Home /News /local-18 /
Siliguri Crime: শিলিগুড়িতে একের পর এক অপরাধ! অন্ধকারে ঝুঁকছে যুবসমাজ

Siliguri Crime: শিলিগুড়িতে একের পর এক অপরাধ! অন্ধকারে ঝুঁকছে যুবসমাজ

চার মাদক পাচারকারী

চার মাদক পাচারকারী

চার মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ।

  • Share this:

    #শিলিগুড়ি: কোথাও নিষিদ্ধ ওষুধ উদ্ধার, কোথাও আবার উদ্ধার মাদক। পাচার করার উদ্দেশ্য নিয়ে কোটি কোটি টাকার নেশার সামগ্রী এদিক ওদিক করছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই যুবক। পুলিশের ক্রমাগত অভিযান ও তৎপরতা তাদের এই পাচার কাজ সামনে আনছে।

    শিলিগুড়িতে এবার উদ্ধার হল সাত কোটি টাকার ব্রাউন সুগার (brown sugar)। এই মর্মে চার মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ (Siliguri Crime)। জানা গিয়েছে এদিন দুপুরে শিলিগুড়ি ইস্টার্ন বাইপাসের কানকাটা মোড় এলাকা থেকে মাদক উদ্ধার করে ভক্তিনগর থানার অধীন আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ।

    শিলিগুড়িতে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ (Siliguri Crime)। আর এই অভিযানেই সাফল্য মেলে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ ও শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল অপারেশনাল গ্রুপ (special operational group) যৌথ অভিযান চালায় ইস্টার্ন বাইপাসের কানকাটা মোড় এলাকায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে। এরপর চলে তল্লাশি। ধৃতদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় সাড়ে ৩ কেজি ব্রাউন সুগার। উদ্ধার হওয়া ব্রাউন সুগারের বর্তমান বাজার দর আনুমানিক ৭ কোটি টাকা (Siliguri Crime)। এদিন মাদক উদ্ধারের পর, ধৃত চার মাদক পাচারকারী নদীয়া জেলার বাসিন্দা কমল শেখ, দক্ষিন ২৪ পরগনার মনিরুল ইসলাম, সামসুল আলম এবং মাটিগাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ মেহেরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এটাই সবচেয়ে বেশি পরিমান মাদক উদ্ধার।

    ক্রমশ বেড়ে চলা অপরাধ যেন যুব সমাজকে ঠেলে দিয়েছে সমাজের অন্ধকার নরকে। এই বিষয়ে মানসিকগত অসুস্থতা নাকি অন্য কোনও কারণ? এই নিয়ে কথা বললেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান শুভ্রজ্যোতি কুণ্ডু। তিনি নিউজ ১৮ লোকালকে বলেন, "পুরোটাই একটা সাইকোলজিকাল বিষয় (physiological)। লকডাউনের সময় এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারণ মানুষ বাড়িতে বসে রয়েছে, অনেকে কাজ হারিয়েছে। যারা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত, তারা এটাকেই নিজের পেশা হিসেবে দেখছেন। কারণ তাদের কাছে আর কোনও উপায় নেই, এবং এই সুযোগও রয়েছে। তবে বয়সের হিসেবে একেকজনের উদ্দেশ্য একেকরকম হতে পারে। যারা মূলত কমবয়সী, তারা সারাদিন বাড়িতে বসে, কোনও কাজ নেই, বাইরে যেতে পারছে না, তারা এরকম কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে"।

    তিনি আরও বলেন, "যারা মধ্যবয়স্ক বা যাদের সংসার চালানোর বিষয় রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেরই আয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেক্ষত্রে সংসার চালাতে এই কাজ বেছে নিয়েছেন অনেক মানুষ"। শুভ্রজ্যোতিবাবু বলেন, "আমার মনে হয় প্রত্যেকটা স্কুল, কলেজে একটি করে কাউন্সিলিং সেন্টার রাখা উচিত। যাতে কমবয়সীদের মানসিক দিক বোঝা যায়। এছাড়াও তাদের মনের কথাও শোনা যাবে"।' এনিয়ে শিলিগুড়ির লিভ লাইফ হ্যাপিলির (live life happily- NGO)- কর্ণধার তথা আইআইটি গবেষক অনির্বাণ নন্দী নিউজ ১৮ লোকালকে বলেন, "যাদের এটা অভ্যাস, তারা করবেই। তবে, আমার মনে হয় সামাজিক বিভিন্ন স্তরে মানুষের প্রয়োজন পড়ে খুব দ্রুত টাকা আয় করার। অপেক্ষা কারও ভালো লাগে না। ইমিডিয়েট প্রফিটের (immediate profit) লোভে এই ধরনের কাজ করে অনেকেই। লকডাউন গরীব মানুষের মাথায় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সেক্ষেত্রে তারা দ্রুত টাকা আয় করার কথা ভাবেন। মাদক আসক্তি এবং বিভিন্ন নেশা মানুষকে এই কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দেয়। ধীরে ধীরে এই অপরাধগুলো বাড়ছে কারণ প্রচুর মানুষ যুক্ত হয়ে পড়েছে। সেই বৃত্ত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এর জন্য প্রথম দরকার শিক্ষার আলো। শিক্ষা সব জায়গায় পৌঁছানো উচিত, তবেই অপরাধের অন্ধকারে রাশ টানা যাবে।"(Siliguri Crime)

    এই দিকে এই ঘটনায় পুলিশের অনুমান, শিলিগুড়িতে বিক্রির উদ্দেশ্যেই পাচারকারীরা মাদক এনেছিল শিলিগুড়িতে। তবে পাচারকারীরা কোথা থেকে এই মাদক এনে কোথায় বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে তোলা হয়েছে ধৃতদের।

    Vaskar Chakraborty

    First published:

    Tags: Jalpaiguri, Siliguri, Youth Arrested

    পরবর্তী খবর