• হোম
  • »
  • খবর
  • »
  • local-18
  • »
  • MAMATA BANERJEE ADVICES TO PLANT MANGROVES TREES AND VETIVER GRASS AS LONG TERM SOLUTION TO FLOODING AC

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে দিঘায় ফিরছে সবুজায়ন

বন দপ্তর থেকে দিঘা সমুদ্র বাঁধ রক্ষায় লাগানো হবে ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ ও ভেটিভার ঘাস

বন দপ্তর থেকে দিঘা সমুদ্র বাঁধ রক্ষায় লাগানো হবে ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ ও ভেটিভার ঘাস

  • Share this:

    দিঘা: ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এসে শিক্ষা দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে। পূর্ণিমার ভরা কোটাল ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জোড়া হানায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে জেলার উপকূলবর্তী এলাকা। দিঘা-সহ উপকূলের সমুদ্র বাঁধ একাধিক জায়গা ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় তীব্র জলোচ্ছ্বাসে।

    ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর প্রশাসনিক বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘায় ম্যানগ্রোভ ও ভেটিভার ঘাস লাগানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন দিঘায় সবুজায়ন ফিরিয়ে আনতে ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ ও ভেটিভার ঘাস লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বন দপ্তর থেকে দিঘা সমুদ্র বাঁধ রক্ষায় লাগানো হবে ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ ও ভেটিভার ঘাস।

    সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সমুদ্র বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়ে উপকূলবর্তী গ্রামীণ এলাকায়। বেশ কয়েক বছর ধরে রাজ্য সরকারের সেচদপ্তর দিঘা মোহনার পূর্ব উপকূলে মুকুন্দপুর থেকে মৈত্রাপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সমুদ্র বাঁধে বল্লা পাইলিংয়ের কাজ করছিল। প্রথমে শুধু মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি হচ্ছিল। পরে প্রসাশনের উদ্যোগে মাটির ওপর সিন্থেটিক চাদর ও জিও-জুট বিছিয়ে বল্লা পাইলিংয় করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

    সম্প্রতি ইয়াস ও ভরা কোটালের জলোচ্ছ্বাসে একাধিক জায়গায় ভেঙে যায় বাঁধ। জলে ভেসে যায় জনবসতি এলাকা। প্রায় চারকোটি টাকা ব্যয় করে নির্মিত হয়েছিল এই বাঁধ। কিন্তু ইয়াসের মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ। রাজ্য সরকারের চার কোটি টাকা ভেসে গেছে বঙ্গোপসাগরে।

    দিঘা সমুদ্র উপকূলের গঙ্গা মন্দির থেকে তামিলি মাঠ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সমুদ্রের বাঁধে কোনরকম ক্ষতি হয়নি। ওই এলাকায় প্রচুর ম্যানগ্রোভ জঙ্গল ও গাছপালা থাকায় ইয়াস ও মরা কোটাল এর জোড়া হানায় সমুদ্র বাঁধ ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বলা চলে ঐ এলাকার সমুদ্র বাঁধ রক্ষায় ম্যানগ্রোভের জঙ্গল ঢাল হিসাবে কাজ করেছে।

    এখন থেকেই শিক্ষা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তাই দিঘা-সহ জেলার বিভিন্ন সমুদ্র উপকূলে ভাঙ্গন প্রবন এলাকায় ম্যানগ্রোভের বলয় তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা বনদপ্তর। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে দ্রুত ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ হয়েছে। ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে এই ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ ও ভেটিভার গাছ লাগানো হবে।

    পরিবেশবিদ ও সমুদ্র বিজ্ঞানীরা বারবার দিঘায় সবুজায়ন ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। পরিবেশবিদরা বলেছিলেন দীঘার কংক্রিটের জঙ্গল দিন দিন বাড়ার ফলে দীঘা উপকূলবর্তী বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব পড়েছিল। এককালে দীঘায় সারি সারি ঝাউগাছের বন কেটে কংক্রিট দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল দীঘা উপকূলবর্তী এলাকা। যা ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও ভরা কোটালের তাণ্ডবে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দীঘায় সবুজায়ন ফিরবে তাতে খুশি পরিবেশবিদরা। তারা বলেছেন উপকূলবর্তী এলাকায় গাছপালা ও ম্যানগ্রোভ জঙ্গল থাকলে জলের ধাক্কায় ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ করা যাবে। সহজেই ভাঙবে না সমুদ্রবাঁধ।

    পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বন আধিকারিক। অনুপম খান বলেন, 'ইয়াসের বিপর্যয়ের পর এই ম্যানগ্রোভ লাগানোর ব্যাপারে রাজ্যস্তরে আলোচনা হয়েছে বনদপ্তর এর জায়গা ছাড়াও সমুদ্র উপকূলে ম্যানগ্রোভ চারা লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীঘা উপকূলের ওই অংশে কি ধরনের ম্যানগ্রোভ চারা উপযোগী তা সমীক্ষা করে খুব তাড়াতাড়ি লাগানো হবে।'

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: