• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • PURBA BARDHAMAN CROP DAMAGE DUE TO HEAVY RAINS IN EAST BURDWAN PB

টানা বৃষ্টিতে জেলায় ঠিক কতটা ক্ষতি হল চাষের ? জানুন মোট ক্ষতির পরিমাণ

মরার উপর খাড়ার ঘা, শস্য ভান্ডারে ব্যাপক ক্ষতি বরুনদেবের অক্লান্ত আশীর্বাদে 

এখনো পর্যন্ত ৭২ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। জল নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হবে

  • Share this:

    #পূর্ব বর্ধমান : লাগাতার বৃষ্টি যার জেরে ফুঁসছিল নদী। ডুবে গিয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের একাধিক এলাকার চাষের জমি। এখনও অনেক এলাকায় রয়েছে প্রায় এক কোমর জল। জমিতে জল জমে আছে কোথাও কোথাও। স্বাভাবিকভাবেই মনে করছেন কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই জেলায়  চাষে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে একটা প্রাথমিক রিপোর্টও  তৈরি করেছে জেলা কৃষি দপ্তর। তবে জল জমি থেকে নেমে যাওয়ার পরই বোঝা যাবে, ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান আধিকারিকরা। এখনও পর্যন্ত মোট ক্ষতির পরিমাণ :

     খড়ি নদী, কুনুর নদী, ও দামোদরের পাড় সংলগ্ন এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৪০টি পঞ্চায়েত এলাকায় ১,০৮৩টি মৌজায় চাষের ক্ষতি হয়েছে। ৬৭,৮০২ হেক্টর ক্ষতি হয়েছে আমন চাষে। কাটোয়া দু নং ব্লকের প্রায় ২৫০ হেক্টর করে পাট ও সবজির জমি নষ্ট হয়েছে। উল্লেখ্য, কালনা, কাটোয়া, মন্তেশ্বর, মঙ্গলকোট, রায়না, খণ্ডঘোষ এই সমস্ত এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। কী কী ফসলের ক্ষতি হল: বেশি পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে ধান চাষের। শেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩ টি ব্লকের ৭২ হেক্টর ধান চাষের জমিতে ক্ষতি হয়েছে। প্রায় হাজার হেক্টর সবজি চাষের জমির ক্ষতি হয়েছে। তেমনটাই জানান জেলার উপ কৃষি আধিকারিক জগন্নাথ চট্টপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি বলেন, যেসব ধানের চারা একেবারে জলের নিচে চলে গেছে সেগুলো বাঁচানো হয়তো আর সম্ভব নয়। তবে ধানের ক্ষেত্রে যদি ধানের গাছ সামান্য জল থেকে উপরে থাকে তবে সেই ধানের চারা গাছ বাঁচানো সম্ভব। অন্যদিকে তিনি বলেন, ধানের থেকে সবজি ক্ষতি অনেকটাই কম। কারণ যেসব সবজি বীজতলা সেগুলির উপর ছাওনী থাকে ফলে ওই ফসল গুলোর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। তবে যেসব সবজি লাগানো হয়েছে সেই সবজিগুলোই ক্ষতি হয়েছে।

    বর্তমানে কত পরিমাণ জমি জলের তলায়: আউশগ্রাম, ভাতার, পূর্বস্থলী, মঙ্গলকোট, রায়না, খণ্ডঘোষ, গলসী। এই সমস্ত গ্রামের অধিকাংশ জমি এখনও জলের তলায়। অর্থাৎ দামোদরের পাড় লাগোয়া গ্রামগুলিতে অনেক বেশি পরিমাণে জল ঢুকেছে। ফলে নদীর আশপাশের এলাকাগুলি থেকে এখনও পুরোপুরি ভাবে জল নামেনি। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি চলছে লাগাতার ফলে জল কমার কোনও নামই নেই। জেলার মোট কৃষি জমি: উপ কৃষি আধিকারিক জগন্নাথ চট্টপাধ্যায় জানান, জেলায় ৩ লাখ ৮০০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। প্রায় ২০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয় প্রতিবছর। এই মধ্যেই এবছর ২ লাখ ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোয়ার কাজ  হয়ে গিয়েছিল। সাধারণত ১৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ধান রোয়ার কাজ শেষ হয়ে যায়। সেই কাজ  প্রায় শেষের মুখেই ছিল।তবে এখন প্রায় সব ধানের জমিতেই  ক্ষতি হয়ে গেছে।

    এছাড়াও জেলায় উঁচু এলাকাগুলিতে সবজি ভালো হয়। তার পরিমাণ কিছু কম নয়। ঝিঙে, পটল, লঙ্কা, পাট ইত্যাদি ফলানো হয় এই জেলার মাটিতে। তবে এই জল জমে থাকা পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। এমনিতে পাট চাষের জন্য জল পাওয়া যায় না। তবে এই জল অনেকটাই কাজে লেগেছে পাট চাষীদের। বর্ধমান উপ কৃষি আধিকারিক জগন্নাথ চট্টপাধ্যায় বলেন,৬৬ মিলিমিটার থেকে ১৫৪ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে ডিভিসির জল এলাকায় ঢুকে ক্ষতি করেছে সাধারণ মানুষের। তবে আশা করা হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি জমা জল নেমে যাবে। জল নেমে গেলে আরও ভালো করে  বোঝা যাবে ক্ষতির পরিমাণ।  চাষীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। সব মিলিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ে রাতের ঘুম উড়েছে চাষীদের। টাকা ও সময় ব্যয় রোয়া হয়েছিলেন ধান তবে এখন সেসবই জলের নিচে। ক্ষতিপূরণ পেলেও ফসল ফলার আশায় যে চারা গাছ লাগিয়ে ছিলেন জমিতে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যথেষ্টই মন খারাপ পূর্ব বর্ধমানের চাষীদের।

    Malobika Biswas

    Published by:Piya Banerjee
    First published: