• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • NORTH 24 PARGANAS SIRAJUL DID NOT GET HSI JOB BACK EVEN AFTER 25 YEARS OF TMC MARTYRS DAY AC

২১ জুলাই আসে যায় তবু চাকরি ফেরত পায় না সিরাজুল

২১ জুলাই আসে যায় তবু চাকরি ফেরত পায় না সিরাজুল

২৫ বছর আগে আজকের দিনেই চাকরি খুইয়ে এখন অভাবের সাথে নিত্য লড়াই সিরাজুলের।

  • Share this:

    ঞরাতুল ব্যানার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা : নাম সিরাজুল মন্ডল। ১৯৯৬ সালের সেই কালো দিন, ২১ জুলাই। তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী তথা আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুলির হাত থেকে বাঁচাতে নিজের হাতে বন্দুক তাক করেছিলেন তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের দিকে। মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বাঁচিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু খেসারত দিতে হয়েছে তাকে। ২৫ বছর আগে আজকের দিনেই চাকরি খুইয়ে এখন অভাবের সাথে নিত্য লড়াই সিরাজুলের।

    গত ২৫ বছর ধরে এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সেদিনের যুবক সিরাজুল মন্ডল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবরডাঙ্গা ইছাপুর ভদ্রডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল। চাকরিতে যোগদান ১৯৮৮ সালের ১৯ জানুয়ারি মাসে। চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে এখনো বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি। নিজের আর সংসার করা হয়নি। বাড়িতে ৮০ বছরের বৃদ্ধ বাবা ইসরাইল মন্ডল। বাবার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। ৭০ বছরের বৃদ্ধা মা রুব্বান মন্ডল শয্যাশায়ী বিছানায়। বিভিন্ন সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত এই পরিবার। দিনমজুরি করে দিন কাটাচ্ছে সিরাজুল। আপাতত যখন যে কাজ পান তাই করেই তিনি দিনযাপন করছেন। সিরাজুল জানালেন আজ থেকে ২৮ বছর আগে ২১ জুলাই ১৯৯৩ সালের ঘটনা সেদিন পুলিশকর্মী সিরাজুলের ডিউটি ছিল রাইটার্স বিল্ডিং-এ। তৎকালীন যুব কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণ অভিযানের ডাক দেন। ব্রাবন রোড দিয়ে যাবার সময় তাদের পথ আটকায় পুলিশ। শুরু হয় বচসা। পুলিশের লাঠিচার্জে মাথা ফেটে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনারের দিকে নিজের বন্দুক তাক করে ছিলেন সিরাজুল। আর সেটাই ছিল তার অপরাধ। ২৫ বছর আগে চাকরি হারিয়ে এখন অভাব তার নিত্যসঙ্গী। রাজ্যে পালাবদলের পর মিলেছিল সাহায্যের প্রতিশ্রুতি কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি\'।

    স্বাভাবিক ভাবেই একুশের মঞ্চে ব্রাত‍্য সিরাজুল হারানো চাকরি ফিরে পেতে মমতার বাড়ি থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে ঘুরে বেরিয়েছেন কিন্তু মেলেনি আর চাকরি। এমনকি ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতেও তিনি গিয়েছিলেন কিন্তু ফিরে পাননি তার চাকরি। সিরাজুল ইসলাম হাইকোর্টে মামলা করেও টাকার অভাবে বেশিদিন তা চালাতে পারেননি। এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল তিনি। একসময় সামলেছেন বুথ সভাপতির দায়িত্ব। প্রয়াত তৃণমূল সাংসদ কপিল কৃষ্ণ ঠাকুরের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বক্তব্য,\'সেদিন যারা শহীদ হয়েছিল তাদের পরিবারকে চাকরি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি নতুন করে চাকরি চাই না। আমার হারানো চাকরি ফেরত পেতে চাইছি\'। আজও চাকরি ফেরত পাওয়ার আশায় দিন গুনছে সিরাজুল। প্রতিবারই ২১ জুলাই আসে ২১ জুলাই যায়, তবু চাকরি ফেরত পায় না সিরাজুল। এই আক্ষেপকে সঙ্গে নিয়েই বাঁশের বেড়া দেওয়া টিনের ছাউনিতে ভাঙ্গা ঘরে দিন কাটছে সিরাজুলের।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: