Home /News /local-18 /
Bangla news: খুলছে স্কুল ! শিলিগুড়িতে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা

Bangla news: খুলছে স্কুল ! শিলিগুড়িতে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা

ফের কলরবে ভরে উঠবে এমনই সব শূণ্য ময়দান

ফের কলরবে ভরে উঠবে এমনই সব শূণ্য ময়দান

Bangla news: শিক্ষকশিক্ষিকাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে স্কুলছুটদের স্কুলমুখী করার চ্যালেঞ্জের কথা। 

  • Share this:

    #শিলিগুড়ি: করোনার আশীর্বাদ এবং অভিশাপ নিয়ে যদি রচনা লেখা যায়, তাহলে হয়ত সবথেকে ভালো লিখবে পড়ুয়ারা। কারণ করোনা ওদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলে যেতে হচ্ছে না। নেই হোমওয়ার্ক (Home Work)-এর চাপ।

    তাই মোবাইলে (Mobile phone) এ গেম (game) খেলার জন্য অফুরাণ সময় পেয়েছিল বাচ্চারা। টিভি (Tv) দেখাতেও ছিল না কোনও বাধা। কিন্তু সেই রাশ কতটা গুরুতর, তা নিয়ে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিশেষজ্ঞের একাংশ। মনোবিদরা বলেছিলেন, স্কুল খুলে দেওয়া একান্তই প্রয়োজন।

    এতে এক বিরূপ মানসিক বিকৃতি তৈরি হতে পারে বাচ্চাদের মনে। মানসিকভাবে তাদের চিন্তনশৈলী কোথাও যেন লোপ পাচ্ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ থাকায়। এমনি উদ্বেগ বহুবার, বহু মাধ্যম থেকে বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ করেছিলেন।

    অবশেষে সেই সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী। ফের বাজবে স্কুলের ঘন্টা! ভরবে বেঞ্চ! শহরের অলিগলিতে স্কুল ইউনিফর্ম (uniform) পড়া ছেলেমেয়েদের হাসিমুখ যেন কোথাও একটা হারিয়ে গিয়েছিল। তবে ফিরতে চলেছে সেই আনন্দ, সেই হুল্লোড়, সেই দিনগুলি। অবশেষে খুলছে স্কুল-কলেজ। ২০ মাস পর খুলতে চলেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি।

    পাঁচ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে এসে মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় একটি বৈঠক করে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গের সচিবালয় উত্তরকন্যায় এদিন আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার প্রশাসনিক বৈঠক চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

    স্কুল খুলতে প্রস্তুত হওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীকে যথাযথ নির্দেশও দেন। ওই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় বেশকিছু স্কুলে পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যাগুলো মেটানোর জন্য সময় দিতে হবে।

    রাজ্যের সমস্ত স্কুল ১৬ নম্ভেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শুধুমাত্র নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত খুলতে চলেছে স্কুল। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তেমন নির্দেশ এসে পৌঁছায়নি বলেই জানা গিয়েছে। তবে, মুখ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে কিন্তু একেবারে সাজো সাজো রব জেলার প্রত্যেকটি স্কুলে। আনন্দ-উৎসবের পরিবেশেও ছোট-বড় সমস্ত স্কুলের কাছেই এটা একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলছুটদের স্কুলের ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলি।

    নিউজ ১৮ লোকালের (News 18 Local) প্রতিনিধি শহরের প্রত্যেকটি স্কুলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। শিক্ষকশিক্ষিকাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে স্কুলছুটদের স্কুলমুখী করার চ্যালেঞ্জের কথা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষিকা, টিচার ইনচার্জরা (Teacher Incharge) কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন, তা নিয়েও বৈঠক শুরু হয়ে গিয়েছে।

    নিউজ ১৮ লোকালের (News 18 Local) কাছে শিলিগুড়ি শহরের দেশবন্ধুপাড়াস্থিত তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের টিচার ইনচার্জ (Teacher Incharge) অভিরঞ্জন ভাদুড়ি চ্যালঞ্জের (challenge) কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, 'হ্যাঁ। এই বিষয়টা অবশ্যই একটা যুদ্ধের মত আমাদের কাছে। কারণ বাচ্চারা প্রায় ২০ মাসের মত সময় ধরে ঘরবন্দী ছিল।

    শুধুমাত্র মোবাইল (Mobile), টিভি (Tv), ট্যাব (tab) এবং ল্যাপটপ (laptop) এর সাহায্যে চলছিল পড়াশোনা। যন্ত্রের (Electronic Device) উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল সবাই। সেখানে আবার তাদের হাতে বই, খাতা, কলম ফেরানো সত্যিই একটা চ্যালেঞ্জ (Challenge) আমাদের জন্য।'

    শহরের সুভাষপল্লীস্থিত নেতাজী উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের (Netaji Girl's High school) প্রধান শিক্ষিকা রুম্পা সাহা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'ছাত্রীদের স্কুলমুখী করার চাইতেও সবাইকে একইভাবে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। আমার স্কুলে অনেক এমন ছাত্রী আছে যারা গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসে। তাদের অনেকের কাছেই মোবাইল ফোন (Mobile phone) অথবা অনলাইন (online) শিক্ষা বিলাসিতার বিষয়।

    অনেকের কাছেই আধুনিক যন্ত্র (electronic device) নেই। ফলে একশ্রেণীর ছাত্রীরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে, আরেক শ্রেণীর ছাত্রীরা পাচ্ছে না। এর থেকে বড় দুঃখের বিষয় হয়ত আর কিছু হতে পারে না।'

    তিনি গলায় বেদনার সুর নিয়ে বলেন, 'আমি হয়ত অনেক ছাত্রীকেই আর দেখতে পাব না। কারণ অনেকে দরিদ্র ঘরের মেয়েদের কোভিডকালীন সময়ে বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাই আমি আমার অনেক ছাত্রীদেরই এবার স্কুল খুললে দেখতে পাব না। তবে সাধারণভাবে আগের মত ক্লাস শুরু হলে সবাই সমান শিক্ষা বা সমান পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে। এটাই যা আনন্দের বিষয়।'

    আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয় (Siliguri Girls High School) এর প্রধান শিক্ষিকা অত্যূহা বাগচী। তিনি নিউজ ১৮ লোকালকে বলেন, 'এই যন্ত্রগুলির (electronic device) যেমন সুব্যবহার আছে, তেমনি এসবের অপব্যবহারও করা যায়। এই বিষয়টি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

    একজন প্রধান শিক্ষিকা হয়ে আমি এসব বিষয়ে যতটা না সড়গড়, ততটাই এক্সপার্ট (expert) এই নতুন প্রজন্ম। আমি আমার ফোন নিয়ে কোনও সমস্যায় পড়লে তড়িঘড়ি ছুটে যাই আমার ছেলেমেয়েদের কাছে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হল, তারা কিন্তু কখনও আসে না আমাদের কাছে। আর এটা আমাদের মানতেই হবে, আমরা প্রত্যেকেই কিন্তু সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। ফলে সমস্যা হতেই পারে।'

    তিনি আরও বলেন, 'সম্প্রতি এক ঘটনায় এক ছাত্রী নিজের মোবাইল ফোনটির অপব্যবহার করছিল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে পড়ে যে আমায় পরিচালন সমিতির সঙ্গে বৈঠকে বসতে হয়। সেখান থেকে আমায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি আমার প্রত্যেক ছাত্রীর অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করি।

    শিক্ষার বিকাশ হওয়া ভীষণ জরুরী তবে এর সঙ্গে সচেতন হওয়াটাও খুব জরুরী। আধুনিকীকরণ এবং ডিজিটাল (digital) হওয়া অবশ্যই ভীষণ ভীষণ জরুরী এটা বারবার বলা হচ্ছে, তবে তার থেকেও বেশি দরকারি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার।' এবিষয়ে শিলিগুড়ির সনামধন্য জ্যোৎস্নাময়ী উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শুক্লা দাস নিউজ ১৮ লোকালকে বলেন, 'অনলাইন (online) ক্লাস কখনই যথাযথ নয়। শিক্ষকশিক্ষিকাদের উপস্থিতিতে পড়াশোনা করা ভীষণ জরুরী। তাই তো অনলাইন (online) এবং ক্লাসরুম টিচিং (classroom teaching) এর মধ্যে বিস্তর ফারাক।'

    স্কুল খোলার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমরা ভীষণ খুশি স্কুল খোলার খবরে। তবে আমাদের হাতে এখনও কোনও লিখিত নির্দেশিকা আসেনি। আমরা প্রস্তুত। অর্থের সংকটে অনেক কাজ হয়নি, এতে অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে আমরা অল্পবিস্তর কাজ চালু রেখেছিলাম। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষা হয়েছিল আমাদের স্কুলে। সেগুলোর জন্য ক্লাসরুমগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল। ল্যাবেও কিছু মেরামত করতে হলে আমরা করে নেব। তবে আমরা ভীষণ খুশি এই সিদ্ধান্তে।'

    খুশি অভিভাবকরাও। দশম শ্রেণীর ছাত্র সোমসিন্ধু সেনের মা মিতালি সেন বলেন, 'সারাদিন মাথা নিচু করে ফোন না ঘেটে এবার স্কুলে যাবে। ফিরবে আবার পুরোনো দিন। ভেবেই খুব আনন্দ হচ্ছে। তবে ভ্যাকসিন হয়নি বলে চিন্তা তো রয়েছেই। স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্য আমাদের আশ্বস্ত করেছেন নিরাপত্তার বিষয়ে। তাই আমরা ছেলেকে অবশ্যই স্কুলে পাঠাব যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করে।'

    Vaskar Chakraborty

    Published by:Piya Banerjee
    First published:

    Tags: Bangla News, Bengali News, Siliguri News

    পরবর্তী খবর