেদিনীপুর জেলাবাসী।

    First published: