Home /News /local-18 /
ক্যান্সারে মারা যান স্বামী! জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে বছর চল্লিশের মহিলা এখন টোটো চালক

ক্যান্সারে মারা যান স্বামী! জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে বছর চল্লিশের মহিলা এখন টোটো চালক

ক্যান্সারে আক্রান্ত স্বামীকে হারালেও জীবনযুদ্ধে এখনও লড়াইয়ের ময়দানে বছর চল্লিশের মহিলা টোটো চালক

ক্যান্সারে আক্রান্ত স্বামীকে হারালেও জীবনযুদ্ধে এখনও লড়াইয়ের ময়দানে বছর চল্লিশের মহিলা টোটো চালক

সকাল ছটা থেকে সন্ধ্যা অবধি ঝড় জল প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন এইভাবে টোটো চালান তিনি।

  • Share this:

    #নদিয়া: নুন আনতে পান্তা ফুরোয় এইরকম পরিস্থিতি। পরিবারে চরম অর্থনৈতিক সংকট। দুরারোগ্য ক্যান্সার ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই। বাস্তব জীবন যুদ্ধে নিজের পায়ে ঘুরে দাঁড়াতে পথ দেখিয়েছেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাসের বাসিন্দা কুমকুম বিশ্বাস নিজেকেই। এলাকায় সবার কাছে কুমকুম দিদি নামে পরিচিত তিনি। ছেলেমেয়েদের সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে হবে, কিংবা অসুস্থ পরিজনকে নিয়ে যেতে হবে চিকিৎসকের কাছে, ডাক পড়ে কুমকুম দিদির। নিজের টোটোতে করে কখনো ছাত্র-ছাত্রীদের ঠিক সময়ের মধ্যে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, আবার কখনো অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে দিতে সব সময় তৎপর শিবনিবাসের মহিলা টোটোচালক কুমকুম বিশ্বাস।

    প্রতিদিন টোটো চালিয়ে কমবেশি পাঁচশো টাকা রোজগার করেন কুমকুম দেবী। তাঁর কথায়, নিজে খেটে খাই, কারোর কাছে হাত পাততে যেন না হয় আমাকে। সকাল ছটা থেকে সন্ধ্যা অবধি ঝড় জল প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন এইভাবে টোটো চালান তিনি। স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক দিক থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও শুধু সৎভাবে বেঁচে থাকার তাগিদে নিজের লক্ষ্যে অনড় রয়েছেন সাহসী এই নারী। প্রসঙ্গত, আনুমানিক বাইশ বছর আগে কুমকুম বিশ্বাসের বিবাহ হয়। সংসারে অভাব থাকলেও কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। কিন্তু ভরা সংসারে ভালো থাকার মাঝখানে বাদ সাধলো কুমকুমের স্বামী অমল বিশ্বাসের দূরারোগ্য ক্যান্সারব্যাধি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর একসময় মৃত্যুর কাছে হার মানলেন অমল বাবু।

    পরিবারের একমাত্র রোজগেরে অমল বিশ্বাসের মৃত্যুর পর দুই মেয়েকে নিয়ে কার্যত মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে কুমকুমের। ইতিমধ্যে স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে স্থাবর-অস্থাবর বিক্রি করে ভেলোরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে আর্থিকভাবে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ ও দু'বেলা দু'মুঠো অন্নের যোগান দিতে শুরু করেন পরিচারিকার কাজ। স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান পিংকি বিশ্বাসের হস্তক্ষেপে ইন্দিরা আবাস যোজনার মাধ্যমে তাঁকে ঘর পাইয়ে দেওয়া হয় পঞ্চায়েত থেকে। ফলে স্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ব্যবস্থাটা হয় কুমকুম দেবীর। আর্থিক অনটনকে কাটিয়ে দুই মেয়েকে লেখাপড়া শেখানোর পর পাত্রস্থ করেন কুমকুম দেবী। পাশাপাশি ব্যাংক ও স্থানীয় মহিলা সমিতি থেকে লোন নিয়ে টোটো কেনার টাকাও ইতিমধ্যেই শোধ করে দিয়েছেন তিনি। দৈনন্দিন জীবনে এই ভাবেই সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে চল্লিশ,পঞ্চাশ কিলোমিটার টোটো চালিয়ে নিজের জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন কুমকুম দেবী।

    Mainak Debnath

    Published by:Piya Banerjee
    First published:

    Tags: Driver, Krishnaganj, Nadia, Toto

    পরবর্তী খবর